কুষ্টিয়ায় আ’লীগ সভাপতিকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৫৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৫৩:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০১৮

কুষ্টিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতিকে চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতাল থেকে করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

স্বজনদের অভিযোগ সরকারি হাসপাতালের ওই চিকিৎসক প্রভাবশালী অপর এক চিকিৎসক নেতার প্রভাবে রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে দ্রুত হাসপাতাল থেকে বের করে দিয়েছেন।

সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়া হাউজিং এলাকায় একটি বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন ওই রোগীর স্বজনরা।

আহত রোগীর নাম হাফিজুর রহমান খান ওরফে হাফিজ। তিনি কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড শালঘর মধুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, স্থানীয় রাজনীতির রোষানলে পড়ে তিনি সরকারি হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমানে হাফিজ খান কুষ্টিয়া শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মামলার এজাহার ও রোগীর স্বজনদের তথ্যমতে, গত ২১ আগস্ট মঙ্গলবার শোক দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক পক্ষের বখাটে যুবকরা বাগুলাট ইউনিয়নের শালঘর মধুয়া বাজারে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন। এ ঘটনায় হাফিজুর রহমান ওই যুবকদের মোটরসাইকেলসহ আটক করে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হন যুবকরা।

এ ঘটনার জেরে গত ২৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে হাফিজুর রহমান শালঘর মধুয়া বাজারের কাছে গেলে সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আবদুল বারী, রেজাউল, আবু জাফরসহ ১৫-২০ জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে।

পরে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল নেয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়ার পর দ্রুত হাসপাতালের অস্ত্র পচার কক্ষে নেওয়া হয়। কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই পায়ে কয়েকটি সেলাই দিয়ে রাখা হয়। পরের দিন শুক্রবার হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ও সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক রাজিবুল হাসান ওই রোগীকে ছাড়পত্র দিয়ে দেন। শনিবার সকালে হাফিজুর রহমানকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার পর তাকে কুষ্টিয়া শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেন। সেখানে ওই সরকারি হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নাজমুল হুদা জানান, হাফিজুরের ডান পায়ের ফিবুলা হাড়টি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেছে।

হাফিজুরের ভাতিজা অভিযোগ করেন, অনেকটা বাধ্য হয়েই শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চাচাকে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে এক্স-রে সিটিস্ক্যান করে রিপোর্ট অনুসারে তার ডান পা ও ডান হাত ভেঙে গেছে। মাথায় গুরুতর আঘাতের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক রাজিবুল হাসান চিকিৎসা না দিয়ে আমাদের সঙ্গে চরম খারাপ আচরণ করেছেন। চাচার সব ব্যান্ডেজ খুলে দিয়ে কিছু হয়নি বলে জোর করে রিলিজ করে দেন। রাতটা হাসপাতালে থেকে সকালেই আমরা চলে আসি।

আহত আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজ জানান, মামলার এজাহারে কুষ্টিয়া শহরের একজন চিকিৎসকের কাছে আত্মীয়ের নাম থাকায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েও চিকিৎসা না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে। ওই দিনই ব্যান্ডেজ খুলে দিয়ে সেরে গেছেন বলে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে দেয়।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে চিকিৎসক রাজিবুল হাসান বলেন, রোগীর স্বজনদের করা অভিযোগ সঠিক নয়। রোগীর সঙ্গে কথা বলেই তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। রোগী শুধু পায়ে ব্যথার কথা বলেছেন, এ জন্য ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, এ ধরনের ঘটনা তার জানা নেই। তবে এটি দুঃখজনক ঘটনা। কোনো চিকিৎসক যদি ব্যক্তিগত কারণে এটা করে থাকে তাহলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।