কুমিল্লায় বাসে আগুন: খালেদা জিয়ার জামিন না মঞ্জুর

শাহজাদা এমরান শাহজাদা এমরান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৫৩:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯

বার বার শুনানী পিছানোর পর অবশেষে হাইকোর্টের আদেশে সোমবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়ে আটজন হত্যার মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের অধিকতর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রায় এক ঘন্টার শুনানীর পর উভয় পক্ষের যুক্তি তর্ক শুনে বিচারক কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ মো. আলী আকবর খালেদা জিয়ার জামিন না মঞ্জুর করেন এবং পরবর্তীতে চার্জ গঠনের জন্য আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ধার্য্য করেন। সরকার পক্ষের আইনজীবী পিপি এড. মোস্তাফিজুর রহমান লিটন এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী এড. কাইমুল হক রিংকু এ কথা নিশ্চিত করেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী এড. মো. কাইমুল হক বলেন, চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় অবশেষে হাইকোর্টের আদেশে জেলা ও দায়রা জজ প্রায় এক ঘন্টার মত শুনানী করেছেন। এবং জামিন না মঞ্জুর করে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি চার্জ গঠনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিলে আটজন যাত্রী নিহত ও ২৭ জন আহত হন। এ ঘটনায় পরদিন জামায়াতের সাবেক সাংসদ সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরসহ বিএনপি ও জামায়াতের ৫৬ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। পরে খালেদা জিয়াসহ ৭৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এরপর ২০১৭ সালে আরেকটি সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে দেওয়া হয়। উভয় অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়ার নাম ৫১ নম্বরে আছে। ২০১৮ সালের ২৮ মে হাইকোর্টেরবচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাঁকে ছয় মাসের জামিন দেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ মে চেম্বার জজ জামিনের আদেশ স্থগিত করেন। একই সঙ্গে হাইকোর্টকে পূর্ণাঙ্গ শুনানি করার নির্দেশ দেন।

গেল বছরের ১১ জুন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. শওকত হোসেন ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বিষয়টি নিম্ন আদালতে নিষ্পত্তির জন্য আদেশ দেন। একই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ৫ নম্বর আমলি আদালতে এই মামলার জামিনের শুনানি হয়। পরে আদালতের বিচারক ২০ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করেন। সেই থেকে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানী বার বার পিছিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অবশেষে ৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার তা শুনানী করা হলো।
বর্তমানে খালেদা জিয়া একটি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে আছেন।

বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী এড. কাইমুল হক রিংকু বলেন, বাসে আগুনে পুড়িয়ে আটজন মারা যাওয়ার এই মামলায় খালেদা জিয়ার নাম এজাহারে তথা মামলার প্রাথমিক বিবরণীতে নেই। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন ব্যক্তি ১৬৪ ধারায় আদালতে খালেদা জিয়ার নাম বলেননি। এরপরও তাঁকে এই মামলায় রাজনৈতিকভাবে জড়ানো হয়।