কুরিয়ার সার্ভিস পরিচালনায় হবে নতুন কর্তৃপক্ষ

প্রণীত হচ্ছে ডাক আইন ২০১৮

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ | আপডেট: ১:০৫:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ডাক পরিবহন এবং মেইলিং অপারেট ও কুরিয়ার সার্ভিস পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি আইন প্রণয়ন করছে সরকার। যা ‘দ্য পোস্ট অফিস এ্যাক্ট-২০১৮’ নামে অভিহিত হবে। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য মৌলিক যোগযোগের একমাত্র কর্তৃত্বপ্রাপ্ত ডাক সেবা প্রদানকারী সরকারি সংস্থা হবে ডাক বিভাগ।

যা দেশে ইউনির্ভাসাল ডাক সেবা প্রদানকারী একমাত্র প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিভাবে বাংলাদেশ পোস্ট হিসেবে পরিচিত হবে। এই আইন জারি হলে সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রনের জন্য একটি লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ গঠন করবে। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেবে সরকার।বর্তমান মেইলিং অপারেটর বা কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবসা পরিচালনাকারীরা লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ গঠনের দিন থেকে তিন মাসের মধ্যে লাইসেন্সের জন্য নবগঠিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।

১৮৯৮ সালের পোস্ট অফিস এ্যাক্ট যুগোপযোগী ও হালনাগাদ করার অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে উল্লিখিত বিধিবিধান রেখে ‘দ্য পোস্ট অফিস এ্যাক্ট ২০১৮’ এর খসড়া তৈরি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেয়া হয়েছে।আইন অনুসারে অন্যান্য সেবার পাশাপাশি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র, ডাক জীবন বীমা, প্রাইজবন্ড, রাজস্ব স্ট্যাম্প বিক্রয়, এক্সাইজ স্ট্যাম্পস বিক্রয়, নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পস বিক্রয়, ব্যান্ডরোলসহ সরকার নির্ধারিত সেবা প্রদান করবে ডাক বিভাগ।

দেশের যেসব স্থানে ডাক সেবা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেই সব স্থানে ডাক সেবা প্রদানের জন্য কোন কর্মকর্তা কর্মচারি প্রাপকের কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান বা সুবিধা গ্রহণ ব্যতিত সেবা প্রদান করবেন। জল, স্থল ও আকাশপথে প্রাপকের কাছে ডাক পৌছানো হবে। অন্ধ, বধির, প্রতিবন্ধী, ব্যক্তি, অটিস্টিকসহ বিশেষায়িত চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ প্রকৃতির শিক্ষা সামগ্রী ডাক অধিদপ্তর বিনামূল্যে গ্রহণ, পরিবহন ও বিতরণ করবে। এই সংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে সরকার। ডাক বিভাগ জনস্বার্থে ও ডাক সেবার উন্নয়নে ইউনিভার্সেল ডাক সেবা সংশোধন, পুনঃবিন্যাস, প্রযুক্তি গ্রহণ, দ্রত সেবা নিশ্চিতে নতুন সেবা প্রদান করা হবে।

সম্মত শর্তে কোন ব্যবসায়িক সত্তা, কোম্পানীর কাছ থেকে সেবা গ্রহণ বা এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারবে। একই ভাবে কোন ব্যবসায়িক সত্তা, কোম্পানীর কাছে ডাকঘর প্রাঙ্গণের অংশ বিশেষ, কাউন্টার, সুবিধা অথবা কোন স্থাপনা প্রযুক্তি ভাড়া প্রদান করতে পারবে। ডাকা প্রাঙ্গন কাউন্টার, সুবিধাদি ভাড়া প্রদান বাবদ কমিশন, ফিস গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এজেন্টের সেবার হার, ট্যারিফ, ফিসও নির্ধারিত থাকবে। ডাক বিভাগের সেবাসমূহের সম্প্রসারণ, উন্নয়নের জন্য এই আইনের অধীনে অনুমোদিত কোন ব্যবসায় এজেন্সী সেবাসমূহ গ্রহণ এবং ক্রয় করতে পারবে।

নতুন ব্যবসায়িক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পোস্টশপ, ই কমার্স, এড্রেস ডাটাবেজসহ অন্য কোন ডাটাবেজ চালু, বাণিজ্যিক সুবিধার্থে দেশী বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন বিনিময় ও আন্তঃবিনিময় করতে পারবে। রেমিটেন্স ট্রান্সফার সেবা, ব্যাংকিং সেবা, ডাক জীবন বীমা এককভাবে প্রদান করতে পারবে।

ইউনিভার্সাল ডাক সেবার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, চিঠিপত্র, রেজিস্টার্ড চিঠিপত্র, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পার্সেল, বিমা সার্ভিস, ভ্যালু পেয়েবল সার্ভিসেস, মানি অর্ডার, গ্যারান্টি এক্সপ্রেস পোষ্ট(জিইপি), এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস (ইএমএস), সরকার নির্ধারিত ডাক সেবা যা জনগণের কাছে পৌছাতে সরকার অঙ্গিকারবব্ধ।

ডাক দ্রব্যাদি বলতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে ডাকযোগে পাঠানো বাণিজ্যিক ও অবাণিজ্যিক ডাক দ্রব্যাদি অর্থাৎ পোস্ট কার্ড, মুদ্রিত কোন বার্তা, পান্ডুলিপি, ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক বা অন্য যেকোন প্রকারের মোড়ক, সাধারণ চিঠিপত্র, রেজিস্টার্ড চিঠিপত্র, নিউজ পেপার, অভ্যরীণ ও আন্তর্জাতিক পার্সেল, বিমা সার্ভিস, ভ্যালু পেয়েবল সার্ভিসেস, মানি অর্ডার, জিইপি, ইএমএস, লজিস্টিকস সেবা, ডকুমেন্টস সার্ভিস, পার্সেল সার্ভিস, ডেলিভারি সার্ভিস, এক্সপ্রেস সার্ভিস, বিশেষায়িত ও প্রিমিয়ার পোস্ট সার্ভিস এবং সরকার ঘোষিত ডাকে বোঝানো হয়েছে।

