কুম্ভ মেলায় অংশ নিয়ে ভারতে করোনায় আক্রান্ত হাজার হাজার মানুষ

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২১ | আপডেট: ৭:৪৩:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২১

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ত্রস্ত সমগ্র ভারত। এই মহামারী উপেক্ষা করেই কুম্ভমেলায় যোগ দিয়েছিলেন দেশটির অজস্র মানুষ। এই ধর্মীয় মিলনক্ষেত্রে যাঁরা যোগ দিয়েছিলেন এবং গঙ্গায় স্নান করতে নেমেছিলেন তাঁদের অধিকাংশের মুখেই মাস্ক ছিল না। ছবিতে ধরা পড়েছে এমনই। বুধবার এই কুম্ভমেলায় উপস্থিত অসংখ্য মানুষের শরীরে ইতোমধ্যেই ধরা পড়ছে করোনা ভাইরাস।

নিউজ এইটিন-এর প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, ১০ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল বিকেল ৪টের মধ্যে অন্তত ১০৮৬ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। বুধবার ফের শাহী স্নানে নামেন আরও অনেকে। সোমবার ৩০ লক্ষের বেশি পুণ্যার্থী গঙ্গাস্নানে নেমেছিলেন। প্রায় কারও মুখেই ছিল না মাস্ক। হরিদ্বার, দেহরাদুন, পাউরি, তেহরি সহ বিভিন্ন এলাকায় ৩৮৭জনের শরীরে ধরা পড়ে করোনা। এর পরে ৬৬,২০৩ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় মিলনক্ষেত্রে প্রতিবারই লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় হয়। প্রতিদিনই ১০ লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ মানুষের ভিড় হয়। গোটা এই উৎসব মিলিয়ে মোট ১ কোটি থেকে দেড় কোটি মানুষ অংশ নেন। আর তাই মাত্র দুদিনের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১০০০ জনের বেশি মানুষ।

উত্তরাখণ্ডের স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে ১৯২৫ জন করোনা আক্রান্চ হয়েছেন এবং ১৩ জনের মৃত্যপ হয়েছে। দএর মধ্যে দেহরাদুনে ৭৭৫ জন, হরিদ্বারে ৫৯৪ জন এবং নৈনিতালে ২১৭ জন, এবং উধাম সিং-এ ১৭২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু এর মধ্যেও হরিদ্বারে আরও একটি পুণ্যস্নানের ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই কুম্ভমেলাই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সুপার স্প্রেডার হয়ে উঠতে পারে।

কেন্দ্রীয় সরকার সূত্র থেকে জানা গিয়েছে বৈঠকের সময় এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, যদি সরকারের তরফে নির্ধারিত সময়ের আগে কুম্ভমেলা শেষ করে না দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে তা ‘সুপার স্প্রেডার’-এ পরিণত হতে পারে। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে সরকারের তরফে একটি দল গঠন করা হতে চলেছে ৷ ওই দলের কাজ হবে সব সাধু ও ধর্মীয় নেতাদের সাহায্য নিয়ে কুম্ভে মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং করোনা সংক্রান্ত অন্যান্য বিধি নিষেধ মেনে চলার আবেদন করা৷