কুমিল্লায় ছেলের হাতে মা খুন

শাহজাদা এমরান শাহজাদা এমরান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭:৪৭ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০১৯ | আপডেট: ৭:৪৮:অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০১৯

কুমিল্লার ব্রাক্ষনপাড়ায় লাউ গাছ লাগানোকে কেন্দ্র করে বড় ভাই ও ছোট ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের ঘটনায় ছোট ছেলের দায়ের কোপে মারা যায় মা। এই ঘটনায় ঘাতক ছোট ছেলে পুলিশের হাতে আটক হলেও পালিয়ে যায় বড় ভাই। পুলিশ জানায়, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনাটি গতকাল সোমবার বিকেলে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দক্ষিণ শশীদল সেনের বাজার এলাকায় ঘটে। বড় ভাই ছোট ভাইয়ের দ্বন্দ্বের ঘটনায় একই পরিবারের শিশুসহ আরো ৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় ঐ এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের দক্ষিণ শশীদল সেনের বাজার এলাকার মৃত আঃ সামাদ এর বড় ছেলে মানিক মিয়া (৬০) এর জায়গায় (বাড়ীর আঙ্গিনায়) ছোট ভাই আওলাদ হোসেনের স্ত্রী কুহিনুর আক্তার লাউ গাছ রোপন করে। এই নিয়ে ছোট ভাই আওলাদ হোসেনের স্ত্রী কুহিনুর আক্তারের সাথে বড় ভাই মানিক মিয়ার কথা কাটা কাটি হয়।

এক পর্যায়ে বড় ভাই মানিক মিয়া ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কুহিনুর আক্তারকে ধাওয়া করে। ঘটনার বিষয়টি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছোট ভাই আওলাদ হোসেন খবর পেয়ে বাড়িতে এলে আবারো বড় ভাই ছোট ভাইকে ধাওয়া করে এবং এক পর্যায়ে উভয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

এক পর্যায়ে মা আমেনা খাতুন (৭৫) ও মেজু ভাই ইকবাল হোসেন ও তাহার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার তাদের সংঘর্ষ নিরসন করতে এলে মা আমেনা খাতুন ইকবাল হোসেন ও তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার ও তাহার ৮মাস বয়সী শিশু সন্তান আহত হয়। এলাকাবাসী আহত মা আমেনা খাতুন সহ অন্যান্যদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত মা আমেনা খাতুন মারা যায়।

এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়া থানা অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আবু মোঃ শাহজাহান কবির জানান, বাড়ীর আঙ্গিনায় লাউ গাছ লাগানোকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের বড় ভাই মানিক মিয়া ও ছোট ভাই আওলাদ হোসেনের মধ্যে সংঘর্ষে হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে দুই ভাইয়ের ঝগড়া নিরসন করতে এসে তাদের মা আমেনা বেগম, মেজু ভাই ইকবাল হোসেন এবং ইকবাল হোসেনের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার ও তার কোলের শিশু (৮ মাস) দায়ের কোপে আহত হয়।

এছাড়াও এ ঘটনায় বড় ভাইয়ের আঘাতে ছোট ভাই আওলাদ হোসেন ও আহত হয়। পরে এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে তাদের মা আহত আমেনা বেগম মারা যায়। থানা পুলিশ কুমেক হাসপালে নিহতের লাশ উদ্ধার করে শোরতহাল রির্পোট তৈরী শেষে ময়না তদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ছোট ভাই আওলাদ হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং বড় ভাই মানিক মিয়া পলাতক রয়েছে।