কুড়িগ্রামে ‘গজবের ভয় দেখিয়ে’ কওমি শিক্ষকের ‘ধর্ষণ’, শিশু অন্তঃসত্ত্বা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৫৬:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘গজবের ভয় দেখিয়ে’ চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সাড়ে পাঁচ মাস ধরে শারীরিক সম্পর্কে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে বলেও জানিয়েছেন স্বজনরা।

শিশুটির পেটের ভ্রুণের বয়স এখন পাঁচ মাস, আর মাও আছে ঝুঁকিতে। যদিও মাদ্রাসা শিক্ষক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগটি উঠেছে রৌমারীর উত্তর বাইটকামারী কওমি মাদ্রাসার মুহ্তামিম মাওলানা আব্দুল বাছেদের বিরুদ্ধে।

স্বজনরা জানান, মেয়েটি মাদ্রাসার ছাত্রী নয়। সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। কোরআন শিক্ষা নিতে সে সাড়ে পাঁচ মাস আগে সে বাছেদ হুজুরের কাছে যায়। আর বাছেদ গজবের ভয় দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করেন।

আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক কারও সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো ধর্ষণের শামিল। তাকে যে কথা বলেই সম্মতি আদায় করা হোক না, বিচার হবে ধর্ষণবিরোধী আইনে।

মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে স্বজনরা ২৯ আগস্ট তাকে রৌমারী স্বাস্থ্য কপপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান মেয়েটি মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

মেয়েটির বাবা বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, আমার মেয়েকে পাঁচ মাসের গর্ভবতী করছে মাদ্রসার হুজুর। আমি কার কাছে বিচার দিমু? আমার বিচার কেডা করব?’

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গ্রামের মাতুব্বররা ওই মাদ্রাসা শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে মীমাংসার চাপ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মেয়েটির বাবা।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কাবেল উদ্দিন বলেন, ‘চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বার ঘটনা সম্পূর্ণ সত্য। এলাকাবাসী বসে আপোষ মীমাংসা করার কথা বলছে শুনছি। এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো পক্ষ আসে নাই।’

ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর মাদ্রাসা শিক্ষক বাছেদ আর এলাকায় নেই। তিনি রংপুরে আছেন বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি।

মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মাদ্রাসা শিক্ষক বাছেদ দাবি করেন, তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি টাকা-পয়সা দিয়ে বিষয়টির মীমাংসার দায়িত্ব নিয়েছেন।

জানতে চাইলে বন্দবের ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উত্তর বাইটকামারী কওমি মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, তার কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি।