কুমারখালীতে কাজের মেয়াদ শেষে হলেও দেখা মেলেনি ব্রিজের

প্রকাশিত: ৭:২০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২১ | আপডেট: ৭:২০:অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২১

মিজানুর রহমান নয়ন, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: পাথরের সাথে বালু মিশানো, পরিমাণে কম দেওয়া, মোটা বালুর বদলে ধূলাবালি, দিনের পরিবর্তে রাতে ঢালাই, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলাধীন কুমারখালী-গোপগ্রাম জিসি সড়কের চেইনেজ এক হাজার একশত মিটারের ২৫ মিটার পিসি গার্ডার ব্রীজ নির্মাণাধীন কাজের। এলাকাবাসীর এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ইতোমধ্যে নির্মাণাধীন কাজ বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রকৌশলী অফিস। এছাড়াও এই গুরুত্ববাহী ব্রীজের নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হলেও দৃশ্যমান কাজ না হওয়ায় বেড়েই চলেছে এলাকাবাসীর ভোগান্তি।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, ওই ব্রীজটি নির্মাণে দুই কোটি ৪৯ লক্ষ ৯২ হাজার ১৯৯ টাকা পাঁচ পঁয়সায় গেল বছরের (২০২০ সাল) ১২ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সম্পন্ন করেন নড়াইল জেলার লোহাগাড়া থানার লক্ষীপাশার মেসার্স নূর কনষ্ট্রাকশন। ওই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু করার চুক্তি থাকলেও কাজের নমুনা মেলেনি কয়েক মাস পরেও। এরপর নির্ধারিত তারিখে পাঁচ মাস পরে ১৭ জুলাই ব্রীজের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ। উদ্বোধনের পরে কচ্ছপ গতিতে নির্মাণ সামগ্রী ফেলা হলেও শুরু হয়নি কাজ। অবশেষে মাসখানেক আগে ব্রীজের মাটির নিচে কয়েকটি পিলারের কাজ শুরু হতে না হতেই গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে কাজের মেয়াদ।

তবে একবছর মেয়াদী কাজের মেয়াদ শেষ হলেও দেখা মেলেনি ব্রীজের।

আরো জানা গেছে, ব্রীজের পিলার নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে বালু মিশানো পাথর, মোটার বালুর সাথে চিকন বালু ও দিনের পরিবর্তে রাতে চলছে ঢালাইয়ের কাজ।এলাকাবাসী এমন অনিয়মের অভিযোগ দিলে উপজেলা প্রকৌশলী অফিস অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

নির্মাণাধীন ব্রীজের পাশেই পলাশ হোসেনের হাঁসের খামার।পলাশ উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।এবিষয়ে পলাশ বলেন, এই ব্রীজটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে।কিন্তু ঠিকাদার পাথরের সাথে বালু ও মোটা বালুর সাথে ধূলাবালু মিশিয়ে কাজ করছে।যা সম্পূর্ণ অনিয়ম ও ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, অনিয়মের কথা বললেই চাঁদাবাজির হুমকি দেয়। হাসান নামের একজন বলেন,কাজে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। এভাবে কাজ হলে ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ হবে।নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন স্কুল শিক্ষক বলেন, এই ব্রীজটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এক বছরেরও ব্রীজের মুখ দেখতে পারলাম না।মানুষের চলাচলের খুব কষ্ট হচ্ছে। ওই ব্রীজ দিয়ে চলাচলকারী কুমারখালী সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মুরাদ হোসেন বলেন, পাঁথরে গাঁদা কোঁদাল দিয়ে খুরলে পাঁথরের বদলে শুধু বালু পাওয়া যাচ্ছে।আর উপরে মোটা বালু থাকলেও ভিতরে ধুলাবালু।তিনি আরো বলেন, অনিয়ম করতেই দিনের কাজ রাতে করে।

এবিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার টিপুকে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কুমারখালী উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, বালু মিশানো সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ব্রীজের কাজ আপাতত বন্ধ করা হয়েছে। কাজের মেয়াদও শেষ হওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি।