বেসরকারি শিক্ষকরাও নিয়মিত বদলির আওতায় আসছেন

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:২৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৫০:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯

বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা প্রসঙ্গে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান এস এম আশফাক হোসেন বলেন, এই নীতিমালা আমরা করার কোন অথরিটি না। এই নীতিমালার অথরিটি হলো মাউশি। আল্টিমেটলি অনুমোদন দিবে মন্ত্রণালয়।

খুব শিঘ্রই বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান এস এম আশফাক হোসেন। গত বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি নীতিমালার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তিনি বলেন, আগে ছিল উপজেলাভিত্তিক সিস্টেম। কিন্তু হাইকোর্টের আদেশে উপজেলা সিস্টেম কনস্টিটিউশনাল ঘোষণা করা হয়েছে। এই সুযোগে বহুলোক, যাদের চাকরি নাই, তারাও অ্যাপ্লাই করেছে, অনেকের হয়েও গেছে। আমার মনে হয় এদের সংখ্যা ৫০ শতাংশ হবে। ৪০ হাজারের মধ্যে ২০ হাজার লোকের যদি নিজের এলাকায় না হয়ে দূরে চাকরি করে তাদের বিষয়টি বিবেচনায় আছে।

এস এম আশফাক হোসেন বলেন, আমি মনি করি, আমাদের মন্ত্রী মহোদয় মনে করেন, কোন শিক্ষক বাড়ির কাছে থাকলে ভালো সেবা দিতে পারবে। তিনি বলেন, সম্ভবত মাউশি বদলি নীতিমালা হাতে নেবে, যাতে করে যারা ডিসমিস হয়েছে, তাদের বাড়ির কাছে আসার সুযোগ দেয়া যায়।

এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান বলেন, আমি সুপারিশ করেছি। আলোচনা করেছি। বুধবার একটা সভা হয়েছে। আমি মনে করি বেশি সময় লাগবে না। খুব শিগরিই বদলি হতে পারবেন বেসরকারি শিক্ষকরা।

উল্লেখ্য বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা তৈরি হচ্ছে বহুদিন ধরেই। যদিও বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে বহু বছর যাবত শুধু আলোচনা চলেছে। বিগত সরকারগুলো এ ব্যাপারে কোন কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।

বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা না করার পক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের যুক্তি হলো, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বেতন-ভাতা কম পান। বাড়ি ভাড়া পান নামকাওয়াস্তে সামান্য কিছু টাকা। এই অবস্থায় নিজ জেলা থেকে অনেক দূরে কাউকে বদলি করলে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাড়ি ভাড়া করে থাকা তার জন্য কষ্টকর হবে।

১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে জারি করা জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালায় বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ ছিল। একইভাবে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের ১২ জুন জারি করা জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালায়ও বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির নীতিমালা কথা বলা হয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি হাই স্কুল এবং কলেজ শিক্ষকদের বদলির নীতিমালা রয়েছে। সরকারি শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা অনুযায়ী কোন শিক্ষক তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকতে পারবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও রাজধানীর একেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১৭-১৮ বছর ধরে আছেন শিক্ষকরা।