গাছের সঙ্গে বিয়ে, গাছের সঙ্গেই বিবাহবার্ষিকী!

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০ | আপডেট: ৫:৫৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

মহা ধুমধামে বিবাহের বছরপূর্তি তো পালন করাই যায়। কিন্তু বরটি যদি হয় একটি গাছ? তবে ভাবুন তো বিষয়টি কেমন হবে? ভেবে পাচ্ছেন নাতো কিছু? বাস্তবে এমনটিই হয়েছে। ইংল্যান্ডের লিভারপুরের বাসিন্দা কেট কানিংহাম।

৩৮ বছর বয়সী কেট কানিংহামের দুটি সন্তান রয়েছে। অনেক দিন আগে ছেলে বন্ধুর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর বিয়ের চিন্তা ছেড়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু গত বছর একপ্রকার হুট করেই তিনি বিয়ে করে বসলেন একটি গাছকে! শুধু তাই নয় সঙ্গীর নামের সঙ্গে মিল রেখে নামের পদবিও বদলে ফেলেছেন। ‘এলডারফ্লাওয়ার’ নামের একটি গাছকে বিয়ের পর তার নামের সঙ্গে যোগ করেছেন এলডার।

মূলতঃ লিভারপুলের সেফটন শহরে রিমরোজ ভ্যালি কান্ট্রি পার্কের গাছ কেটে সেখান দিয়ে রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। কিন্তু সেখানকার বাসিন্দারা চাইছেন না, রাস্তা তৈরির জন্য এই পার্ক ধ্বংস হয়ে যাক। তাই পার্কটি বাঁচাতে তারা নানান ভাবে আন্দোলন করেছেন।

আর সেই আন্দোলনকে এক কদম এগিয়ে পরিবেশ রক্ষায় পার্কের একটি এলডার গাছকে বিয়েই করে নিয়েছেন কেট কানিংহাম। তবে শুধু বিয়ে করাই নয়, নিজের পদবি পরিবর্তন করে কেট ‘এলডার’ও করে নিয়েছেন তিনি।

গত বছর সেপ্টেম্বর উত্তর পশ্চিম ইংল্যান্ডের মাসেইসাইড এলাকার রিমরোজ ভ্যালি কাউন্টির ঐ গাছটিকে বিয়ে করেন কেট। এ বছর বেশ ঘটা করে বিবাহবার্ষিকীও পালন করেছেন। বিবাহবার্ষিকীতে গাছটির সঙ্গে ছবি তোলা ছাড়াও এর ডালে চড়ে সময় কাটিয়েছেন। গাছটির সঙ্গে কোনো দিন বিবাহ বিচ্ছেদের পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন কেট কানিংহাম।

কেট জানিয়েছেন, যদিও তার বছর পনেরোর বড় ছেলে মায়ের এই বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে কিছুটা বিব্রত বোধ করে। তবে কেট নিজের সিদ্ধান্তের জন্য গর্বিত বলে জানিয়েছেন। ছেলেও একদিন এই বিয়ের মাহাত্ম্য বুঝতে পারবে বলে তার আশা।

কেট দিনে পাঁচ বার তার ‘স্বামী’কে দেখতে যান ওই পার্কে। তার আশা, এই ‘বিয়ে’ সবুজ বাঁচানোর আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। এখন গোটা বিশ্ব জুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার সময় হয়েছে বলে দাবি করেছেন কেট। তিনি বলেন, “এই পৃথিবী খুব সুন্দর, একে নষ্ট হতে দেওয়া উচিত নয়।”

যদিও কেটের এটিই প্রথম এমন ঘটনা নয়। এর আগে মেক্সিকোতেও সবুজ বাঁচানোর লড়াইয়ের সৈনিক এক নারীও একটি গাছকে বিয়ে করেছিলেন। এবং তারা বিশ্বব্যাপী পরিবেশ আন্দোলনের লড়াইয়ে অনুপ্রেরণার ছাপ রেখে যাচ্ছেন।