খুব সহজে ঘরোয়া পদ্ধতিতে বাড়িয়ে নিন আপনার ই-মিউনিটি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২১ | আপডেট: ৮:০৩:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২১

হাসান শাহরিয়ার পল্লব খুব সহজভাবে বললে ই-মিউনিটি বাড়ানোর ফলে আমরা কিন্তু বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে প্রাথমিক ধাক্কা থেকে বাঁচতে পারি। তাই ই-মিউনিটি বাড়ানো অথ্যাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই।

আমেরিকান বিখ্যাত অন্ট্রোপ্রেনর ডিম ডনের একটি উক্তি আছেঃ তাই এখানে তা বলতে হলো, “Take care of your body it’s the only place you have to live” ই-মিউনিটি System develop করলে ৮০% রোগ সৃষ্টি হওয়ার আগে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। বলা যায় শরীর কে সুস্থ্য রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে শরীরচর্চা অপরিহার্য।

বর্তমান পরিস্থিতি সঠিকভাবে শরীরচর্চা না করতে পারলেও অন্তত ১৫/২০ মিনিট নিয়মিত হাটাহাটি করতে হবে যার কোন বিকল্প নেই। এছাড়া অন্তত: ১৫ মিনিট প্রত্যহ মেডিটেশন/ ধ্যান বা ইয়োগা করতে হবে।

উপরোক্ত বিষয়গুলো পালন করলে অবধারিতভাবে অন্তত: তিনটি ব্যাপার অত্যাবশকীয়ভাবে ঘটবে তা হলঃ-

১.ব্লাড সার্কুলেশন/ রক্ত প্রবাহ বাড়বে যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

২. শরীরে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমন প্রতিরোধে ভ‚মিকা রাখবে।

৩. শরীরচর্চা/হাটাহাটি এর মাধ্যমে হরমন (এক্স কর্টিসল) কমাতে সাহায্য করবে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে থাকবে।

তাই উপরোক্ত বিষয়গুলোর উপর মনোযোগ দিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নিজেদের রোগের বিরুদ্ধে পূর্বেই প্রস্তুত থাকি। মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব দিন কে দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, এবার শীত আসতে না আসতে আবারও দেখা দিয়েছে এ মহামারি।

এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে চলছে, সাথে চলছে মৃত্যুর মিছিল আমাদের দেশের পরিস্থিতি এর বাহিরে নয়।

এ অবস্থায় আমাদের উচিৎ অন্য সময়ের চেয়ে আরও গুরুত্ব দেয়া। প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমরা সাধারণভাবেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা / ই-মিউনিটি বাড়াতে পারি তবে দরকার একটু সচেতনতা একটু দায়িত্বশীলতা যা একান্ত নিজের জন্য- তাই চলুন নিয়ম আলোচনা থেকে দেখা যাক কিভাবে নিজের জন্য দায়িত্ব নিয়ে ই-মিউনিটি বুষ্টআপ করতে পারি।

ঘুম এবং ই-মিউনিটিঃ ঘুম এবং ই-মিউনিটি ঘনিষ্টভাবে জড়িত। তাই প্রতিদিন প্রাপ্ত বয়স্কদের উচিৎ নিরিবিচ্ছিন্নভাবে ৭ ঘন্টা ঘুমানো। এ নিয়মিত ঘুমের জন্য অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার গ্রহন করতে হবে। শাকসব্জি ইত্যাদির মাধ্যমে এন্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহন করতে হবে। নিয়মিত টক দই খেতে হবে অবশ্যই তা দুপুরে, ঘরে পাতা টক দই হলে ভাল হয়। টক দই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম, যা প্রমানিত।

চিনি যত দুর সম্ভব কম খেতে হবেঃ চিনি কম খেতে হবে, চিনি বেশি খেলে টাইপ বি ডায়াবেটিক সহ হার্টের রোগ ও অন্যান্য রোগ বৃদ্ধি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়।
পানি বেশি খেতে হবেঃ শরীরে পানির অভাব হলে মাথাব্যাথা,কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, হার্টের সমস্যা ও কিডনির সমস্যার সৃষ্টি হয়। সাথে সাথে হজমশক্তি কমে যায়। তাই এই কারনে শরীর নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আবার অতিরিক্ত পানিপানেও বিপদ হতে পারে। এ বিষয়ে একটি সূত্র হল, যখন আপনার তৃষœা লাগবে তখন পানি পান করবেন যখন তা মিটে যাবে তখন পানি পান করা থেকে বিরত থাকবেন।

মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে হবেঃ মানসিক চাপ থেকে মুক্তি সুস্থ্য শরীরের চাবিকাঠি। তাই মানসিক চাপ মুক্ত থাকা জরুরী। মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে হালকা ব্যয়াম, যোগ ব্যয়াম, ধ্যান এক্ষেত্রে ফলদায়ক। যোগ ব্যয়াম আমাদের শুধু মানসিক চাপ মুক্ত থাকতেই সাহায্য করেনা, এ ব্যয়াম ই-মিউনিটি বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর ভ‚মিকা রাখে। আবার ধ্যান / মেডিটেশন অত্যন্ত ফলপ্রসূ ই-মিউনিটি বুষ্ট আপ এর জন্য জানা গেছে, ২০ মিনিটের মেডিটেশন ২ ঘন্টা ঘুমের সমান।

ধুমপান ও মদ্যপান পরিহার করাঃ বিশেষ করে ধুমপান, সরাসরি আপনার শাসতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যেহেতু করোনা ভাইরাস শ্বাসতন্ত্রের রোগ, এতে সংক্রমের আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই ধুমপান বাদ বন্ধ করুন।

ওজন নিয়ন্ত্রন করাঃ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার বিকল্প নেই। খাবার পরিমিত খান ও শরীরিকভাবে সচল থাকুন।

হানি মিক্সার লেমন টিঃ ম্যাজিকের মত কাজ করে মধু মিক্সার এবং লেবু চা। তাই দুধ চা না খেয়ে উক্ত চা খেয়ে দেখেন কেমন কাজ করে।

প্রোবায়োটিকসঃ যেমন দই, চিজ ইত্যাদি খাবারে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

ভিটামিনস ও মিনারেলঃ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। ভিটামিন সি : প্রাকৃতিক উৎস হচ্ছে টক জাতীয় ফল, যেমন- লেবু, কমলা, মাল্টা, আমড়া, জাম্বুরা ইত্যাদি। এ ছাড়াও বাজারে ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়, যা ফ্লু উপসর্গে আপনি দিনে ১-২ বার চুষে খেতে পারেন। তবে প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া ভিটামিন সি-এর কার্যকারিতা বেশি।

ভিটামিন ডিঃ এর প্রাকৃতিক উৎস হচ্ছে সূর্যরশ্নি। যা সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শরীরের কিছু অংশ উন্মুক্ত করে যেমন মুখমন্ডল,হাত বা ঘাড় ইত্যাদি) আপনি কাজে লাগাতে পারেন।

এ ছাড়াও ভিটামিন ডি- সমৃদ্ধ খাবার যেমন- ডিমের কুসুম,মাছের তেল,ওমেগা,গরুর কলিজা, চিজ এগুলো খেতে পারেন।
জিঙ্কঃ ফ্লু বা সর্দিকাশি উপসর্গে জিঙ্কের বেশ উপকারিতা রয়েছে। জিঙ্ক- সমৃদ্ধ খাবারগুলো হচ্ছে আদা,রসুন,ডাল,বিন্স,বাদাম সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি। বাজারে লজেন্স আকারে জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন ২-৩ ঘন্টা পর পর।

পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাঃ আমরা যদি করোনা ভাইরাস রোগের সংক্রমন থেকে নিজেদের বাঁচাতে চাই, তাহলে নিজের ও আশপাশের পরিবেশের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরী। নির্দিষ্ট সময় পর পর হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্যবহার্য জিনিসপত্র জীবাণুনাশক পদার্থ দিয়ে পরিস্কার করে নিন। দরজার হাতল,সুইচ, লিফটের বাটন জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার রাখুন ও মাস্ক ব্যবহার করুন।

পরিশেষে বলা যায় উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে প্রত্যেকটি পয়েন্ট এর নিয়মানুবর্তিতাই আমাদেরকে রোগ প্রতিরোধের বিরুদ্ধে একজন লড়াকু হিসাবে পাব। তাই খাদ্যাভাস, ভিটামিন ও মিনারেলস গ্রহন, ভিটামিন ডি, প্রোবায়োটিকস গ্রহন, মানসিক চাপ হতে নিয়মকানুন মেনে চাপ মুক্ত থাকা, পর্যাপ্ত ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রন প্রভৃতি মেনে চলি ও সুস্থ থাকি।

লেখক: হাসান শাহরিয়ার পল্লব, ফার্মাসিষ্ট ও মানবাধিকারকর্মী