কুবিতে বছর পেরিয়ে গেলেও হয়নি ফল প্রকাশ

শাহজাদা এমরান শাহজাদা এমরান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০ | আপডেট: ৯:৪৫:অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে চূড়ান্ত পরীক্ষার দশ সপ্তাহের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তর (২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষার এক বছর পেরিয়ে গেলেও ফল প্রকাশ হয়নি। দীর্ঘদিন পরীক্ষার ফল না পাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ চাকরির জন্য আবেদন করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২-১৩ সেশনে স্নাতক শুরু করে ২০১৮ সালের শুরুতে স্নাতক শেষ করে এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। স্নাতকোত্তরে ২০১৬-১৭ সেশনে ভর্তি হন ৩৬ জন শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল স্নাতকোত্তর ২য় সেমিস্টারে ফাইনাল পরীক্ষা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ৭ম ব্যাচের এই শিক্ষার্থীরা। ফাইনাল পরীক্ষা শেষে একই বছরের জুনে ভাইভার মাধ্যমে সকল একাডেমিক কার্যক্রম শেষ হয় তাদের। তবে সকল কার্যক্রম শেষ হওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও স্নাতকোত্তরের ফলাফল এখনো প্রকাশ হয়নি। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে প্রায় ২ বছর ৭ মাসের সেশনজটে পড়েছে এই শিক্ষার্থীরা।

এক বছরের অধিক সময় পরীক্ষার ফল না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চাকরির আবেদনে স্নাতকোত্তর এর সার্টিফিকেট প্রয়োজন হওয়ায় এ সংকটে আরো বাড়ছে বলে জানান তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভাগের একজন শিক্ষার্থী বলেন,’একবছরের অধিক সময় আগে পরীক্ষা দিয়ে এসেছি। কিন্তু এখনো ফলাফল হাতে পাইনি। কবে পাবো তা জানতে যোগাাযোগ করা হলে কোনও কোনও উত্তর পাওয়া যায় না। অমানবিকতার একটা সীমা থাকা প্রয়োজন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা দপ্তরের তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫তম একাডেমিক কাউন্সিলের সংশোধিত আইনে একটি সেমিস্টার শেষ করতে শিক্ষার্থীদের সময় লাগবে ২৬ সপ্তাহ বা ছয় মাস, যার মধ্যে ১৩ সপ্তাহ ক্লাস হবে, চূড়ান্ত পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য থাকবে দুই সপ্তাহ আর চূড়ান্ত পরীক্ষা হবে তিন সপ্তাহে। আইন অনুযায়ী পরীক্ষা-পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে হবে। তবে ফাইনাল পরীক্ষার ক্ষেত্রে ১০ সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করার নিয়ম রয়েছে।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ১০ সপ্তাহে সেমিস্টার পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কথা থাকলেও ইংরেজি বিভাগের ভুক্তভোগী ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে সেমিস্টার ফাইনালের আট সপ্তাহ পর ফলাফল প্রকাশের কথা থাকলেও আমাদের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। এতে করে আমরা চাকরির বাজারে যেতে পারছিনা। অধিকাংশ বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে স্নাতকোত্তর এর সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়। কিন্তু সার্টিফিকেট না থাকায় আমরা আগে থেকেই বাদ পড়ে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে এবিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে ফল প্রকাশ করার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরল করিম চৌধুরী বলেন, করোনার কারণে আমাদের ফলাফল প্রকাশ করতে কোনো সমস্যা নেই। সীমিত আকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। যদি শিক্ষকরা ফলাফল তৈরি করে দেয় আমরা প্রকাশ করবো। ইংরেজি বিভাগের ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে তিনি জানান, বিভাগ থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। ফলাফল তৈরির কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তা শেষ করে ফলাফল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে জমা দিবে বলে জানানো হয় বিভাগ থেকে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তরের ভুক্তভোগী ব্যাচের পরীক্ষা কমিটির প্রধান মো. আলী রেজওয়ান তালুকদার বলেন,’এটা পরীক্ষা কমিটির বিষয়। এবিষয়ে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। বিভাগ থেকে জেনে নিবেন।’

ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. বনানী বিশ্বাস বলেন,’আমি বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরে দেখি পরীক্ষার ১ বছর পরও শিক্ষার্থীরা ফলাফল পাচ্ছে না। অসহায়ের মত ঘুরছে আমার শিক্ষার্থীরা। যতটুকু সম্ভব আমি শীঘ্রই ফলাফল প্রকাশ করতে পরীক্ষা কমিটিকে অনুরোধ করেছি।’