১৭ চিকিৎসকের মধ্যে অনুপস্থিত ৮, ধুকে ধুকে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৫৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯ | আপডেট: ১:৫৪:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯

আলহাজ হোসেন, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা হাসপাতালে উন্নতি করা হয়। কিন্তু ৫০ শয্যা হাসপাতালের জনবল কম রয়েছে । এর মধ্যে যে সব ডাক্তার রয়েছেন তারাও ঠিকমত আসেন না। এতে উপজেলার সাধারন জনগন সেবাবঞ্চিত হচ্ছে। হাজার হাজার রোগীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর এ হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নতি করা হয়। অথচ এজন্য বাড়তি কোনো জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু ৩১ শয্যা হাসপাতালে ২১ চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও চিকিৎসক আছেন ১৭, তিনটি পদই শূন্য। ওই ১৭ চিকিৎসকের মধ্যে নানা অজুহাতে আটজনই দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। ওই আটজনের মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. সঞ্চিতা ভৌমিক, এমও (ইউনানি) ডা. ইসরাত জাহান, সহকারী সার্জন ডা. রাগিব আহসান ও সহকারী সার্জন ডা. শরিফুন নাহার এ চারজন প্রেষণে (ডেপুটেশন) আছেন।

জুনিয়র কনসালটেন্ট অ্যানেসথেসিয়া (অজ্ঞান) ডা. এমএম আবদুল ওয়াদুদ বহিঃবাংলাদেশের ছুটি নিয়ে ওমানে গেছেন, আর ফেরেননি। মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল খায়ের, মেডিকেল অফিসার ডা. সালাউদ্দিন ভুইয়া ও মেডিকেল অফিসার ড. ফারিয়া তিলাত তিমা এ তিনজন অননুমোদনভাবে অনুপস্থিত রয়েছেন। বর্তমানে মাত্র ১০ চিকিৎসক দিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে এ হাসপাতালের কার্যক্রম। এদের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোগী দেখেন না। বাকিদের ৯ জনের মধ্যে একজন হারবাল, ডে অফ, ছুটি, ট্রেনিং, রাতে ও দুপুরের ডিউটি থাকেন, সব মিলিয়ে রোগী দেখেন দুই চিকিৎসক। ওই দুজন চিকিৎসকের পক্ষে এতে বেশী রোগী দেখা সম্ভব হয় না। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ চিকিৎসক তা মানছেন না।

ইচ্ছামতো তারা তাদের কর্মস্থলে যাতায়াত করছেন। কোনো কোনো ডাক্তার ঢাকা থাকেন, তারা সময়মতো আসেন না। আবার উপজেলা হাসপাতালে কয়েকজন ডাক্টার আছেন তারা স্থানীয় কারখানায়ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চেম্বার থাকেন।

আনিল চন্দ্র সাহা নামে এক রোগি জানান, দুপরে হাসপাতালে ঔষধ নিতে আসলে ওই হাসপাতালে ফার্মাসিষ্ট বন্ধ রয়েছে। তাই কি আর করার বাধ্য হয়েই দাড়িয়ে আছি। নূর জাহান নামে অপর এক রোগী জানান,গাইনী বিভাগের ডাক্তারের নিকট রির্পোট দেখাতে এসেছি। কিন্ত ডাক্তার আগেই চলে গেছেন। সুমি আক্তার নামে আরো এক রোগি জানান, ডাক্তার এক্সরে করার নির্দেশ দিয়ে বলেন কালিয়াকৈর বাইপাস এলাকায় ক্লিনিকে এ পরীক্ষা করান ওইখানে ভাল মেশিন আছে।

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. খায়রুজ্জামান বলেন, ২১ চিকিৎসকের মধ্যে আটজনই অনুপস্থিত ও তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। যারা অনুপস্থিত তাদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হয়নি। বর্তমানে মাত্র ১০ চিকিৎসক দিয়ে ৫০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে ট্রেনিং, ছুটি এবং রাতে ও দিনে ভাগ করে মাত্র দুজন চিকিৎসক রোগী দেখতে পারেন। এতে রোগীরা সেবা একটু কমই পান।