কেকেআরের প্রথম শিরোপা জয়ে সাকিবের কি কোনই অবদান ছিলনা?

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০ | আপডেট: ৯:০৪:অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০

আইপিএল এর পঞ্চম আসরে (২০১২) প্রথমবারের মত শিরোপা ঘরে তুলে নেয় শাহরুখ খানের কোলকাতা নাইট রাইডার্স। টানটান উত্তেজনায় ঘেরা ফাইনালে চেন্নাই সুপার কিংস কে ৫ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা নামের সোনার হরিণ ছিনিয়ে নেয় কেকেআর। সম্প্রতি সেই জয়ের স্মৃতিচারন করতে গিয়ে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে ফ্রাঞ্চাইজিটি।

গত বুধবার কোলকাতা নাইট রাইডার্স এর অফসিয়াল টুইটারে একটি পোস্ট করা হয়। ধন্যবাদজ্ঞাপনে ট্যাগ করা হয় গম্ভীর, সেই ম্যাচের সেরা মনবিন্দর বিসলা, তারকা স্পিনার সুনীল নারিন, প্রাক্তন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটার ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং প্রাক্তন অজি তারকা ব্রেট লি-কে। আর এতেই চটে যান ক্রিকেটার সাবেক কেকেআর তারকা মনোজ তিওয়ারি। উল্টে টুইটারে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।

টুইটারে মনোজ তিওয়ারি লেখেন, ‘হ্যাঁ। আমার মতো অনেকেরই স্মৃতিতে, অনুভূতিতে জীবিত থাকবে ওই মুহূর্তগুলি। তবে এই টুইট দেখার পর অপমানিত মনে হচ্ছে। আমাকে বা সাকিবকে তো ট্যাগও করা হল না।’

কেমন ছিল সেই ফাইনালটি?

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে চেন্নাই সুপার কিংস ২০ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯০ রান সংগ্রহ করে। চেন্নাইয়ের হয়ে ওপেনার মাইক হাসি ৫৪ ও আরেক ওপেনার মুরালি বিজয় করেন ৪২ রান। ৮৭ রানের উদ্ভোধনী জুটি ভাঙ্গেন রজত ভাটিয়া। সাকিবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মুরালি বিজয়। ১৬০ রানের মাথায় মাইক হাসিকে ফেরান জ্যাক ক্যালিস।

চেন্নাইয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেন সুরেশ রায়না। ২০ তম ওভারের শেষ বলে সুরেশ রায়নাকে ফেরান সাকিব নিজেই। শেষ ওভারে সাকিব দেন মাত্র ৮ রান। ৩ ওভার বল করে ২৫ রান দিয়ে সাকিব নিয়েছিলেন ১ উইকেট। সেই ফাইনালে ২য় সেরা ইকোনমিক্যাল বোলার ছিলেন সাকিব।

১৯১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে অধিনায়ক গৌতম গাম্ভির ফিরে গেলেও ২য় উইকেট জুটিতে জ্যাক ক্যালিসকে সঙ্গে নিয়ে মানবিন্দর বিসলা ১৩৬ রানের জুটি গড়েন। বিসলা ৮৯ রান করে আউট হন।

মানবিন্দর বিসলা ফিরে গেলেই দ্রুত আরো ৩টা উইকেট খুইয়ে ফেলে কেকেআর। ১৭৫ রানের মাথায় জ্যাক ক্যালিস ব্যক্তিগত ৬৯ রান করে আউট হয়ে গেলে ম্যাচের ভার এসে পড়ে মনোজ তিওয়ারি ও সাকিব আল হাসানের উপর। তখনো জিততে প্রয়োজন ছিল ৭ বলে ১৬ রান! ঠিক ওই মুহুর্তে সাকিব ১৯ তম ওভারের শেষ ২ বল থেকে নেন ৭ রান (যদিও একটা নো বল ছিল)।

শেষ ওভারে ৯ রানের প্রয়োজন পড়লে ২ বল হাতে রেখে জয়ের লক্ষ্যে পৌছে যায় কেকেআর। ২০ তম ওভারের ৩য় ও চতুর্থ বলে বাউন্ডারি মেরে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন মনোজ তিওয়ারি। সাকিব ৭ বলে ১১* রান এবং তিওয়ারি ৩ বলে ৯* রান করেন।

সেদিনের ফাইনালে ম্যাচ জিতাতে শেষ মুহুর্তে সাকিব ও তিওয়ারির অসামান্য অবদান ছিল। আর বুধবার কেকেআর এর সেই টুইটে তাদের দুজনের নাম না থাকায় এজন্যই ক্ষেপে যান তিওয়ারি। সেই আসরে শিরোপা জয়ের পিছনে তিওয়ারি ও সাকিবের কি কোনই অবদান ছিলনা? এমন প্রশ্নই হয়ত তিওয়ারি করেছেন তখন।

জয়ের আনন্দে সাকিবের দিকে এগিয়ে আসছেন ওয়াসিম আকরাম

যদিও তিওয়ারির করা টুইটের পাল্টা জবাব দিয়েছে কেকেআর। কেকেআর লেখে ‘বিশেষ ওই রাতে, তোমার মতো বিশেষ নাইটকে আমরা কখনই ভুলতে পারি না। তুমি বরাবরই ২০১২ কাপ জয়ের হিরো থাকবে।’

উল্লেখ্য সে আসরে বল হাতে ৮ ম্যাচে ১২ উইকেট লাভ করেন সাকিব। ব্যাট হাতেও করেন ৭ ইনিংসে ৯১ রান। অপরদিকে ১৬ ম্যাচে ২৬ গড়ে ২৬০ রান করেন মনোজ তিওয়ারি।

-ডেইলি ক্রিকেট।