কাশ্মীর ইস্যুতে মোদি সরকারের সমালোচনায় আতিফ আসলাম

টিবিটি টিবিটি

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০১৯ | আপডেট: ১:০৬:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০১৯

বলিউডে একের পর এক হিট গান গেয়ে নিজেকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন আতিফ আসলাম। গানের ভক্তরা আতিফ বলতেই একেবারে পাগল। তবে সেই আতিফই এবার পড়লেন বিতর্কের মুখে। ফেসবুকে নিজের হজ যাত্রা নিয়ে এবং কাশ্মীর নিয়ে উদ্বেগ দেখিয়ে একটি লেখা পোস্ট করার কারণেই নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেন আতিফ আসলাম।

কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদ হয়েছে। আর তা নিয়ে নানা মহলের মানুষ নানাভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। কেউ সরকারের এই নীতি নিয়ে খুশি, কেউ আবার সমালোচনা করছেন সরকারের এই পদক্ষেপে। তবে কাশ্মীরে ৩৭০ রদ হওয়া নিয়ে খুব একটা যে খুশি নন গায়ক আতিফ। তা তিনি লিখলেন সোশ্যাল মিডিয়াতেই।

মোদি সরকারের এ দুটি বিল পাসের বিষয়কে ‘স্বৈরশাসন’ বলে কটাক্ষ করেছেন ভারতে জনপ্রিয় পাকিস্তানের সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে আতিফ বলেন, ‘কাশ্মীরিদের ওপর যে অত্যাচার এবং স্বৈরশাসন চালানো হচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা করছি। আল্লাহ নিরাপরাধ কাশ্মীরিদের রক্ষা করুন।’

তবে চলমান কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন এ শিল্পী। এ মুহূর্তে হজব্রত পালনে মক্কা-মদিনায় যাচ্ছেন এ জনপ্রিয় শিল্পী।

সে কথা ফেসবুকেই জানালেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি আমার স্বপ্নপূরণ করতে যাচ্ছি৷ হজ যাত্রায় যাচ্ছি৷ হজে যাওয়ার আগে সবার কাছে ক্ষমা চাই আমি। আমার এই হজযাত্রা কোনোরকম ধর্মীয় ভাবাবেগকে আঘাত করে না। এ খবরটি আপনাদের সবার সঙ্গে শেয়ার করতে পেরে ভীষণ আনন্দিত আমি।’

আতিফ আসলামের মতো কাশ্মীর সংকট নিয়ে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছেন নোবেলজয়ী পাকিস্তানি মানবাধিকার কর্মী মালালা ইউসুফজাই।

কাশ্মীরের নারী ও শিশুদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার এক টুইটে মালালা জানিয়েছেন, ‘আজ আমি কাশ্মীরি শিশু এবং নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। কারণ সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ সহ্য করতে হয় নারী ও শিশুদের।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন ছোট- এমনকি আমার মা-বাবা যখন ছোট এবং আমার ভাই যখন তরুণ, তখন থেকেই কাশ্মীরের লোকজন সংঘাতের মধ্যে বসবাস করছেন।’

ওই অঞ্চলে শান্তি নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এ মানবাধিকার কর্মী।

প্রসঙ্গত সোমবার হঠাৎ করেই কাশ্মীরের ওপর থেকে বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয় ভারত। তারপর থেকেই সেখানকার পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে।

মুসলিম অধ্যুষিত জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে গোটা দুনিয়ার সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে কাশ্মীরের জনতা। এখনও চলছে বিক্ষোভ-আন্দোলন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করার পরও রাস্তায় নেমে এসেছে শত শত কাশ্মীরি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পাঁচশরও বেশি কাশ্মীরিকে আটক করেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। এমনকি স্থানীয় নেতারাও আটক হয়েছেন। হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে সেখানে। সেখানকার মার্কেট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবকিছু বন্ধ রয়েছে। চারজনের বেশি লোকের কোথাও সমবেত হওয়া নিষিদ্ধ।