খুনের অভিজ্ঞতার বই লিখেছিলেন খুনি, ধরা পড়লেন ২২ বছর পর

প্রকাশিত: ১:৫৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৮ | আপডেট: ১:৫৫:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৮

এ কাহিনী যেন সিনেমাকেও হার মানায়। চারজনকে খুন করেছিলেন সে ব্যক্তি। তার সেই খুনের সত্যিকার কাহিনীর ভিত্তিতে লিখেছেন একাধিক ক্রাইম থ্রিলার। লেখক হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছিলেন। বেস্টসেলার বই লিখে জিতেছিলেন পুরস্কারও।

তবে অপরাধ করে কখনো পার পাওয়া যায় না, এমনটাই যেন প্রমাণিত হলো সেই ৫৩ বছর বয়সী চীনা লেখকের ক্ষেত্রে। ভয়ঙ্কর সেই খুনির নাম লিউ ইয়ংবিয়ায়ো। তার সহকারী ওয়াং মৌমিং।

ধরা পড়ার পর বিচারে উভয়কেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে চীনের আদালত।

১৯৯৫ সালের ২৯ নভেম্বর পূর্ব চিনের হুজ়ু শহরের গেস্ট হাউসে হামলা চালিয়েছিল লিউরা। লুটপাট শেষে তারা খুন করে সেই গেস্ট হাউসের এক বাসিন্দাকে। তার পর প্রমাণ লোপাট করতে গেস্ট হাউসের মালিক এক বৃদ্ধ দম্পতি ও তাদের কিশোর নাতিকেও খুন করেছিল। এরপর বহুদিন তদন্ত চালিয়েও খুনের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি দেশটির পুলিশ।

তবে সেই খুনিদের একজন গোয়েন্দা কাহিনী লিখতে শুরু করেন। বাস্তবধর্মী সেই সব গল্প-উপন্যাস লিউকেখ্যাতির চুড়োয় পৌঁছেও দিয়েছে।

প্রায় দুই দশক পর প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে গত বছর সে খুনের রহস্যভেদ করার উদ্যোগ নেয় পুলিশ। এজন্য ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সিগারেটের টুকরোর ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতেই খোলে রহস্যের জট। শেষ পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয় খুনিকে।

খুনের প্রায় ২২ বছর পরে, ২০১৭ সালের আগস্টে পুলিশ নানলিংয়ে লিউয়ের বাড়িতে নক করে। এ সময় খুনি লেখক নিজেই দরজা খুলে বলেন, আপনাদের জন্যই এত দিন অপেক্ষা করছিলাম!

বিচারের সময় দোষ স্বীকার করে লিউ বলেন, অত্যন্ত বীভৎসভাবে খুনগুলো করেছিলাম। আমার অন্তত ১০০ বার প্রাণদণ্ড হওয়া উচিত।