কুতিনহোকে বার্সা ছাড়তে বাধ্য করছে রিয়াল!

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯ | আপডেট: ১:৫৩:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯

কত কাঠখড় ‍পুড়িয়েই না ফিলিপে কুতিনহোকে কিনেছে বার্সেলোনা। মোটা অঙ্কের টাকা তো ঢালতে হয়েছেই, পাশাপাশি এই ব্রাজিলিয়ানকে কিনতে ন্যায়-নীতিও বিসর্জন দিতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। সহজ পথে কাজ না হওয়ায় বার্সাকে হাঁটতে হয়েছে দলবদলের কালো পথে। কিন্তু এতো কূট-কৌশল করে যাকে কিনে আনা, সেই কুতিনহোকে আগামী গ্রীষ্মে হারাতে পারে বার্সেলোনা। পেছন থেকে কলকাঠি নেড়ে কুতিনহোকে আসলে বার্সেলোনা-ছাড়া করতে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ!

না, পুরো বিষয়টা না জেনেই রিয়াল মাদ্রিদকে আসামির কাঠগড়ায় দাড় করাবেন না। শত্রুতার বশবর্তী হয়ে রিয়াল মাদ্রিদ এই কাজ করছে না। ঘটনা যদি ঘটেও, তাহলেও রিয়াল মাদ্রিদকে দোষ দেওয়া যাবে না। কুনিতহোকে বার্সা ছাড়া করলেও রিয়াল মাদ্রিদ থাকবে নির্দোষ!

এর রহস্য কী? ইউরোপিয়ান দলবদলের নীতি এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাবের পছন্দ-অপছন্দ। ঘটনাটা এবার খুলেই বলা যাক। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর বিকল্প হিসেবে বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলারই আছেন রিয়ালের রাডারে। তবে এই মুহূর্তে রিয়ালের পছন্দের তালিকার এক নম্বরে এডেন হ্যাজার্ড।

শুধু পছন্দ বললে ভুল হবে। গণমাধ্যমের খবর, চেলসির এই বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড/মিডফিল্ডারের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি এক রকম চূড়ান্তই করে ফেলেছে রিয়াল। হ্যাজার্ড নাকি এরই মধ্যে রিয়ালকে ‘হ্যাঁ’ বলে দিয়েছেন। রিয়ালে যোগ দেবেন বলে বর্তমান ক্লাব চেলসির বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। আগামী গ্রীষ্মেই চেলসি ছেড়ে রিয়ালে যোগ দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছেন তিনি।

চেলসির কোচ-কর্তারাও বুঝে গেছেন হ্যাজার্ডকে আর ধরে রাখা যাবে না! এমনকি চেলসির ড্রেসিংরুমেও নাকি এই বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে- মৌসুম শেষে হ্যাজার্ডকে হারাতে যাচ্ছে তারা। তা চেলসির হ্যাজার্ডের সঙ্গে বার্সেলোনার কুতিনহোর সম্পর্কটা কি? সম্পর্ক আছে। সেটি তৈরি করেছেন চেলসির রাশিয়ান ধনকুবের মালিক রোমান আব্রামোভিচ। হ্যাজার্ডের বিকল্প হিসেবে চেলসির রুশ মালিকের এক নম্বর পছন্দ বার্সেলোনার কুতিনহো।

আব্রামোভিচ এক রকম ঘোষণাই দিয়েছেন, হ্যাজার্ড চলে গেলে তার বিকল্প হিসেবে কুতিনহোকে কিনবেন তিনি। প্রশ্ন উঠতে পারে, চেলসি মালিক কিনতে চাইলেই বার্সেলোনা কুতিনহোকে বিক্রি করবে? হ্যাঁ, বার্সেলোনা মুখে অন্তত বলছে, কুতিনহোকে বিক্রি করবে না তারা। সম্প্রতি বার্সেলোনা সভাপতি জোসেফ মারিয়া বার্তোমেউ এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘কুতিনহোকে আমরা বিক্রি করব না।’

কিন্তু গণমাধ্যমের দাবি, এটা বার্তোমেউয়ের মুখের ফাঁকা বুলি। দাম বাড়ানোর কৌশল। আসলে তলে তলে কুতিনহোকে বিক্রির পরিকল্পনাই করছে বার্সা। আর সেটা জেনেই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে এক নম্বর টার্গেট বানিয়েছেন টাকার কুমির আব্রামোভিচ।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে লিভারপুল ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর ন্যু-ক্যাম্পে শুরুটা দুর্দান্তই করেছিলেন কুতিনহো। গত মৌসুমে ২২ ম্যাচেই করেছিলেন ১০ গোল। আভাস দিয়েছিলেন ন্যু-ক্যাম্পে নিজেকে তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার। কিন্তু গত মৌসুমের সেই আভাস এবার মৌসুম শুরু হতেই যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। কুতিনহোর পায়ে গত মৌসুমের সেই ফর্ম আর নেই। ব্রাজিলিয়ান তারকা যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। এ মৌসুমে এ পর্যন্ত সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩২ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৮ গোল।

১৬০ মিলিয়ন ইউরো দামি খেলোয়াড়ের। বার্সেলোনাকে গুণতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের বেতন-ভাতাও। কাড়ি কাড়ি টাকার বিনিময়ে কুতিনহোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বার্সেলোনা কর্তাদের খুশি করতে পারছে না। তারা বরং বিকল্প চিন্তা শুরু করে দিয়েছে। আর গোপন সূত্রের ভিত্তিতে বার্সার সেই বিকল্প চিন্তার কথা জেনে গেছে চেলসি। হ্যাজার্ডের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে তাই কুতিনহোকেই এক নম্বর টার্গেট বানিয়েছেন আব্রামোভিচ।

তার পরিকল্পনা পাক্কা। রিয়াল যদি হ্যাজার্ডকে নিয়েই ছাড়ে, তাহলে তারাও দলে ভেড়াবে কুতিনহোকে। যার অর্থ, রিয়ালের ওপরই নির্ভর করছে কুতিনহোর বার্সেলোনায় থাকা না থাকা!