কোন স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই ঝুঁকি নিয়ে দৌলতদিয়ায় মানুষের ঢল!

প্রকাশিত: ৯:১৩ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০২০ | আপডেট: ৯:১৩:অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০২০
ছবি: টিবিটি

স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব না মেনেই করোনা উপক্ষো করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শনিবার সাড়াদিন দৌলতদিয়া ঘাটে এসে ফেরিতে গাদাগাদি করে পদ্মা পার হয়ে ঢাকায় ফিরছে হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ। ঈদের ছুটির শেষ দিনে কর্মস্থলে ঢাকাগামী দক্ষিনাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের ঢল নেমেছিল দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে শনিবার সকাল থেকেই। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মানুষের স্্েরাত এত বেড়ে যায় যে পুলিশের বেরিকেট ভেঙ্গেই মানুষ ফেরিতে উঠে। অবশ্য সকাল থেকেই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

কেউ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে গিয়েছলেন গ্রামের বাড়ি, আবার কেউ গিয়েছিলেন সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরপরই। ছুটি আর বাড়েনি, কাল থেকে খুলবে অফিস-আদালত। তাই এখন এক প্রকার লড়াই করেই ঢাকায় ফিরছেন সবাই।

এ জন্য বিআইডবিøউটিসি কর্তৃপক্ষ শনিবার সকাল থেকেই এ নৌরুটে ১২টি স্থলে ১৪টি ফেরিতে ছোট গাড়ী ও যাত্রী পার করে তাদের ক্ষতি পূষিয়ে নিচ্ছে। করোনাকালে ফেরিতে শুধু পন্যবাহি ট্রাক ও ছোট প্রাইভেট কার পার হবার কথা থাকলেও শনিবার সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ঘাটের সব ফেরিতেই ছিল শুধু মানুষ ও কিছু ছোট ছোট গাড়ীর সারি।

এদিকে মানুষ অধিকহারে ফেরিতে উঠে পার হবার কারনে জায়গার অভাবে ফেরি কর্তৃপক্ষ ছোট গাড়ীও ফেরিতে তুলতে পারছে না।ফলে দুপুর থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাটের দুই কিলোমিটার জুড়ে ছোট গাড়ীর সিরিয়াল পরে থাকতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডবিøউটিসির) দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. আবু আবদুল্লাহ রনি বলেন, বৃহস্পতিবার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে সাতটি ফেরি চলাচল করলেও শনিবার সকাল থেকে যাত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ থাকার কারণে ১৪টি ফেরি চলাচল করছে।

তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঢাকামুখী দক্ষিনাঞ্চলের যাত্রীদের পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। তাই গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ নানা ধরনের যানবাহনে ঢাকায় যাবার জন্য ধৌলতদিয়া ঘাটে আসে কর্মজীবী মানুষ।

বিআইডবব্লিউটিসি সূত্র জানায়, লঞ্চ বন্ধ থাকায় ফেরিতে নদী পার হতে কেউ কেউ মধ্য রাত থেকেই ফেরি ঘাটে অপেক্ষা করছেন। ক্ষমতার তুলনায় যাত্রী বেশি থাকায় প্রচন্ড ভিড় হচ্ছে ঘাটগুলোতে। অধিকাংশ যাত্রীই সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।

দৌলতদিয়া ঘাটে আইন শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত গোয়ালন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আশিকুর রহমান পিপিএম জানান,শনিবার দিনভর ও আগামী কাল রোববারও ঢাকাগামী মানুষের চাপ থাকবে দৌলতদিয়া ঘাটে। তবে পুলিশ সার্বক্ষনিক দৌলতদিয়া ঘাটের রাস্তায় ও ফেরিতে যাত্রীদের করোনার সংক্রামন ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নদী পার হবার কাজে সার্বি সহয়োগিতা করছে।