জিইসি অর্থ নির্ধারিত সময়ে প্রাপকের কাছে ডাক দ্রব্য পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রতি এবং ইএমএস অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রহণ ও প্রেরণের জন্য প্রতিশ্রুত আন্তর্জাতিক ডাক সেবা। খসড়া আইনে লজিস্টিক সার্ভিস বলতে পার্সেল ছাড়া ওজন নির্বিশেষে শুল্ক কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত তালিকা মোতাবেক বৈধ যাবতীয় দ্রব্যাদি প্রেরকের কাছ থেকে নির্ধারিত মাশুল গ্রহণ সাপেক্ষে লিখিত ঘোষণাপত্র সংগ্রহপূর্বক শুল্ক ও অন্যান্য কর পরিশোধপূর্বক পাঠানো স্থান থেকে গুদামজাতকরণ, বোঝাইকরণ, খালাসকরণ, মোড়কীকরণ বা ইনভেন্টরীক্রমে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ পূর্বক পরিবহণ করে নির্ধারিত গন্তব্যে প্রাপকের কাছে পৌছানো বা সরবরাহের জন্য প্রদত্ত সেবা।

ডকুমেন্ট বলতে দুই কেজি ওজনের হস্তলিখিত, মুদ্রিত, মোড়ক, বান্ডিল বা এনভেলাপের মধ্যে আটকানো কোন দ্রব্য প্রেরকের কাছ থেকে নির্ধারিত মাশুল গ্রহণ করে প্রাপকের কাছে প্রাপ্তি স্বীকার রশিদমূলে বিতরণ করা। পার্সেল সার্ভিস বলতে ডকুমেন্ট ব্যতিত কার্টন, প্যাকেট প্রতি অনুর্ধ্ব ৩০ কেজি পর্যন্ত ওজনের কোন দ্রব্য প্রেরকের কাছ থেকে মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মাশুল গ্রহণ সাপেক্ষে লিখিত ঘোষণাপূর্বক তা পরিবহণ করে শুল্ক, কর, মাশুল পরিশোধ সাপেক্ষে প্রাপকের ঠিকানায় তার প্রাপ্তি স্বীকার গ্রহণপূর্বক বিতরণের জন্য দেয়া সেবাকে বোঝানো হবে।

আইনে ডাক অধিদপ্তর, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক ডাক দ্রব্যাদি সংগ্রহ, বহন, যাচনা বা বিলি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতারণামূলক বা ইচ্ছাকৃত ছাড়া অন্য ভাবে কোন ডাক দ্রব্য হারানো গেলে, বিলিতে ত্রুটি, বিলম্বে বা ক্ষতির দায় দায়িত্ব সরকার বহন করবে না। ডাক ঘরের কোন কর্মকর্তা কর্মচারিও উল্লিখিত দায়ে দায়িত্ব বহন করবেন না। তবে কি কি করলে প্রতারণা হবে বা ইচ্ছাকৃত ত্রটি ছিলো তার কোন ব্যাখ্যা আইনে দেয়া হয়নি।

ডাক গ্রহণকালে গ্রহণকারী সামনেই মোড়কীকরণ করে প্রেরককে ঘোষণাপত্র দিতে হবে এতে আইনে নিষিদ্ধ কোন পণ্য নাই। মেইলিং অপারেটর বা কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের জন্য গঠিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রশাসনিক আওতাধীন একটি পৃথক সংস্থা হিসেবে গঠিত হবে। এই সংস্থার কার্যক্রম কর্মপরিধি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে। সরকার এই আইনের আওতায় মেইলিং অপারেটর বা কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের মেইলিং সেবা ব্যবসা পরিচালনার শর্তবলী আরোপ করবে।

সরকার লাইসেন্স ফি, চার্জ ও কমিশন নির্ধারণ করবে। এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালা অমান্য করলে মেইলিং অপারেটর বা কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের দণ্ড ও শাস্তির বিধান করা করা হবে। এই আইনের অধীনে সরকার একটি জাতীয় কুরিয়ার সার্ভিস নীতি প্রণয়ন করবে। রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য হুমকিস্বরূপ কোন দ্রব্যাদি গ্রহণ, পরিবহন, বিতরণ করলে ওই মেইলিং অপারেটর বা কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শুল্ক কর্তৃপক্ষ, লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে কুরিয়ার দ্রব্যাদি বহনকারী যানবাহনের গতিরোধ করতে পারবে। যারা এই আইন ও বিধির শর্ত মেনে আবেদন করবেন না তারা কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স পাবেন না। তবে আবেদনকারীকে ৩০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স না দেয়ার কারণ লিখিত আকারে জানাতে হবে। শর্ত ভঙ্গ করলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করতে পারবে। তবে ১৫ দিন সময় দিয়ে জবাব দেয়ার সুযোগ কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে শুনানির যুক্তিযুক্ত সুযোগ দেয়া হবে।

আইনে ডাক মাশুল বলতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ডাকযোগে পাঠানো বাণিজ্যিক অবাণিজ্যিক ডাক দ্রব্য পরিবহণের বিনিময়ে কাছ থেকে টিকিটের মাধ্যমে বা অন্য কোন উপায়ে আদায় করা মাশুল। যাকে পাওয়া যাবে না বা মৃত ব্যক্তির কাছে পাঠানো ডাকের মাশুল প্রেরক বহন করবেন।