খাশোগি হত্যার প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বাইডেন-সৌদি বাদশাহ ফোনালাপ

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১ | আপডেট: ১১:৩১:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সৌদি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বৃহস্পতিবার তাদের প্রথম ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হলো যখন সৌদি আরবের ভিন্নমতালম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রতিবেদনে সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে দায়ী করা হতে পারে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। তিনি সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কট্টর সমালোচক ছিলেন। শুরু থেকেই হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে মোহাম্মদ বিন সালমানকে সন্দেহ করা হচ্ছে। অবশ্য যুবরাজ এই হত্যায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে আসছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের তদন্তে তিনি অভিযুক্ত।

অবশ্য সালমান-বাইডেনের ফোনালাপ নিয়ে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে খাসোগির নাম উল্লেখ করা হয়নি। বিবৃতি বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি নারী কর্মী লুজাইন আল-হাথললকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ায় সৌদি সরকারের প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র সর্বজনীন মানবাধিকার এবং আইনের শাসন ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সে বিষয়েও জানিয়েছেন।

এছাড়া এই দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব এবং ইরানপন্থী গ্রুপগুলো সৌদি আরবের জন্য কতটা হুমকির এসব বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং বাদশাহ সালমান যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব সম্পর্ককে আরও স্বচ্ছ করতে কাজ করবেন।

বাইডেনের পূর্বসূরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে সৌদির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক ছিল। তবে বাইডেনের সময় ঠিক তেমনটা থাকছে না। তিনি সৌদি আবরের সম্পর্কে কঠোর অবস্থান নিবেন বলে অনেকেই ধারণা করছেন।

২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক জামাল খাসোগি। তার মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে মোহাম্মদ বিন সালমানকে সন্দেহ করা হয়। যদিও যুবরাজ তার জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খাশুগজিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে যাদের পাঠানো হয়েছিল, তাদের বাড়াবাড়ির কারণেই ভিন্নমতাবলম্বী ওই সাংবাদিকের মৃত্যু হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় সৌদি আরবের একটি আদালত। গত বছর ওই সাজা ২০ বছরের কারাদণ্ডে নামিয়ে আনা হয়।

সূত্র: বিবিসি।