‘ক্ষমা চেয়ে’ ফেসবুকে রাব্বানীর স্ট্যাটাস, সমালোচনার ঝড়

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৪২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৪২:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

অর্থ কেলেঙ্কারি, চাঁদাবাজিসহ দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া গোলাম রাব্বানী সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ইমেজ নষ্ট করার জন্য অনুতাপ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান রাব্বানী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস (সাধারণ সম্পাদক) গোলাম রাব্বানীর স্ট্যাটাসটি দি বাংলাদেশ টুডে’র পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘মমতাময়ী নেত্রী, আপনার মনে কষ্ট দিয়েছি, আমি অনুতপ্ত, ক্ষমাপ্রার্থী। প্রিয় অগ্রজ ও অনুজ, আপনাদের প্রত্যাশাপ্রাপ্তির পুরো মেইলবন্ধন ঘটাতে পারিনি বলে আপনাদের কাছেও ক্ষমাপ্রার্থী।

মানুষমাত্রই ভুল হয়। আমিও ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নই। তবে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, স্বেচ্ছায়-স্বজ্ঞানে আবেগ-ভালোবাসার এই প্রাণের সংগঠনের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী ‘গর্হিত কোনো অপরাধ’ করিনি। আনিত অভিযোগের কতটা ষড়যন্ত্রমূলক আর অতিরঞ্জিত, সময় ঠিক বলে দেবে।

প্রাণপ্রিয় আপা, আপনি আদর্শিক পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিবের সুযোগ্য তনয়া, ১৮ কোটি মানুষের আশার বাতিঘর। আপনার দিগন্ত বিস্তৃত স্নেহের আঁচল, এক কোণে যেন ঠাঁই পাই। আপনার ক্ষমা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে বাকিটা জীবন চলতে চাই।’

এরইমধ্যে রাব্বানীর এই স্ট্যাটাস সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইলাল হয়েছে। সোমবার দুপুর নাগাদ স্ট্যাটাসটি ১৬ হাজারের বেশি লাইক, প্রায় ১ হাজার ও ৩ হাজারেরও বেশি কমেন্ট পড়েছে।

রাব্বানীর এই স্ট্যাটাসকে অনেকেই যেমন নেতিবাচকবাচকভাবে দেখছেন, অনেকেই আবার তার ভুল বুঝতে পারার বিষয়টি ইতিবাচক মনে করছেন। সমালোচনা যেমন হচ্ছে, আবার রাব্বানীর প্রতি সহমর্মিতাও প্রকাশ করছে অনেকে।

রাব্বানীর স্ট্যাটাসের নিচে করা কিছু কমেন্ট তুলে ধরা হলো:

রাব্বানীর এই স্ট্যাটাসের নিচে কমেন্টে হোসাইন মোহাম্মদ ইউনূস সিরাজী (Hossain Mohammad Younus Sirazi) নামে একজন নিজেকে বন্ধু দাবি করে লিখেন- ‘বন্ধু, ধৈর্য ধারণ কর। আমরা বন্ধুরা তোকে খুব ভাল জানি তুই কেমন। তুই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিস, যা একদিন উন্মোচিত হবে। সত্য কখনো গোপন থাকেনা। তোর সেই মেধা ও যোগ্যতা আছে সব বাধা অতিক্রম করার। বাকিটা জীবন বঙবন্ধুর আদর্শে পরিচালিত করে দলের জন্য সর্বোচ্চ ডেডিকেশন করবি বলে আশা রাখছি। মাননীয় নেত্রীর হাতকে আরো বেশি শক্তিশালী করে রাখবি। আর আমরা সব সময় তোর পাশে আছি। একদম টেনশন করিছ না। মহান আল্লাহর উপর ভরসা রাখ। আর তোর উপর আমাদের ও সম্মানিত আন্টির দোয়া রয়েছে। যার উপর মায়ের দোয়া রয়েছে, সে কখনো ব্যর্থ হয় না। আশা করছি, ভাল কিছু অপেক্ষা করছে তোর জন্য।’

আশরাফুল আমিন শিহাব (Ashraful Amin Shihab) নামে একজন লিখেছেন- ‘নতুন সভাপতি সাধারণ সম্পাদক স্ট্যাটাস দিয়ে ৪ হাজারের উপর লাইক তুলতে পারিনি সেখানে আপনার স্ট্যাটাসে ১৫ হাজার। ভাই নেতৃত্ব সাবেক হই, ভাই সাবেক হইনা কখনো। আপনি প্রমান করে দিসেন ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করা সম্ভব।। ভাই অতীতের ন্যায় সারাজীবন আপনার পাশে থাকবো। লাগবে না আমার আর কোনো ভাই, প্রয়োজনে রাজনীতিটা ছেড়ে দিব। তাও অন্যদেরকে ভাই বানাতে পারবোনা। ভালোবাসি ভাই একদম আপন ভাইয়ের মত।’

