কোরবানির পশু অনলাইনেই

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:২৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৮ | আপডেট: ৭:২৯:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৮

সময় এখন ডিজিটাল যুগের। কী পাওয়া যায় না অনলাইনে! প্রতিদিনকার নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে বিশেষায়িত সেবাও এখন পাওয়া যায় ইন্টারনেটের বিশাল এই জগতে। তারই অংশ হিসেবে অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে কোরবানির পশু। বেশ কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে এমনটা চালু হলেও চলতি বছর গ্রাহকদের বিশেষ আকর্ষণ পায় অনলাইন ভিত্তিক কোরবানির পশুর ‘হাট’গুলো।

আসন্ন ঈদ উল আজহা উপলক্ষ্যে বেশকয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হচ্ছে গরু-ছাগলের মতো কোরবানির পশু। পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে পশু জবাই করার নানান সরঞ্জামাদি এবং রান্নার মসলা। অনেকেই আবার যোগান দিচ্ছেন কসাই এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী।

বিক্রয় ডট কম

বাংলাদেশে যে অনলাইনেও গরু বেচাকেনা করা যেতে পারে সেটির প্রথম ধারণা নিয়ে আসে বিক্রয় ডট কম। অনলাইন এই মার্কেটপ্লেসটিতে ২০১৫ সাল থেকে বড় পরিসরে গরু কেনাবেচা শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদ উল আজহায়ও কোরবানির পশু হিসেবে গরু এবং ছাগল কেনা বা বিক্রির ব্যবস্থা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ঢাকা ও ঢাকার আশেপাশের বেশ কয়েকটি ফার্ম সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত আছে বিক্রয় ডট কমে। সেসব সদস্য ফার্মগুলো সরাসরি নিজেরাই পশু বিক্রির বিজ্ঞাপন দিতে পারে এখানে। এছাড়াও ঢাকার দূরবর্তী ফার্ম থেকে গরু কিনে এনে নিজেদের ব্যবস্থাপনায়ও পশু বিক্রি করছে বিক্রয় ডট কম।

প্রতিষ্ঠানটির বিপনন ও বিক্রয় বিভাগের প্রধান ঈশিতা শারমিন বলেন, “হাটে গিয়ে গরু কেনা আমাদের দেশে একধরনের উৎসব। তবুও অনেকেই আছেন যাঁদের দৈনন্দিন কাজের জন্য হাটে যাওয়ার মতো সময় হয় না।

অনেকে হয়তো আবার এমনিতেও যেতে চান না। এছাড়াও প্রবাসে থাকা অনেক বাংলাদেশি আছেন যারা দেশে পরিবারের জন্য গরু কিনতে চান। এদের সকলের জন্য সহজ সমাধান দিচ্ছে বিক্রয় ডট কম”।

“এখানে একজন ক্রেতা পশুর চবি দেখতে পাচ্ছেন। চাইলে পশু বুকিং দেওয়ার পর আমাদের কাছে অথবা ফার্মে গিয়ে পশু দেখেও আসতে পারতেছেন। তাই দিন দিন এই খাতের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গত বছরও আমরা যেখানে প্রায় ৭০টির মতো গরু বিক্রি করি সেখানে আজ (রবিবার) ইতিমধ্যে বিক্রিত পশুর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের গরুর চাহিদা সবথেকে বেশি। আমাদের আরও চাহিদা আছে কিন্তু দিতে পারছি না”-বলেন ঈশিতা শারমিন।

বর্তমানে বিক্রয় ডট কমে ৪৫ হাজার থেকে দুই লক্ষ টাকা মূল্যের গরু পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ছাগল পাওয়া যাচ্ছে।

বেঙ্গল মিট

মিট প্রসেসিং প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল মিট-ও এবারের ঈদ উল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশু বিক্রি করছে। তবে শুধু বিক্রিতে থেমে না থেকে পশু কোরবানি করাসহ মাংস প্রসেসিং এর সুবিধাও দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
আর প্রসেসিং করা মাংস সরাসরি পৌঁছে যাবে গ্রাহকের বাসায়। তবে এই সুবিধা আপাতত পাবেন শুধু রাজধানীবাসী। আর ঢাকাসহ সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে অনলাইনে অর্ডার করা গরু গ্রাহক তার ডেলিভারি পাবেন নিজ বাসাতেই।

গরু অর্ডার করা যাবে এই ঠিকানায়ঃ www.bengalmeat.com/qurbani

পল্লী কোরবানির হাট

ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রির ছোটখাটো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও। সরকারের ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ আওতায় এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো অনলাইনে চালু হয়েছে পশুর হাট। দেশি এবং অবাণিজ্যিকভাবে পালিত পশু পাওয়া যাচ্ছে এখানে। দেশের যেকোন উপজেলা থেকে দেশীয় গরু এবং ছাগল কেনা যাবে এখান থেকে।

এছাড়াও দেশের যে কোন স্থান থেকে অর্ডার দিয়ে পশুর সরবরাহ নেওয়া যাবে গ্রামের বাড়িতেও। এরজন্য অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে পশুর দামের ২৫ শতাংশ। আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত পশু অর্ডার করা যাবে এখানে। মূল্য পরিশোধ করা যাবে আইপে, বিকাশ এবং ইউ-ক্যাশের মাধ্যমে।

এখান থেকে পশু অর্ডারের লিঙ্কঃ www.palliqurbanirhaat.com

সেবায় পাওয়া যাচ্ছে কসাই

সবাই যখন কোরবানিতে পণ্য বিক্রি করছে তখন সেবা বা সার্ভিস দিচ্ছে সেবা বিক্রি করা প্রতিষ্ঠান ‘সেবা এক্স ওয়াই জেড’। পশু কোরবানি করার জন্য অভিজ্ঞ কসাই এবং কোরবানির জায়গা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিচ্ছে সেবা।

তবে আপাতত শুধু রাজধানী ঢাকার মাঝেই সীমাবদ্ধ আছে কসাই ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সরবরাহ করা। কোরবানির পশুর দামের ভিত্তিতে কসাই এর সেবামূল্য নির্ধারণ করবে সেবা। এরজন্য পশুর দামের প্রতি হাজারে ৩০০টাকা সেবা মূল্য হবে কসাই এর।