কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ছাত্রলীগ

প্রকাশিত: ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৪১:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৮

কোরবানিতে সৃষ্ট বর্জ্য অপসারণে মাঠে নেমেছেন কক্সবাজার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে পৌরশহরের বিমানবন্দর সড়কের পাশে পড়ে থাকা বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে এ যাত্রা শুরু করেছেন তারা।

এই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের নেতৃত্বে থাকা কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মইন উদ্দিন আহমেদ জানান, দেশব্যাপী চলছে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর কোরবানির ঈদ উদযাপন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য পশু কোরবানি করা হয়েছে। গ্রামে খোলা জায়গায় পশু জবাই হলেও শহরের সংকীর্ণ এলাকায় পশু জবাই হয়েছে রাস্তার ধারে, পথের ওপর। কক্সবাজার পৌর শহরও এর ব্যতিক্রম নয়। বেশিরভাগ মানুষই জবাই করা পশুর দেহটা উঠানে কিংবা বাসাবাড়ির বারান্দায় নিয়ে মাংস কাটাকাটি ও ভাগ করায় ব্যস্ত। কিন্তু বেশিরভাগ বর্জ্যই তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা হয়নি। ফলে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ছড়াতে শুরু করেছে তীব্র দুর্গন্ধ।

তিনি আরও জানান, পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীরা সিডিউলে উপসড়কগুলোতে কবে আসবেন তার সঠিক সময় নির্ধারণ নেই। তাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দলবদ্ধ হয়ে বর্জ্য অপসারণে মাঠে নেমেছি।

মইন বলেন, পশু জবাই করা স্থানগুলো পরিষ্কার করে সেখানে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দুর্গন্ধ মুক্ত করার চেষ্টা করছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিমানবন্দর সড়ক হিসেবে এটি ভিআইপি এলাকা। ঈদ উপলক্ষে বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা বিমান থেকে নেমে এ সড়ক দিয়েই হোটেল ও গেস্ট হাউসে যাচ্ছেন। বর্জ্যের দুর্গন্ধে পর্যটক এবং স্থানীয়রা নাকে রুমাল দিয়ে চলছে দেখে আমরা সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার দায়িত্ব নিয়েছি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিজ উদ্যোগে বাসাবাড়ি থেকে পাইপ টেনে পানি দিয়ে রাস্তায় জমে থাকা রক্ত পরিষ্কারের কাজ করছেন। পশুর নাড়ি-ভুড়ি-হাড়-বর্জ্য একটা নির্দিষ্ট স্থানে জমা করে পরে বালতি ভরে সেগুলো দূরবর্তী ডাস্টবিনে রেখে আসা হচ্ছে। মেয়রের এলাকায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বর্জ্য অপসারণে নেমেছে খবর পেয়ে অন্যান্য ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরাও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমে পড়েন বলে জানান স্থানীয়রা।

কক্সবাজার পৌর মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, পর্যটন নগরীর বাসিন্দা হিসেবে নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখতে পৌরসভার পাশাপাশি নিজেদেরও যে দায়িত্ব রয়েছে সেটাই তারা প্রমাণ করেছে। কক্সবাজার পৌর ও ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বর্জ্য অপসারণে নেমে যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে তা আগামীতে পরিচ্ছন্ন দেশ গঠনে তাদের অনুপ্রাণিত করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।