কোনাবাড়ীতে জজ-ম্যাজিস্ট্রেট সেজে প্রতারণা, আটক ৫

প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯ | আপডেট: ৫:২৫:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী বাইমাইল হাজী কলোনীর নুরুল ইসলাম এর বাড়ি থেকে ভূয়া জেলা জজ ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো মো. মাসুদ রানা (৩৫), মোছা. গুলশান আরা লিজা(২৮) যারা স্বামী-স্ত্রী। তাদের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ি থানার বলিভদ্র গ্রামে। মো. রাজু আহম্মেদ (৪০), আকলিমা আক্তার (২৫), উভয়েই স্বামী-স্ত্রী । একই জেলার ভূয়াপুর থানার মাটিকাটা গ্রামে এবং মোছা. তাছলিমা খাতুন,সে পাবনা সদর থানার বাসিন্ধা। এসময় তাদের নিকট থেকে ১৪ টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কিছুদিন পুর্বে জেলা জজ ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট র‌্যাব ১ কে জানান যে, একটি প্রতারক চক্র তারা নিজেদেরকে জেলা প্রশাসক, জেলা জজ এবং চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট পরিচয় দিয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারী দফতরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বড় বড় কলকারখানা মালিকদের মোবাইল কোর্টের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে, মিথ্যা লাশ সৎকার করবে বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

এতে বিচার বিভাগসহ সরকারী প্রশাসনের চরম ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় জেলা জজ ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটদ্বয় এই চক্রকে গ্রেফারের জন্য র‌্যাব-পুলিশের সাহায্য চান।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাত্র র‌্যাব-১, স্পেশালাইজড কোম্পানী, পোড়াবাড়ী ক্যাম্প গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানাধীন বাইমাইল হাজী কলোনী এলাকার জনৈক নুরুল ইসলাম এর ছয়তলা বাসার তৃতীয় তলার পশ্চিম পাশের ফ্লাটে ভূয়া জেলা জজ ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর একটি চক্র অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অত্র কোম্পানীর এশটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে।

তিনি আরো জানান,আসামীরা জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদেরকে এই প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করে এবং তারা জানায় নিজেদেরকে বিভিন্ন সময় ভূয়া জেলা জজ ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক পরিচয় দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র,জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, উর্ধ্বতন বন কর্মকর্তা, ম্যানেজার জাতীয় ভাওয়াল উদ্যান, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারী, ও বেসরকারী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সময়ে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়।

উক্ত প্রতারক চক্রের সদস্য বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং এদের প্রত্যেকেরই ৭ থেকে ৮ টা করে বিকাশ নম্বর রয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, তারা সবাই একই পন্থায় বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নম্বর সংগ্রহ করে, কখনো চীফ জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কখনো জেলা প্রশাসক, কখনো জেলা জজ, আবার কখনো সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মিল কারখানার মালিক এবং নিরীহ মানুষদেরকে হয়রানী করে আসছে।

গ্রাহকদেরকে ফোন করে তারা তাদের নিকট আত্মীয়দের বিপদের কথা বলে তাদেরকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা আত্মসাৎ করে। ধৃত আসামীরা এই প্রতারনামূলক কাজ দীর্ঘদিন যাবৎ করে আসছে। তাদের এই প্রতারণার মাধ্যমে প্রাপ্ত টাকা বিকাশের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।

উদ্ধারকৃত মোবাইল, সীমকার্ড এবং গ্রেফতারকৃত আসামীরদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।