খেলার ছলে অঙ্ক-ইংরেজি শেখাতে শেখাতেই হাজার কোটির মালিক তিনি

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০১৯ | আপডেট: ৬:২৬:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০১৯

ছিলেন একজন সাধারণ স্কুল শিক্ষক। বর্তমানে নিজেই জানেন না কত টাকার মালিক তিনি। সেই স্কুল শিক্ষকের নাম বাইজু রবীন্দ্রন। মাস শেষে হাজার দশেক টাকা বেতন পেতেন যিনি, এখন তার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৫.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার! (টাকায় ৪৮ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা)। এ সম্পত্তি তার কাছে এমনি এসে ধরা দেয়নি অবশ্যই।

একটি শিক্ষাবিষয়ক অ্যাপ তৈরি করেছিলেন তিনি, যা গত ৭ বছরে ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৬০০ কোটি আয় করেছে। এই মাসের শুরুতে তাঁর থিংক অ্যান্ড লার্ন প্রাইভেট কোম্পানির ১৫০ মিলিয়ন ডলার আয় হওয়ায় বাইজু রবীন্দ্রন কোটিপতিদের ক্লাবে নাম লেখালেন।

৫.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করা এই প্রতিষ্ঠানের ২১ শতাংশেরও বেশি মালিকানা রয়েছে প্রতিষ্ঠাতা বাইজু রবীন্দ্রনের। ওই প্রতিষ্ঠানটিই বাইজু’স অ্যাপ নামে ওই অ্যাপটি তৈরি করে। জানা গিয়েছে আগামী ২০২০ সালের প্রথম দিকেই ওয়াল্ট ডিজনি কোয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই অ্যাপটিকে আমেরিকাতেও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।

৩৭ বছরের ওই উদ্যোক্তা জানিয়েছেন যেভাবে মাউস হাউসকে বিনোদনের জন্য ব্যবহার করা হয় ঠিক সেভাবেই মাউস হাউসের দেখানো পথেই ভারতীয় শিক্ষার জন্য তিনি কাজ করতে চান তিনি। ডিজনি তাঁর নতুন অ্যাপে দ্য লায়ন কিংসের সিম্বা থেকে ফ্রোজেনের আনাকে যোগ করবে, যারা পড়ুয়াদের অঙ্ক এবং ইংরেজি শেখাবে। ওই চরিত্রগুলিকে অ্যানিমেটেড ভিডিও, গেমস, গল্প এবং ইন্টারেক্টিভ কুইজেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাইজু রবিন্দ্রন বলন, “সবসময়েই শিশুদের ডিজনির সিম্বা বা মোয়ানায় মন পড়ে থাকে।” আর শিশুদের এই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়েই ওই চরিত্রগুলির সাহায্যে তাঁদের পড়াশুনোর প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করাতে চায় শিক্ষাবিষয়ক বাইজুস অ্যাপ।

২০১১ সালে তিনি থিংক এন্ড লার্নিং নামের সংস্থাটি শুরু করেছিলেন, আর ২০১৫ সালে সেটির অ্যাপ চালু করেন বাইজু। তবে এই ব্যবসা শুরুর আগে তিনি অনলাইনে পড়ানোর কাজ করতেন। ব্যবসা শুরুর পর সেটি ৩৫ মিলিয়ন লাভ করে যার মধ্যে প্রায় ২.৪ মিলিয়ন টাকা ওই অ্যাপ ব্যবহারকারীদের বার্ষিক ফি এর মাধ্যমে জোগাড় হয় । ১০০০০ থেকে ১২০০০ টাকা ফি দিতে হয় অ্যাপ ব্যবহারকারীদের, আর এর ফলেই ২০১৯ সালের মার্চ মাসে এটি বিপুল লাভ করে।