কি আছে দেশের সর্বাধুনিক বিমান ‘আকাশ বীণায়’?

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৪২:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮

বাংলাদেশ বিমানের বহরে যুক্ত হওয়া সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার যার নাম দেয়া হয়েছে ‘আকাশ বীণা’। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের পর অবশেষে ১৯ আগষ্ট বিকেল ৫ টা ১৯ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছেছে দেশের প্রথম ড্রিমলাইনার ‘আকাশ বীণা’।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ওয়াটার ক্যানন স্যালুটের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয় বিমানটিকে। মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সিয়াটল কারখানা থেকে যাত্রা করে সরাসরি শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছে এটি।

‘আকাশ বীণা’র এখনকার নাম ড্রিম লাইনার ৭৮৭। এটি তৈরি করেছে বিখ্যাত বিমান নির্মাতা বোয়িং। ১৯১৬ সালে আমেরিকার সিয়াটলে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর সপ্তর শিকাগো শহরে। বোয়িং এর অনেক বিখ্যাত মডেল রয়েছে যেগুলো অত্যন্ত সফলতার সাথে বিভিন্ন দেশে অনেক দিন থেকেই সার্ভিস দিয়ে আসছে।

২০০৮ সালে বোয়িং এর সঙ্গে ২.১ বিলয়ন ডলারের চুক্তি করে বাংলাদেশ বিমান । চুক্তি অনুযায়ী বোয়িং থেকে ৪ টি ৭৭৭-৩০০ ই আর মডেলের বিমান, ২ টি ৭৩৭-৮০০ মডেলের বিমান ও ৪ টি ড্রিম লাইনার ৭৮৭ পাবে বিমান বাংলাদেশ। এরই মধ্যে ৪ টি ড্রিম লাইনার বাদে সবগুলো বিমানই চলে এসেছে এবং বেশ ভাল ভাবেই সার্ভিস দিচ্ছে।

ড্রিম লাইনার ৭৮৭ মডেলটি নতুন ধরনের। এর উড্ডয়ন প্রক্রিয়া প্রায় পুরোটাই বোয়িং ৭৭৭ এর সাথে মিল রেখে তৈরি করা। এজন্যে ৭৭৭ এর পাইলটরা কোন রকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই ড্রিম লাইনার চালাতে পারবেন।

এই বিমানটির সবচাইতে বড় বিশেষত্ব হল এটি একই ধরনের অন্যান্য বিমানগুলোর চাইতে কম তেল খরচে চলতে সক্ষম। এর আগের মডেল বোয়িং ৭৬৭ এর চাইতে ড্রিম লাইনার ৭৮৭ কমপক্ষে ২০% কম তেল খরচে চলতে পারে। এছাড়া এই বিমানে সন্নিবেশ করা হয়েছে আরও অত্যাধুনিক কিছু প্রযুক্তি যেমন ইলেক্টিক্যাল ফ্লাইট সিস্টেম, চার প্যানেল বিশিষ্ট উইন্ডশিল্ড, শব্দ নিরোধী শেভরন ।

মডেল এবং কনফিগারেশন ভেদে এক একটি ড্রিম লাইনার ১৪৬ মিলিয়ন থেকে ২০০ মিলিয়ন ইউ এস ডলারে বিক্রি হয়। এই বিমানের জানালাগুলো এখন পর্যন্ত নির্মিত সমস্ত বিমানের মধ্যে বৃহত্তম। বোয়িং এর মতে এই জানালা অন্য যেকোনো বিমান থেকে ৬৫% বেশী বড়।

ড্রিম লাইনার সবচাইতে ইকো ফ্রেন্ডলি বা পরিবেশ বান্ধব বিমান। এর তেল খরচ অন্যান্য বিমান থেকে ২০% কম। এটাই প্রথম এয়ারক্রাফট যার এয়ার ফ্রেম তৈরিতে কম্পজিট উপাদান ব্যাবহার করা হয়েছে।

একটি খালি ড্রিম লাইনার ৭৮৭ এর ওজন ১১৭,৬১৭ কিলোগ্রাম, যা ২৯ টি হাতীর ওজনের সমান। বিমানটি ১৮৬ ফুট লম্বা। ২ পাখার প্রশস্ততা ১৯৭ ফুট। উচ্চতা মাটি থেকে ৫৬ ফুট। এর গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৫০ কিলোমিটার।

নতুন ড্রিমলাইনার গুলোতে যাত্রীদের জন্য ফ্লাইট চলাকালীন সময়ে ইন্টারনেট ব্যাবহার ও ফোন কল করার মত সুবিধাগুলো থাকবে যেগুলো আগে ছিল না। যাত্রীরা আরামের সাথে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন গেমস সহ যাবতীয় ইন্টারনেট ফিচার সমূহ উপভোগ করতে পারবেন।

এ বিষয়ে বিটিআরসির কাছ থেকে অনুমোদন নেয়ার কাজও শেষ। এই সার্ভিসটি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিমান বাংলাদেশ ৪ কোটি টাকা ব্যায়ে সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে।

বিমান বাংলাদেশ এজন্য প্যানাসনিক অ্যাভিয়েশন কর্পোরেশনের সাথে চুক্তিও সম্পাদিত করেছে যারা ২৫ টি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ডাটা ট্রান্সফারের প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করবে। ছাড়া টিভি মনিটরে বিবিসি, সিএনএনসহ ৯টি টিভি চ্যানেল দেখতে পারবেন যাত্রী।

এই বিমানের আসন সংখ্যা ২৭১টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। বিজনেস ক্লাসের আসনগুলো বানিয়েছে অ্যাসটেলা। আর ইকোনমি ক্লাসের আসনগুলো হেইকোর বানানো।

বিজনেস ক্লাস আসনের ক্ষেত্রে স্টেলিয়া ইকুইনক্স থ্রি ডি সিট ব্যাবহার করা হবে সিট গুলোতে বিশেষ ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকবে। এ গুলো ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত বিস্তৃত করা যাবে এবং যাত্রী ইচ্ছা করে আরামে ঘুমোতেও পারবেন।

সিটগুলো ২-২-২ কম্বিনেশনে সাজানো হবে। বাংলাদেশ বিমানের ড্রিম লাইনার ৭৮৭ এর বিজনেস ক্লাস এর আসন বিন্যাস অনেকটা এয়ার ক্যারাইবেস, এয়ার ইউরোপা, রয়্যাল এয়ার মারকো ইত্যাদি এয়ারলাইন্স এর মতই।

বিমানের সর্বাধুনিক সংযোজন ড্রিমলাইনার ৭৮৭ বিমানটি ১লা সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে বাংলাদেশ বিমানের হয়ে নিয়মিত চলাচল করবে। প্রথম ফ্লাইটে বিমানের ড্রিম লাইনার ৭৮৭ টি সকাল ০৮.৩০ মিনিটে ২৭১ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর যাবে। এর পর একই দিনে সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকা ফিরে আসবে। এর পর সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিবে।

এদিকে আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত সম্পূর্ণ নতুন বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানের প্রথম ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পছন্দে এর নামকরণ হয়েছে ‘আকাশবীণা’।

বিমানটি প্রথম ফ্লাইটে বিমানের ড্রিম লাইনার ৭৮৭ টি সকাল ০৮.৩০ মিনিটে ২৭১ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর যাবে। এর পর একই দিনে সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকা ফিরে আসবে এর পর সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিবে। এদিকে ‘আকাশ বীণা’র সংযোজনের মধ্য দিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫টি।