‘ক্যাসিনো খালেদ’কে গুলশান থানায় হস্তান্তর

প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ | আপডেট: ৪:০০:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
ছবি: সংগৃহীত

ফকিরাপুলের ইয়াংমেনস ক্লাবের অবৈধ ক্যাসিনো মালিক যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব-৩।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে গুলশান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে গুলশান থানায় এবং মাদক আইনে মতিঝিল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ দিকে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, খালেদ ভূঁইয়া আমাদের হেফাজতে রয়েছেন।

এদিকে যুবলীগ নেতা খালেদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মাদক আইনে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে গুলশানের বাসা থেকে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে আটক করে র‍্যাব। এ সময় তার বাড়ি থেকে তিনটি অস্ত্র, গুলি, ৫৮৫ পিস ইয়াবা, ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫০ টাকা এবং ৬-৭ লাখ টাকা মূল্যের সমমান বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে। অস্ত্রগুলোর একটি লাইসেন্সবিহীন, আর দুটি লাইসেন্সের শর্তভঙ্গ করেছেন তিনি।

এদিকে প্রায় একই সময়ে খালেদ ভূঁইয়া পরিচালিত ফকিরাপুলের ইয়াং মেন্স ক্লাবের ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ক্লাব থেকে ২৪ লাখ ২৯ হাজার নগদ টাকা ও মাদকসহ ১৪২ জনকে আটক করা হয়।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ র্যাবকে জানায়, স্থানীয় নেতা বা সংশ্লিষ্টদের ছত্রছায়ায় ক্যাসিনোটি পরিচালিত হতো। ক্যাসিনোর মতো অবৈধ ব্যবসা চালাতে গিয়ে অর্থ ভাগাভাগির বিষয়েও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে তার দেওয়া তথ্য সঠিক কি না যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের সংশ্লিষ্টরা। আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সার্বিক বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেছেন, আটক খালেদ ভূঁইয়াকে আমরা স্বল্প সময় জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পেয়েছি। তবে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যগুলো সঠিক কি না, নাকি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারো বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে সেগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

বুধবার রাতে রাজধানীর মোট চারটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে মোট ১৮২ জনকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে ৩১ জনকে ১ বছর করে এবং বাকিদের ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।