কিট সংকটের কারণে কুমেকে করোনা পরীক্ষা বন্ধ

শাহজাদা এমরান শাহজাদা এমরান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২০ | আপডেট: ৭:৩২:অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২০

>> রোববার কিট আসলে সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু করতে পারব: অধ্যক্ষ
>> শুরুতে ৮’শ কিট নষ্টের মাশুল দিচ্ছে জনগণ
>> স্যাম্পল সংগ্রহ স্থগিত রেখেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে কীট সংকটের কারণে গত দুই দিন ধরে করোনার পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। সম্পূর্ন বন্ধ রয়েছে নমুনা পরীক্ষা। যার কারণে স্যাম্পল সংগ্রহ করাও স্থগিত রেখেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। পরীক্ষার অপেক্ষামান রয়েছে আগে নমুনা দিয়ে রাখা এক হাজারের উপর মানুষ। ফলে করোনার উপসর্গ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে ভুক্তভোগী লোকজন। কীট সংকটের কারণে কুমেকে করোনার পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে এ কথা স্বীকার করে কুমেক অধ্যক্ষ ডা.মোস্তফা কামাল আজাদ বলেছেন,আশা করি আজ (রোববার) কীট কুমিল­া এসে পৌছলে আমরা রোববার থেকে কাজ শুরু করতে পারব।

ইতিমধ্যে কুমেকের সংশ্লিষ্টরা কাজ শিখতে গিয়ে নষ্ট করে ফেলছে আটশত কীট। যার প্রতিটির মূল্য রয়েছে ৪ হাজার টাকা করে। যদিও এটাকে স্বাভাবিক বলে অভিহিত করেছেন কুমেক অধ্যক্ষ।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল থেকে কুমেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথমে এক শিফট চালু হলেও পরবর্তীতে দুই শিফটে কাজ করা হয়। কখনো কখনো কাজের চাপ বেড়ে গেলে তিন শিফটেও নমুনা পরীক্ষা করা হয়। প্রতিদিন প্রতি শিফটে ৯৪টি পরীক্ষা করা সম্ভব হয়।আনুষ্ঠানিক ভাবে কুমেকে করোনা পরীক্ষা চালুর পর এ পর্যন্ত ৬,৯০০ টি কীট সরকার থেকে কুমেক কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়।কিন্তু নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুমেকের একটি সূত্র জানায়,কুমেকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা শুরুতে কাজ শিখতে গিয়েই নষ্ট করে ফেলে প্রায় ৮০০ কীট। যার প্রতিটি মূল্য রয়েছে ৪ হাজার টাকা করে।

৫ জুন শুক্রবার অর্ধবেলা আর শনিবার পুরো দিন কুমেকে করোনার পরীক্ষা সম্পূর্ন বন্ধ রয়েছে কীট সংকটের কারণে। এতে জমে আছে এক হাজারের বেশী স্যাম্পল। এই স্যাম্পল গুলো পরীক্ষা না হওয়াতে এই বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী জানতে পারছে না তারা করোনা পজেটিভ কি না। ফলে তারাও এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অপর দিকে, কুমেকের এই করোনা পরীক্ষা বিভাগে রয়েছে লোক বলের চরম সংকট। বর্তমানে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ৬ জন করে ১২ জন লোক দিয়ে কাজ চালাতে হচেছ কুমেক কর্তৃপক্ষকে।

বর্তমানে করোনা পরীক্ষার যে পরিমান চাপ রয়েছে সেই চাপ সামলাতে কমপক্ষে বর্তমানের দ্বিগুন লোক প্রয়োজন বলে কুমেক কর্তৃপক্ষ জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা.মোস্তফা কামাল আজাদ বলেছেন,হ্যাঁ, কীট সংকটের কারণে আমরা শনিবার পরীক্ষা করাতে পারিনি। এক হাজার স্যাম্পল পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা আমাদের ডিজি মহোদয়কে বিষয়টি জানিয়েছি। আজ (শনিবার) বিকালে ডিজি অফিস থেকে বলেছে, বাহির থেকে এয়ারপোর্টে কীট চলে এসেছে। রোববার নাগাদ কুমিল­া কীট পৌঁছে যাবে। রোববার কীট পৌঁছলে ইনশাল­াহ আমরা সোমবার থেকে আবার কাজ শুরু করতে পারব।

৮০০ কীট নষ্ট করে ফেলার বিষয়টি জানতে চাইলে কুমেক অধ্যক্ষ বলেন,এত গুলো হবে না। তবে কিছু কীট নষ্ট হয় বিভিন্ন কারণে। জনবল সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, করোনা ইউনিটে আমরা প্রথম ৬ জন লোক নিয়োগ দিয়েছিলাম। পরে অন্য বিভাগ থেকে আরো ৬ লোক নিয়ে এসেছি। এরপরও বলব,প্রয়োজনের অর্ধেক লোক রয়েছে এই বিভাগে। আজই (শনিবার) ডিজি অফিসের সাথে কথা হয়েছে। আমাদের জন্য আরো কিছু লোক শিগগিরই নিয়োগ দিবে। তখন আশা করি সমস্যা থাকবে না।

কুমেক অধ্যক্ষ বলেন, কুমিল্লা একটি বড় জেলা। এখানে কাজের অনেক চাপ। যার কারণে আমাদের এখানে দুই শিফটে কাজ হচ্ছে কখনো কখনো আমাদের তিন শিফটেও কাজ করতে হচেছ। আশা করি লোকবল নিয়োগ হলে প্রয়োজনীয় কীট চলে এলে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

কুমিল্লা করোনা সংক্রমন প্রতিরোধ কমিটির সমন্বয়ক ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী জানান,যেহেতু কুমেকে পরীক্ষা বন্ধ তাই আমরাও আপাতত স্যাম্পল সংগ্রহ বন্ধ রেখেছি। খুব জরুরী না হলে এখন আমরা স্যাম্পল নিচ্ছি না। পরীক্ষা শুরু হলে আবার আমরা স্যাম্পল নেওয়া শুরু করব বলে তিনি জানান।