‘কাফেরদের চেয়ে মোনাফেক খারাপ’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৫৫:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮

‘কালো কোর্ট (মুজিব কোর্ট) পরে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো মোনাফেকি’ বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যের সমন্বয়ক সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, কালো কোর্ট পরে যারা দুর্নীতি করে আবার বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাও জানায় তারা মোনাফেক। পবিত্র কুরআনে আছে কাফেরদের চাইতেও মোনাফেক খারাপ।

তিনি বলেন, সা¤প্রতিক নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের আন্দোলনে পুলিশের পাশে সাদা পোশাকধারী লাঠিয়াল কারা, জনগণকে লাঠিপেটা করেছে তারা কারা? শিশুদের লাঠিপেটা করবেন আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলবেন? এ কাজগুলো সংবিধান পরিপন্থী। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের কানফারেন্স লাউঞ্জে বরেণ্য সাংবাদিক আতাউস সামাদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন। সংসদে সদ্য পাস হওয়া ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদে পাস করানো আইন চাইলে ফেলও করানো যায়। যদি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অবিলম্বে প্রত্যাহার না করা হয় তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে তা বাতিলে বাধ্য করা হবে।

সিনিয়র সাংবাদিক শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক জাহিদুজ্জামান ফারুক, সৈয়দ আবদাল আহম্মেদ, রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস খান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, পারভীন সুলতানা ঝুমা প্রমূখ।

ড. কামাল হোসেন বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকবে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য জাতীয় ঐক্য জরুরি। এটা কোনও দলের ঐক্য নয়। এটা দেশের আপমার জনগণের ঐক্য। রাস্তায় না নামলে সমস্যার সমাধান হবে না। রাস্তায় না নামলে সরকার মনে করে কিছু হবে না।

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জারুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা না থাকলে দেশে গণতন্ত্র থাকে না। বর্তমানে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ একটি অসভ্য আইন। এর চাইতে খারাপ কোনও আইন আর হতে পারে না। বাংলাদেশকে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র করতে হলে গণমাধ্যমকে স্বাধীনতা দিতে হবে। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ মানে ফ্যাসিজম। এটাই এখন বাংলাদেশ চলছে।