কৃষকদের কাছে অবশেষে নতিস্বীকার করলো মোদি সরকার

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:০২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২০ | আপডেট: ৮:৩১:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২০

কৃষকদের আন্দোলনের কাছে নতিস্বীকার করল নরেন্দ্র মোদী সরকার। কৃষকদের সঙ্গে শর্তহীন আলোচনায় রাজি তারা।

সোমবার গভীর রাতে সরকার জানায়, কৃষকদের শর্তেই তারা আলোচনায় বসতে রাজি। সে অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় উভয় পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বৈঠকের সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।

পাঞ্জাব, হারিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান ও কেরালা থেকে হাজার হাজার কৃষকের মিছিল রাজধানীমুখী যাত্রা শুরু করে। দিল্লি সীমান্তে আটকে দেয়া হলে সেখানে প্রধান দুই সড়ক বন্ধ করে অবস্থান নিয়েছেন তারা। এতে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পুরো রাজধানী।

নিরাপত্তা বাহিনী ব্যারিকেড, লাঠিপেটা, জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও টিয়ার শেল ছুড়েও থামাতে পারেনি এই ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচি। সীমান্তে পৌঁছালে সরকার জানায়, তারা সড়ক ছেড়ে ১৬ কিলোমিটার দূরের বুরারি ময়দানে অবস্থান নিলে আলোচনায় বসা হবে। কিন্তু তাতে সাড়া না দিয়ে নিঃশর্তে আলোচনায় বসার আহ্বান জানায় কৃষকরা।

এর পরই গত রোববার মাসিক রেডিও ভাষণে কৃষি আইনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান নরেন্দ্র মোদি। এতে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করে। দিল্লির উত্তর সীমান্ত কব্জা করে তাঁবু খাটিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করে তারা। নিজেদের ট্রাক্টর ও ট্রলিতে কয়েক মাসের খাবার ও শীতের জিনিসপত্র নিয়ে এসেছেন তারা।

ডয়চে ভেলের খবরে বলা হয়, সরকার নিঃশর্ত আলোচনায় বসার কথা বললেও বিতর্কের পুরোপুরি অবসান ঘটছে, তা বলা যাচ্ছে না এখনো। চলমান আন্দোলনে ৫০০’র বেশি সংগঠন জড়িত। এর মধ্যে ৩২টি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসছে সরকার। যারা ডাক পাননি তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।

এরইমধ্যে পাঞ্জাব কৃষক কমিটি জানিয়েছে, আন্দোলনরত সকল সংগঠনকে ডাকার পরই কেবল আলোচনায় অংশ নেবে তারা।

কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র তোমর জানিয়েন, কৃষকরা আন্দোলনের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় আগে আন্দোলনে বসা সম্ভব হয়নি। এখন শীত ও করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত তাদের শর্ত মেনেই আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কৃষক নেতারা জানান, সারা দেশে কৃষক ভোট হারাবার আশঙ্কায় আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়ে সরকার মুখ রক্ষার জন্য শীত ও করোনার কথা বলছে। শীতের মধ্যেও গত ৬দিন ধরে কৃষকদের ওপর জলকামান নিক্ষেপ করা হয়েছে, করোনার বিচারে প্রথমেই নিঃশর্তে আলোচনায় বসতে পারতো সরকার।

জানা যায়, ভারত সরকার গত সেপ্টেম্বরে ৩টি কৃষি সংস্কার বিল পাশ করে। এর প্রথমটিতে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত পাইকারি কৃষি বাজার বাতিল করা, দ্বিতীয়টিতে ফসলের আগে দাম ঠিক করে চুক্তিভিত্তিক চাষ বাড়ানো এবং উৎপাদকদের ফসল মজুদ করার ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বিলোপ করার কথা বলা হয়েছে।

তবে কৃষকরা বলছেন, নতুন এসব বিল তাদের স্বার্থবিরোধী। এর ফলে কৃষি খাতে প্রাইভেট ফার্ম চালক বনে যাবে এবং সাধারণ কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর বিরুদ্ধে শুক্রবার বিবৃতি দিয়ে হরিয়ানার দিল্লি সীমান্তে ৫০ হাজার ‍কৃষক জড়ো করার ঘোষণা দেয় কৃষকদের দুটি সংগঠন।