ক্রিকেটারদের ধর্মঘট: এখনো কোন পক্ষেই নেই মাশরাফি

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: 10:32 PM, October 21, 2019 | আপডেট: 10:32:PM, October 21, 2019

“যখন ক্রিকেট নিয়ে কথা বলবো তখন ক্রিকেটের কথা, এখন ক্রিকেট নিয়ে কথা নয়। এখন এই বিষয়ে কোনো কথা বলবো না।”

ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের ডামাডোলের মাঝে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বিবিসি বাংলাকে এ কথা জানান।

তিনি আরো বলেন, “বিশ্বকাপের পরে আর ক্রিকেট নিয়ে কথা বলছি না আমি, আবার যখন ফিরবো তখন কথা হবে।”

বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ১১ দফা দাবি দাওয়া নিয়ে আসেন মিরপুরের শের এ বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। বিকেলে মিরপুরে শেরে-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন একাডেমি মাঠে এক সংবাদ সম্মেলন করে তারা এগারো দফা দাবি তুলে ধরেন।

ক্রিকেটাররা বলছেন, তাদের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত তারা সব ধরণের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ও অনুশীলনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন।

এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিমসহ অন্তত ত্রিশ জন ক্রিকেটার। এদের অধিকাংশই জাতীয় দলের খেলোয়াড়।

বাংলাদেশে ক্রিকেটারদের ধর্মঘটে যাওয়ার কথা খুব একটা শোনা যায় না। এর আগে ১৯৯৯ সালে একবার ধর্মঘটে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

এমন এক সময়ে এই ধর্মঘটের ডাক দিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা, যখন আগামী মাসেই একটি দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট সিরিজ খেলবার জন্য ভারত যাওয়ার কথা রয়েছে জাতীয় দলের।

সংবাদ সম্মেলনে এক একজন ক্রিকেটার এক একটি দাবির কথা তুলে ধরেন এবং তাদের বক্তব্য জানান।

দাবিগুলো হলো-

১. ক্রিকেটারদের হাতে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ বা কোয়াব-এর নেতৃত্ব নির্বাচনের অধিকার দেয়া।

২. ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে সুনির্দিষ্ট পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়া।

৩. এবারের আসরের পর থেকে পূর্বের নিয়মে বিপিএল আয়োজন এবং দেশীয় ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি।

৪. প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের ম্যাচ ফি ১ লাখে উন্নীত করা এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন ৫০% বৃদ্ধি । ১২ মাস কোচ, ট্রেনিং এর নিশ্চয়তা।

৫. প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে মানসম্মত বল ব্যবহার, দৈনিক ভাতা বাড়ানো, ক্রিকেটারদের যাতায়াতের প্লেন ভাড়া, হোটেলে জিম ও সুইমিংপুল এবং ক্রিকেটারদের বাস উন্নয়ন করার দাবি।

৬. কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ করা এবং একইসাথে চুক্তির আওতায় বেতন বৃদ্ধি করা।

৭. মাঠকর্মী, স্থানীয় কোচ, আম্পায়ার, ফিজিও ও ট্রেইনারদের সম্মানী বৃদ্ধি করা।

৮. প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের মতই ৫০ ওভার ও ২০ ওভারের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজন।

৯. ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য নির্ধারিত সময়সূচি।

১০. প্রিমিয়ার লীগের বকেয়া টাকা সময়মত পরিশোধ করা।

১১. যেকোন ২টি বিদেশী ফ্র‍্যাঞ্চাইজি লীগ খেলার বিধিনিষেধ শিথিল করা।

সূত্র : বিবিসি