কিশোরগঞ্জে দুর্যোগ সহনীয় ঘর পেয়ে খুশি ৩২ পরিবার

প্রকাশিত: ৫:৩৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৯ | আপডেট: ৫:৩৭:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

মাফি মহিউদ্দিন, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিনোদ মাষ্টারের পাড়ার বাসিন্দা শ্রী দেবেন্দ্রনাথ বর্মন। পেশায় ছিলেন একজন ভিক্ষুন।

ভিক্ষাবৃত্তি করে চলত তাঁর সংসার। এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করতেন। গত ২০১৪ সালে কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করা হয়। সে সময় পুর্ণবাসিত ভিক্ষুকের তালিকায় তার নাম আসে। তালিকায় নাম থাকায় তিনি অন্যান্য সহযোগীতার পাশাপাশি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে বয়স্ত ভাতার তালিকাভুক্ত হন।
শ্রী দেবেন্দ্রনাথ বলেন ভিক্ষুকের তালিকায় নাম আসায় আমার তিনবেলা খাওয়ার চিন্তা দুর হয়। কিন্তু থাকার কোন জায়গা ছিল না।

ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে অন্যের জমিতে একটি খুপড়ি ঘরে বসবাস করে আসছিলাম। স্বপ্ন ছিল একটি টিনের ঘর নিমার্ণ করে সেই বাড়িতে থাকব। কিন্তু পুটিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সায়েম লিটন এর সহযোগিতায় ও উপজেলা নিবার্হী অফিসার আবুল কালাম আজাদ স্যারের দয়ায় আজকে আমি একটি পাকা বাড়ির মালিক। আমি স্বপ্নেও ভাবিনি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বাকি জীবনটুকু পাকা বাড়িতে কাঁটাতে পারব।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতার্র কাযার্লয় সুত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষন (টিআর) কর্মসুচীর আওতায় “ গৃহহীনদের জন্য দুযোর্গ সহনীয় বাসগৃহ নিমার্ণ প্রকল্পের আওতায় কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৩২ টি অসহায়, দরিদ্র, ও হতদরিদ্র পরিবারকে ঘর প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি ঘর নিমার্ণে ব্যায় হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।

কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের স্বামী পরিত্যাক্তা নারী ও পত্রিকা বিক্রেতা নবিয়া বেগম বলেন, দীর্ঘদিন আগে আমার স্বামী আমাকে তালাক দেয়। পরবতীতে আমি আমার বাবার বাড়িতে বসবাস করি। জীবন ও জীবিকা নিবার্হের তাগিদে পত্রিকা বিক্রি করে পেট চালাতাম। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার “ গৃহহীনদের জন্য দুযোর্গ সহনীয় বাসগৃহ নিমার্ণ” প্রকল্প থেকে ঘর পেয়ে আমি অনেক খুশি।

বাজেডুমরিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন বলেন, আমি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। আমার তেমন কোন জমি জমা না থাকায় মুক্তিযোদ্ধার সম্নানী ভাতাটুকু দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করে আসছিলাম। স্বপ্ন ছিল জীবনের শেষ সময়টুকু পাকা বাড়িতে থাকব। আমার সেই আশা পুরন হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

এছাড়াও উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের লাইলী বেগম, মাগুড়া ইউনিয়নের আলেয়া খাতুন, গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের লাভলী খাতুন সহ সকলেই খুশিতে আত্নহারা হয়েছেন।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গৃহহীনদের জন্য দুযোর্গ সহনীয় বাসগৃহ নিমার্ণ প্রকল্প থেকে যারা পাকা ঘর পেয়েছেন তারা সকলেই খুব গরিব। ঘর পেয়ে তারা খুব খুশি। তাদের ঘরগুলো আলোকিত করার জন্য প্রতিটি বাড়িতে একটি করে সোলার ষ্ট্রীট লাইট স্থাপন করা হবে।