কুমিল্লায় মেস ভাড়ার জন্য ৬ ছাত্রীকে তালাবদ্ধ করলেন বাড়িওয়ালা!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০ | আপডেট: ২:৩০:অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০

মেস ভাড়া না পেয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছয় ছাত্রীকে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় ৪ ঘণ্টা তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকার পর অবশেষে ওই ছাত্রীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দেয়।

এরপর পুলিশ এসে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ওই ছাত্রীদের উদ্ধার করেন। কুমিল্লা নগরীর ধর্মপুর এলাকায় গত মঙ্গলবার (২ জুন) ঘটনাটি ঘটলেও বিষয়টি জানাজানি হয় বুধবার (৩ জুন)। এ নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে সমালোচনা।

ভিক্টোরিয়া কলেজ সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মেরিন তানজিনা টুম্পা অভিযোগ করে বলেন, ‘ধর্মপুরের জাহানারা মঞ্জিলে আমরা ছয় ছাত্রী থাকি। সবাই ভিক্টোরিয়াতে অনার্স ও মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।

করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় তিন মাস মেসে ছিলাম না। আমাদের টিউশনিও বন্ধ। মঙ্গলবার ছয়জন মেসে গিয়েছি। বাসায় প্রবেশের পর মূল গেটে বাড়ির মালিক তালা লাগিয়ে দেন।

আমরা বলেছি, যেহেতু মেসে ছিলাম না, টিউশনও নেই । ৫০ শতাংশ ভাড়া দেবো। বাড়ির মালিক পুরো ভাড়া দিতে বলেন।

তিনি গেটে তালা লাগিয়ে আমাদের চার ঘণ্টার মতো আটকে রাখেন। আমরা বাধ্য হয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল করি। পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে।’

ধর্মপুর জাহানারা মঞ্জিলের মালিক জানাহারা বেগম জানান, ‘তাদের কাছে আমি তিন-চার মাসের ভাড়া পাই। আগে এমন করে বহু ভাড়াটিয়া টাকা না দিয়ে চলে গেছে।

আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের বলেছি, ভাড়া না দিলে তালা খুলবো না। মেয়েরা আমার বাড়িতে পুলিশ কল দিয়ে এনেছে। ভাড়ার টাকায় গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খরচ করি।

সরকার যদি এসব বিল মওকুফ করতো, আমিও তাদের মওকুফ করতে পারতাম।’ কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানা সাব-ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন জানান, ‘৯৯৯ নম্বর থেকে কল পেয়ে টিমসহ ঘটনাস্থলে যাই।

বাসায় তালা দেওয়া ছিলো। মালিককে ডেকে তালা খোলা হয়। এ বিষয়ে বাসার মালিক ও ভাড়াটিয়া ছাত্রী উভয়ের সঙ্গে কথা হয়। মালিক পক্ষ চায় শতভাগ ভাড়া, আর ছাত্রীরা চায় করোনাকালীন সময়ে অর্ধেক টাকা দেওয়ার জন্য।

প্রাথমিকভাবে বিষয়টির সমাধান করে, তাদের বাসা থেকে বের করে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। যেকোন সমস্যায় উভয় পক্ষকে থানার সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে কলেজের সংগঠন ক্যাম্পাস বার্তা সম্পাদক মাহদী হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাস বার্তার উদ্যোগে মেস ভাড়া মওকুফের জন্য ১৭ মেকলেজ অধ্যক্ষ বরাবর আবেদন করেছি।

আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ স্যার জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন করেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় বাড়ির মালিক ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া ৫০-৬০ শতাংশ মওকুফ করা হলেও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ পাচ্ছেন না।’

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ দুঃখজনক। ক্যাম্পাস বার্তার পক্ষ থেকে মেস ভাড়া মওকুফের বিষয়ে আবেদন করে।

এরপরই তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেস ভাড়া মওকুফ করতে আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছি। মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে বাড়ির মালিক ও স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতার হাত বাড়াবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছি।’