ক্রেডিট কার্ডের সুদে লাগাম টানলো বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত: ১২:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ | আপডেট: ১২:১৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

কেনাকাটা কিংবা কোনো বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের জুড়ি নেই। আবার নগদ টাকার বিকল্প হিসাবেও ক্রেডিট কার্ডের সুবিধাও অনেক। তবে সুবিধার চেয়ে অসুবিধার দিক রয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের সুদের কারণে অতিষ্ঠ ব্যবহারকারীরা। ব্যাংকগুলো ইচ্ছামতো সুদ কষে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাও মানে না ব্যাংকগুলো।

দেশে বর্তমানে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৯৭ হাজার। মাসে গড়ে লেনদেন হয় এক হাজার কোটি টাকা। এদের মধ্যে কোনো গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক আদায় করতো ২৭ শতাংশ পর্যন্ত সুদ। অন্যান্য ঋণের চেয়ে সর্বোচ ৫ শতাংশ বেশী সুদ আদায় করার নির্দেশনা দিলেও ব্যাংকগুলো তা মানায় আবারও ক্রেডিট কার্ডের সুদহার ২০শতাংশ নির্ধারণ করে দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ’ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ক্রেডিট কার্ডের উপর সুদ বা মুনাফা হার ২০ শতাংশের অধিক নির্ধারণ করা যাবে না। ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের জন্য নির্ধারিত সর্বশেষ তারিখের অব্যবহৃত পরের দিন হতে ক্রেডিট কার্ডের অপরিশোধিত বিলের উপর সুদ বা মুনাফা আরোপযোগ্য হবে।

এক্ষেত্রে কোনভাবেই লেনদেনের তারিখ হতে সুদ আরোপ করা যাবে না। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫০শতাংশ নগদে উত্তোলনযোগ্য ঋণ সুবিধা ব্যতীত অন্য কোন নামে নগদে উত্তোলনযোগ্য ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে না। বিলম্বে পরিশোধিত কোন বিলের বিপরীতে শুধুমাত্র একবার বিলম্ব ফি (অন্য যে নামেই অভিহিত হোক না কেন) আদায় করা যাবে।

চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকগুলোর ঋণের (ক্রেডিট কার্ড ছাড়া) সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই হিসেবে তিন বছর আগে দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মত ক্রেডিট কার্ডের সুদহার ৫ শতাংশ যোগ করে ১৪ শতাংশ হওয়ার কথা। কিন্তু এখনো দেশের বেশির ভাগ ব্যাংকই ক্রেডিট কার্ডে সুদ নিচ্ছে ২৪ থেকে ২৭ শতাংশ।

দেশী-বিদেশি, সরকারি-বেসরকারি ৩৭টি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড থাকলেও ৮০শতাংশ কার্ড ৫-৬টি ব্যাংকের দখলে। এসবের মধ্যে বেসরকারি খাতের দ্য সিটি ব্যাংকেরই কার্ড সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি। বিদেশি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, বেসরকারি ব্র্যাক, প্রাইম ও ইস্টার্ন ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ক্রেডিট কার্ডের প্রায় ৫০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ডে শীর্ষস্থানীয় সবক’টি ব্যাংকের সুদহারই ২৪ শতাংশের বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ক্রেডিট কার্ডের দেয়া ঋণের বিপরীতে ইচ্ছেমত সুদ আদায় করছিল ব্যাংকগুলো। এছাড়াও বিভিন্ন নামে চার্জ আদায় করা হচ্ছিল। এসব নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে খবর প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট সুদহার বেধে দিয়ে ক্রেডিট কার্ডের নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু নানা অজুহাতে জারি করা নীতিমালার শর্ত লঙ্ঘন করে আসছিল ব্যাংকগুলো। এ পরিপ্রেক্ষিতেই ক্রেডিট কার্ডের সুদহার বেধে নিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন প্রকার নগদে উত্তোলনযোগ্য ঋণ সুবিধা দিচ্ছে উল্লেখ করে বলা হয়, এ ধরনের তৎপরতা ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং এ ধরনের ঋণের ওপর ফ্ল্যাট রেটে অযৌক্তিকভাবে বেশি সুদ আরোপ/আদায় করছে; যা গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে। এছাড়া কোনো কোনো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের পরিশোধ না করা বিলের ওপর লেনদেনের তারিখ থেকেই সুদ আরোপ এবং পরিশোধ না করা বিলের বিপরীতে ‘প্রগ্রেসিভ রেটে’ বিলম্ব ফি আদায় করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সব ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নেমে আসায় ক্রেডিট কার্ডের সুদহার ২০ শতাংশ যৌক্তিক বলেই মনে হয়। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্রেডিট কার্ডে বাংলাদেশের চেয়েও বেশি সুদ আদায় করা হচ্ছে।