খাদ্যে ভেজাল: সামাজিক সমস্যা থেকে জাতীয় সমস্যা!

মুজাহিদ হোসেন মুজাহিদ হোসেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০ | আপডেট: ৬:৫০:অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০
ছবি: টিবিটি

মানুষ সামাজিক জীব।মানুষের কল্যাণেই সমাজ,সমাজের কল্যাণেই মানুষ। মানবতা নামক এক গুণ থাকায় মানুষ অন্য প্রাণীদের থেকে আলাদা এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। কিন্তু অর্থ, লোভ লালসা নামক কিছু পাপী শক্তি মানুষকে যে কতো ভয়াবহ করতে পারে তা খাদ্যে ভেজালের পরিমাণ ও ধরণ দেখলেই বুঝা যায়। যে খাদ্য গ্রহন করে মানুষ প্রাণ বাঁচায়,বেঁচে থাকে আর সেই খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ করা যেকোনো জাতির জন্য হুমকিস্বরুপ,নিকৃষ্টতর কাজ।

ভেজাল বলতে সাধারণত খাদ্যে নিম্নমানের,ক্ষতিকর,অকেজো ও অপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মেশানো।খাদ্যে ভেজাল বিষয়টি আজ আর নতুন কিছু নয়।বরং গণমাধ্যমের কল্যাণের সুফলে সকলেই আজ এ সম্পর্কে অবগত।মাছ,মাংস,চাল,লবন,আটা,দুধ,ঘি,মিষ্টি,ঔষধ, শিশু খাদ্য-সর্বত্রই আজ ভেজাল আর ভেজাল।কিন্তু মজার বিষয় হলো এগুলোর গায়ে ‘খাঁটি’ লিখে দেদারছে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

খাদ্যে ভেজালের মূল কারণ হলো অর্থের লালসা।কিন্তু সেটা সৎ পথে না করে খুব সহজেই,অল্প সময়েই অসৎ ভাবে করার প্রবণতা বেশি। কারণ একদিকে যেমন রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব অপরদিকে অর্থনৈতিক দুর্দশা।সমাজে জ্ঞানী, সৎ মানুষের মূল্য আজ তুচ্ছ যার কারনে সততা,বিবেক আজ জাতির কাছে তুচ্ছ।সামান্য লোভেই এরা জাতিকে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে সামান্য চিন্তা করে না।

লোভ বিহীন মানুষ খুঁজে বের করা এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার দরূণ আজ খাদ্যে ভেজাল একটি জাতীয় সমস্যায় রুপ নিয়েছে।দেশের জনগন ও উন্নয়নের ভবিষ্যত আজ হুমকিতে।ভেজালের সর্বনাশা ছোবল আজ প্রকট আকারে ধারণ করেছে।সমগ্র জাতিকে এ ছোবল আজ গ্রাস করতে বসেছে।

আজকের সময়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ভেজাল দেওয়া হচ্ছে।ওজন বাড়ানোর জন্য বালি আবার কেউ বা পানি মেশায়,ভালো শস্যের সাথে আক্রান্ত শষ্য মিশানো,ঘি এ মেশানো হয় পশুচর্বি,পাম তেল মেশানো হয় সয়াবিন তেলে,দুধে মেশানো হয় পানি,গুড়া দুধে ময়দা,সুজি ইত্যাদি,মসলায় সীসা জাতীয় রঞ্জক পদার্থ মেশানো হয় উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য।বিভিন্ন ধরনের ফলের রসে মেশানো হয় কৃত্রিম ও নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থ।

ব্যবসায়ীদের মাঝে নেই কোনো নীতিবোধ।খাদ্যে ভেজাল,ওষুধে ভেজাল,শাক-সবজি তে আকর্ষণীয় রং,ডিমের উপর রং,মাছে ফরমালিন যা খেলে মানুষ অতি দ্রুত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়,হয়ে যায় পঙ্গু।

এছাড়াও বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, হোটেল,ফাস্টফুডে দোকানগুলোতে এর ব্যতিক্রম নেই।

সমাজদ্রোহীরা দিনে দিনে পুষ্ট হয়েছে।ঘৃণ্য ব্যবসায়ীরা পায় না কোনো শাস্তি।দুর্নীতি দমনে ‘টাস্ক-ফোর্স’ গঠন করা হলেও অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয় নি।আইন করেও যেন এর সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।দরকার মানবতারোধের পূর্ণসংজ্ঞায়ন।তাদের বিবেককে জাগাতে হবে।অর্থের মিথ্যে ও অসৎ মোহ থেকে নিজেকে সরাতে হবে।২০০৫ সালে ‘বিশুদ্ধ খাদ্য বিল ২০০৫’ নামে যে আইনটি করা হয়েছিলো তার ব্যবহার নিশ্চিত হরতে হবে।দরকার হলে নতুন আইন প্রনয়ণ করতে হবে।নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে ভেজাল খাদ্য বিক্রেতা ও উৎপাদনকারীর মূলউৎপাটন করতে হবে।বিএসটিআই নামক একটা সংস্থা কিছুটা কাজ করে যা সারাদেশ ব্যাপি ছড়িয়ে দিতে হবে।

লেখক : আতিকুর রহমান আতিক
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।