কাশ্মীর সংকট বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ‘ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি’!

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯ | আপডেট: ৭:০০:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯
ফাইল ছবি

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সংকট বিভিন্ন সময় নানা দিকে মোড় নিলেও প্রায় ৭০ বছরের পুরনো এই সংকটের জটিলতা ও তীব্রতা মোটেই কমছে না।

সম্প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের আধা-স্বায়ত্তশাসনের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায় এবং সেখানে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন বাড়তে থাকার খবর আসায় পাক-ভারত উত্তেজনা ও বাক-যুদ্ধ জোরদার হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কাশ্মীর সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক সংকট হিসেবে তুলে ধরে বিশ্ব-সমাজের সমর্থন কুড়ানোর চেষ্টা করছেন। এ জন্য তিনি কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও এমনকি সৌদি যুবরাজ ট্রাম্পের সঙ্গেও! যদিও তিনি নিজেও জানেন যে ভারতের বিরুদ্ধে কখনও কঠোর কোনো অবস্থান নেবে না কোনো মার্কিন সরকার। আরব বিশ্ব ভারতের ওপর চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা রাখলেও তা কখনও প্রয়োগ করতে চায়নি কাশ্মীর ইস্যুতে।

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা ওআইসিও মৌখিক নিন্দাবাদ ছাড়া কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়ার মত অবস্থায় নেই। ইরান কাশ্মীর সংকটের বিষয়ে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। ইসলামী এই দেশটি কাশ্মীরি জনগণের অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

সম্প্রতি দীর্ঘ ৪৯ বছর পর জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আলোচনায় উঠে এসেছে জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যু। যে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিল পাকিস্তানের পাশাপাশি চীনও। বৃহত্তর কাশ্মীরের কিছু অংশ রয়েছে চীনের নিয়ন্ত্রণে।

চীন তার নানা প্রভাব খাটিয়ে অন্য নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্য দেশগুলোকে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-বিরোধী অবস্থানে নিতে চায়। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রুশ প্রতিনিধি কাশ্মীর সমস্যার সমাধানকে ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় বিষয় বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি এও বলেছেন যে, এ বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের সনদ এবং প্রস্তাবগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। অথচ ভারত কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে তৃতীয় কোনো পক্ষের ভূমিকার বিরোধী। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ইস্যুতে পাক-ভারত যুদ্ধে পাকিস্তানের সংকটময় অবস্থার প্রেক্ষাপটে ১৯৭২ সালের দোসরা জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত পাক-ভারত চুক্তিতে দুদেশের সব বিরোধের সুরাহা দ্বিপাক্ষিক সংলাপের মাধ্যমে করতে হবে বলে লেখা রয়েছে। এই চুক্তির আলোকে ভারত কাশ্মীর সংকটকে আন্তর্জাতিক রূপ দেয়ার বিরোধী।

কিন্তু ভারত আরও দীর্ঘকাল কাশ্মীরিদের স্বাধিকারের বিষয়কে নানা অজুহাতে চাপিয়ে রাখতে সক্ষম হবে এমনটা জোর দিয়ে বলা যায় না। অধিকারহারা বহু জাতিই পরাশক্তিগুলোর অক্টোপাস ও শোষণের নাগপাশ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। তাই ফিলিস্তিনি ও কাশ্মীরি জাতিও যে একদিন পরিপূর্ণ বিজয় ও মুক্তি অর্জন করবে তা অসম্ভব মনে করার কোনো কারণ নেই।

-পার্স টুডে।