কেন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সিজারিয়ান প্রসব, পরিণতি কী?

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ | আপডেট: ৫:২৫:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮

টিবিটি স্বাস্থ্য-কথাঃ বাংলাদেশে সিজারিয়ান প্রসব যেন এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে স্বাভাবিক হারের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি সিজারিয়ান প্রসব হচ্ছে। অস্বাভাবিক এই প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রয়োজনের তাগিদে নাকি মুনাফার লোভে বেড়েছে মা ও শিশুর জন্য এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রসব?

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু হার জরিপ-২০১৬ অনুযায়ী সাত বছরে দেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার বেড়েছে ১৯ শতাংশ। আর এর ৭৯ শতাংশই হয় বেসরকারি হাসপাতালে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, যে কোনো দেশে সিজারিয়ান প্রসব মোট প্রসবের ১০-১৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত থাকা উচিত। অথচ বাংলাদেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার ৩১ শতাংশ। এটি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ।

এর কারণ হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আকতার বলছেন, ‘সবার ধৈর্য্য কমে গেছে। আমার যেটা মনে হয়, রোগীদের, রোগীর আত্মীয়দের এবং ডাক্তারদেরও ধৈর্য্য কমে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘সিজারিয়ান বাচ্চার জন্মের সময় মাথায় চাপ পড়ে না। তাই বাচ্চা মেধাবী হবে শিক্ষিত মায়েদের মধ্যে এমন ধারণা খুব কাজ করে।’

অধ্যাপক সায়েবা আকতার বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে জুনিয়র ডাক্তারদের ওপর চাপ থাকে সিজার করানোর জন্য। কমার্শিয়াল (ব্যবসায়িক) কারণ তো অবশ্যই অস্বীকার করা যায় না।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে ১০ লাখ সিজারিয়ান প্রসব হচ্ছে যার ৭৯ শতাংশই হয় বেসরকারি হাসপাতালে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাহানূর ইসলাম বলেন, ‘নরমাল ডেলিভারির বাচ্চার ফুসফুস স্বাভাবিক থাকে। জন্মের পর পর বাচ্চা স্বাভাবিক শ্বাস নেয়।’

‘সিজারিয়ান বাচ্চা যেহেতু আগেই ডেলিভারি হচ্ছে, তাই তার ফুসফুস পুরোপুরি গঠন হয় না। সেক্ষেত্রে বাচ্চাটি শ্বাসকষ্ঠে ভুগবে। বড় হয়ে অ্যাজমাজনিত সমস্যায় পড়তে পারে’ যোগ করেন তিনি।

স্কুলশিক্ষকা সায়েকা সরওয়ার শচি বলেন, ‘সিজারের আগে অ্যানেস্থেশিয়ার ইনজেকশন দেয়া হয় কোমরে। এটা খুবই পেইনফুল। আমার বাচ্চার দুই বছর হয়ে যাচ্ছে, অথচ এখনো আমি ব্যথাটা সহ্য করে যাচ্ছি। আর আমার শারীরিক যে শক্তিটা ছিল, সেটা অনেক কমে গেছে।’

চিকিৎসকরা বলছেন, এই সিজারিয়ান প্রসবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও অ্যানেস্থেশিয়া জটিলতার ঝুঁকিতে পড়েন অনেক প্রসূতি। তাই এখনই এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সচেতন হওয়া জরুরি।

বিবিসি বাংলা