কুবি’তে থাকার জায়গা না হওয়া ভর্তিচ্ছুদের পাশে পুলিশ সুপার

প্রকাশিত: ২:৪৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০১৯ | আপডেট: ২:৪৩:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০১৯
ছবি: সংগৃহীত

ফের আলোচনায় পুলিশ সুপার সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। তবে এবার নতুনভাবে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে আসা শিক্ষার্থীদের অনেকেই গভীর রাতে ক্যাম্পাসে পৌঁছেছেন। এ কারণে রাত্রি যাপনের ক্ষেত্রে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয় তাদের। বেশিরভাগ আবাসিক হোটেলেই রুম বুকিং হয়ে আছে। শীতে রাতভর বাইরে ঘুরতে হচ্ছিল অনেককে।

তাদের এ কষ্ট লাগবে পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। পুলিশ লাইন এর ভিতর নবনির্মিত ছয়তলা নামের ব্যারাকটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরদের থাকার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন তিনি।

শুধু নিরাপদে থাকাই নয়, শিক্ষানুরাগী এই মানুষটির নির্দেশনায় তাদের মাঝে কম্বল, মশার কয়েল, খাবার পানিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তুলে দিতে দেখা যায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের সদস্যদের।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, আমরা যে পরিমাণ থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি তাতে অন্তত দু’হাজার শিক্ষার্থীর জন্য যথেষ্ট হবে।

কিন্তু ৬৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, ‘জেলা প্রশাসন থেকে যতটুকু করা যায় আমরা করবো। আমরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করেছি। তবে, যে যেখান থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে, আশা করি সমস্যা হবে না।’

এদিকে নিরাপত্তার বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় সার্বিক পুলিশি টহল জারি থাকবে। এছাড়াও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করা হবে। আশাকরি কোথাও কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না।’

উল্লেখ্য, এ শিক্ষাবর্ষে ছয়টি অনুষদের অধীনে মোট ১ হাজার ৪০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ৬৮ হাজার ৭৭ জন শিক্ষার্থী।

এদিকে পরীক্ষাকে কেন্দ্রে করে কুমিল্লা আবাসিক হোটেলে ভাড়া হয়ে গেছে দ্বিগুণ। তবে হোটেলগুলোর মান যেমনই হোক ভাড়া দ্বিগুণ কোথাও তিনগুণ বেশি ভাড়া রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থাকলেও ভর্তি পরীক্ষার সর্বশেষ প্রস্তুতি ঠিক রাখতে অতিরিক্ত ভাড়ার যন্ত্রণা সয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে নগরীর শাসনগাছা থেকে কান্দিরপাড় এবং কান্দিরপাড় থেকে রানীরবাজার পর্যন্ত হোটেলগুলো ঘুরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাদশা মিয়ার বাজারের আবাসিক হোটেলের সিঙ্গেল রুম আগে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করে ভ্রাম্যমাণ লোকজন থাকতেন। কিন্তু বিশবিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কারণে বুধবার সিঙ্গেল রুমগুলো ৬০০ টাকা এবং ডাবল রুম ১২০০ টাকায় ভাড়া দেন হোটেল মালিকরা। এমন অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী বলেন, ‘গতকাল বুধবারের বৈঠকে হোটেল মালিকরা ভাড়া না বাড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এদিকে আজ হোটেল ভাড়া অতিরিক্ত রাখার বিষয়ে আমরাও খবর পাচ্ছি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।’