কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা লুমা গুজবের মামলায় রিমান্ডে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:২১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ৩:২১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা লুৎফুর নাহার লুমা ওরফে নীলা ওরফে লুমাকে নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে গুজব ছড়ানোর মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রমনা থানার তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী কামরুল ইসলাম আসামির জামিন নাকচ করে রিমান্ডের ওই আদেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জায়েদুর রহমান যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আবেদনে বলা হয়, গত ২৯ জুলাই ঢাকার এয়ারপোর্ট রোডে দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন করে।

ওই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটানোর জন্য বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যাভাবে প্রচারিত বিভিন্ন উসকানিমূলক লেখা, পোস্ট, ফটো কিংবা ভিডিওর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওই মামলায় ১৭ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত ফেসবুক আইডি পরিচালনাকারী হলেন লুমা। আসামির টাইমলাইনে পোস্ট করা অশ্রাব্য স্ট্যাটাস দেখে যে কেউ নীতিভ্রষ্ট হতে পারে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। আসামি সক্রিয়ভাবে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আসামির সহযোগীদের শনাক্ত, অপ্রচার বন্ধ ও মামলার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।

অপরদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী নূর উদ্দিন, জায়েদুর রহমানসহ প্রমুখ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, লুমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। আসামিকে কেন রিমান্ডে নেয়া হতে তা সুস্পষ্ট নয়। মেয়েটির বাবা আব্দুল কুদ্দুস একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি মারা গেছেন। আসামির কোনো ভাই নেই। তারা তিন বোন। আসামি গরিব মানুষ।

তারা বলেন, আসামির নামে একটা কথিত ভিডিও চালিয়ে দেখানো হয়েছে। এর মাধ্যমে রিমান্ড আবেদন অযৌক্তিক। এতে মেয়েটির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে। লুমা ষড়যন্ত্রের শিকার। তাকে জামিন দেয়া হোক। আর জামিন না দেয়া হলে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন নাকচ করে রিমান্ডের ওই আদেশ দেন।

রিমান্ড শুনানিতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন লুনার মা রাশেদা বেগম। মেয়ের রিমান্ডের কথা শুনেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তিনি বলেন, রিমান্ডে নিলে আমার মেয়ে মরে যাবে। তিনি তার মেয়েকে নির্দোষ দাবি করে মুক্তির দাবি জানান।

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী লুমা।

বুধবার সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার খিদ্রচাপড়ি এলাকায় দাদার বাড়ি লুনাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের কাউন্টার টেররিজমের পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করছেন।

এদিকে একই দিন কোটা সংস্কার আন্দোলনের অপর নেতা মো. সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রনি ওরফে রাতুলের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত।

শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী কামরুল ইসলাম জামিন নাকচের এ আদেশ দেন।

কোটা আন্দোলনের সময় পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা দেয়ার মামলায় ৮ আগস্ট আসামি সাখাওয়াতকে আদালতে হাজির করলে আদালত আসামির একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওই মামলায় রিমান্ড শেষে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের এ মামলায় ১০ আগস্ট আসামিকে আদালতে হাজির করলে আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর ১৩ আগস্ট তৃতীয় দফায় এক দিনের আসামির রিমান্ড মঞ্জুর হয়।