গাজীপুরে যুবলীগ নেতার দখল থেকে কোটি টাকার বনভূমি উদ্ধার

প্রকাশিত: ৫:৩৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১ | আপডেট: ৫:৩৭:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১

গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহŸায়ক কমিটির সদস্য কাইয়ুম সরকারের দখল থেকে কোটি টাকার এক একর বনভূমি উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। উদ্ধারকৃত বনভূমিতে মাছের খামার গড়ে তুলেছিলেন যুবলীগ নেতা। মঙ্গলবার সকালে মাছের খামারে ভেকু দিয়ে মাটি ভরাট করে বন বিভাগ।

ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের গাজীপুর ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজল তালুকদার ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শ্যামল কুমার ঘোষ, ঢাকা বন বিভাগের গাজীপুরের শ্রীপুর সদর বিট কর্মকর্তা সজীব কুমার মজুমদার, ভাওয়াল ও জাতীয় উদ্যান রেঞ্জের কর্মকর্তা এবং স্টাফরা। অভিযানে জয়দেবপুর থানা পুলিশ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করে।

ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, ভবানীপুর বিটে ৪ নম্বর বারুইপাড়া মৌজার সিংড়াতলী এলাকায় সিএস-১৮ নম্বর দাগের ১০০, ১০১, ১১১ ও ১৬০ নম্বর আরএস দাগের বনভূমিতে মাটি খনন করে মাছের খামার নির্মাণ কাজ শুরু করেন কাইয়ুম সরকার ও তার লোকজন। পরে প্রাথমিক পর্যায়ে সীমানা নির্ধারণ ব্যতীত পুকুর খনন কাজে বাধা দেন ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা। এতে কর্ণপাত না করে তারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে খামার নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়।

ভবানীপুর বিটে স্বল্প জনবল এবং বন দখলকারীদের উশৃঙ্খল আচরণের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশ এবং উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান বাস্তবায়িত হয় মঙ্গলবার। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও তিনি জানান।

সহকারী বন সংরক্ষক শ্যামল কুমার ঘোষ জানান, কাইয়ুম সরকার বিগত দিনে বনের জমি দখল করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কাউকে তোয়াকা না করে ছয়টি পুকুর খনন করেন। সম্প্রতি আরও নতুন তিনটি পুকুর খনন কাজ শুরু করেন। অভিযানের পূর্বে সার্ভেয়ার দিয়ে তার দখলে থাকা এক একর বনভ‚মি চিহ্নিত করা হয়। পরে উচ্ছেদের প্রথম পর্যায়ে ৫০ শতাংশ বনভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ রোপণ করা হয়। উদ্ধারকৃত বনভূমির বর্তমান বাজার মূল্য অন্তত এক কোটি টাকা হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা কাইয়ুম সরকারের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা তিনি বলেন, আমার ক্রয়কৃত জমিতে পুকুর খনন কওে মাছ চাষ করেছি। খামারের পাশে সামন্য খালী জায়গা রাস্তার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। তারা াামাকে সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে তা ভরাট করেছে।