রহমত উল্লাহ খান শাকুর (Rahmot Ullah Khan Shakur) নামে একজন মন্তব্য করেছেন- ‘আমার কি দোষ ছিল কমিটি থেকে নামটা কেটে দিলেন?আমার বাবা মা পর্যন্ত কান্না করছিল সেদিন।কেন এমনটা করলেন,আমরা তো আর শুক্কুরে শুক্কুরে আস্টদিনের রাজনীতিক কর্মী ছিলাম না।তারপরও সব সময় আপনার ভালো কিছু প্রত্যাশা করি।’

রবিন লেনিন নামের একজন লিখেছেন- ‘আপনার কাছে নেত্রীর অনেক প্রত্যাশা ছিলো, খুব আশা করে আপনার হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন নেত্রী, কিন্তু আপনি!? যা-ই হোক মানুষ মাত্রই ভুল, ছোট ছোট ভুল গুলো সংশোধন করেন যত দ্রুত সম্ভব। নেত্রী উদার মনের মানুষ, উনি যেমন সোহাগ করতে জানেন তেমনি শাষন ও করতে জানেন, ভুল গুলো ছাড়াও আপনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ গুলো উঠছে তা যদি সত্যি না হয়ে মিথ্যে হয়, তাহলে আপনি আপনার যোগ্য সম্মান ঠিকই পাবেন, সবকিছু দ্রুত অবসান হোক এটাই কামনা।’

নাজমুন আরা সুলতানা (Nazmun Ara Sultana) নামে একজন মন্তব্য করেছেন- ‘মিথ্যে দিয়ে সত্যকে যেমন বেশিদিন ঢাকা যায়না। তেমনি তোমাকে বেশিদিন দমিয়ে রাখা যাবেনা। ভাইয়া।’

আফজাল হোসেন পিংকু নামে একজন লিখেছেন- ‘ষড়যন্ত্র না হয় হয়েছে বুঝলাম?? কিন্তু ১৪ মাসেও কেন আপনারা একটি কমিটি দিতে পারেননি?? আমাদের মতো হাজারও কর্মীর জীবনকে কেন আপনারা হেলায় উড়িয়ে দিয়েছেন? যেসব রিপোর্ট আপনাদের নামে গিয়েছে সেগুলো মিথ্যে হলে কেন এগুলো নিয়ে কথা বলেননি।আপনাদের নিয়ে অনেক প্রত্যাশা ছিল অনেক স্বপ্ন ছিল সব ভেঙ্গে দিলেন।দায়িত্ব পাওয়ার আগে আপনাকে অন্য চোখে দেখতাম। কিন্তু আপনি কি করলেন ভাই?’

নাঈম হাসান নীল নামে একজন লিখেছেন- যে অন্যায় করেনি সে সর্বদাই সত্যের প্রতি অটুট থাকে, তাহলে লুকিয়ে ও জনসম্মুখে ক্ষমা চাইলেন কেন? আপনিও ভাল থাকেন ওপারে….।’

ইকবাল পারভেজ (Iqbal Parvez) নামে একজনের মন্তব্য- ‘মানুষ কেমন তা ক্ষমতা ও টাকা আসলেই বুঝা যায়। আপনার আসল রূপ বেরিয়ে গেছে তাই নেত্রী সময় থাকতে সঠিক কাজটা করেছেন।’

আর এ এইচ শিমুল (R A H Shimul) নামে একজন লিখেছেন- ‘মনে কি পডে না, কেন মনে পডে না?.অবৈধ ভাবে মাদারীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক কে অব্যাহতি এবং বিবাহীত,৫নং যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক কে টাকা খেয়ে ভারপ্রাপ্ত করেছেন,আমরা মাদারীপুর বাসী হতাশ হয়েছিলাম আপনার খামখেয়ালী ও অসম্মান দেখে।’

জেবন নাহার শিলা (Jabon Naharr Shila) নামে একজন মন্তব্য করেছেন- ‘সত্যের জয় সুনিশ্চিত’।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ওই সময়ই ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে আল নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে লেখক ভট্টাচার্যের নাম ঘোষণা করা হয়।