খুলনায় নদী-খাল দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু

প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯ | আপডেট: ৫:১১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

তিতাস চক্রবর্তী, খুলনা প্রতিনিধি: ময়ূর নদীসহ খুলনার দখলকৃত ২৬ খাল মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার থেকে খুলনা সেটি করপোরেশন (কেসিসি) ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ অভিযান কার্যক্রম চালাচ্ছে। নগরীর ময়ূর নদী সংলগ্ন বুড়ো মৌলভীর দরগা এলাকা থেকে অভিযান শুরু হয়েছে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কাউন্সিলরসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ সময় কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ময়ূর নদী ও ২৬টি খালে যতদিন অবৈধ স্থাপনা থাকবে ততদিন উচ্ছেদ অভিযান চলবে। এর আগে ময়ূর নদী সংলগ্ন ২৬টি খাল এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে মাইকিং করেছে জেলা প্রশাসন।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, ময়ূর নদী ও ২৬টি খালে যৌথ জরিপ চালায় জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সরকারের ৪টি সংস্থা। এর মধ্যে সেখানে ৪৬০ জন দখলদারের তালিকা তৈরি করা হয়। নদী ও খাল দখল করে তৈরি স্থাপনার সংখ্যা ৩৮২টি। এর মধ্যে ময়ূর নদে ৭৯ জন ব্যক্তি ৬৩টি অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছেন বলে জরিপে উঠে আসে।

মহানগরীসহ আশপাশের খাল ও নদী বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে দুই পাড় দখল করা হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি বাধাগ্রস্ত হয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় সড়ক ও ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে পানি জমে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক। যে কারণে ময়ূর নদী ও ২৬টি খাল দখলমুক্ত করতে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রভাবশালীরা ¯্রােতহীন ময়ূর নদীতে খুব সহজেই পাটা ও বাঁধ দিয়ে প্রতিদিনই দখল কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। গাছপালা লাগানো ও চাষাবাদসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা, এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পাকা বাড়িঘর ভবন নির্মাণ করেছেন অনেকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গোসল ও তৈজসপত্র ধোয়ার কাজে নদীর পানি ব্যবহার করতো। অথচ এখন দখল ও দূষণে নদীর পানি আর ব্যবহারের উপযোগী নেই। ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ময়ূর নদীর সঙ্গে আগে রূপসা নদীর সরাসরি সংযোগ ছিল।

দখলে নদী হারিয়েছে নিজস্বতা। ময়ূর নদীকে নাব্য করতে ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন। তাতে পুরোপুরি দখলমুক্ত হয়নি নগরীর খালগুলো।