গান্ধীমূর্তির নীচে নীরবে ছবি এঁকে মমতার প্রতিবাদ

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২১ | আপডেট: ৮:৩১:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২১
গান্ধী মূর্তির পাদদেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

অনুমতি মেলেনি। তা সত্ত্বেও ধরনায় বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গান্ধী মূর্তির সামনে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রতিবাদ ছিল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। তিনি উসকানিমূলক কথা বলে জনপ্রতিনিধি আইন এবং আদর্শ আচরণবিধি ভেঙেছেন বলে কমিশন ২৪ ঘণ্টার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে।

যে জায়গায় মমতা অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন, তা সেনাবাহিনীর অধীনে। সোমবার সকালে তিনি অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যখন বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ধরনায় বসলেন, তখনও অনুমতি আসেনি। দুপুর গড়িয়ে বিকেলের দিকেও অনুমতি এসে পৌঁছয়নি।

তবে অনুমতির তোয়াক্কা না করে মমতা হুইল চেয়ারে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে বসে পড়েন। তিনি যখন বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তখন সেখানে শ-পাঁচেক মানুষ।

মমতা প্রথমে ফোনে কথা বলেন কিছুক্ষণ। মেসেজ করেন। তারপর বের করেন নতুন কেনা তুলির প্যাকেট ও রঙ। হাতে তুলে নেন ছোট ক্যানভাস। তারপর একমনে ক্যানভাসে রঙের আঁচড় দিতে থাকেন।

এবার ভোটের প্রচারের ফাঁকে সম্ভবত এই প্রথমবার ছবি আঁকতে বসলেন মমতা। এটাও ছিল তার নীরব প্রতিবাদের অংশ। সাড়ে তিন ঘণ্টা এভাবেই প্রতিবাদ দেখালেন মমতা।

বেলা বাড়তে লাগল। মানুষের সংখ্যাও। সুব্রত বক্সি, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ডেরেক ওব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান সহ একের পর এক নেতা আসতে শুরু করলেন। মমতা যেখানে বসে অবস্থান বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন,, সেই বৃত্তের থেকে একটু দূরে বসে তারাও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে হাজার দুয়েক মানুষ জড়ো হয়ে যান। বেলা বাড়তেই আরো মানুষ এলেন।

মমতার প্রচারে নিষেধাজ্ঞা রাত আটটা পর্যন্ত। তারপর তিনি প্রথমে বারাসতে জনসভা করবেন। সেখান থেকে যাবেন রাজারহাটে। এই দুই জনসভায় মমতা এবার কী বলবেন, তার দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বুধবার তিনি যাবেন মাথাভাঙা। শীতলকুচিতে গুলিতে আহতদের হাসপাতালে দেখতে। এরপর ধুপগুড়ি, জলপাইগুড়ি, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি হয়ে আসবেন মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে। তারপর রাতে হরিণঘাটায় তার সভা করার কথা।

ডয়চে ভেলেকে ডেরেক ওব্রায়েন বলেছেন, ”এটা ধরনা নয়, এটা হলো সত্যাগ্রহ। আমি আগেই বলেছি, যখন ওরা আমাদের হারাতে পারছে না, তখন ওরা আমাদের উপর এভাবেই নিষেধাজ্ঞা জারি করবে।” বিজেপি অবশ্য বলছে, এটা নাটক। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ”মুখ্যমন্ত্রী তো কথায় কথায় রাস্তায় বসে পড়েন। উনি সংবিধান, আইন কিছুই মানেন না। ২৪ ঘণ্টা প্রচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয়।”

কিন্তু তৃণমূলের দাবি, অন্য বিষয়ের সঙ্গে এবারের বিষয়টাকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। আর এটা ভুলে গেলে চলবে না, অতীতে বারবার প্রমাণিত হয়েছে, মমতা যখন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেন, তখন তিনি অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। গান্ধী মূর্তির পাদদেশের নীরব প্রতিবাদ তখন অনেক বেশি তাৎপর্য বহন করে। তৃণমূল নেত্রী সুজাতা মন্ডল বলছিলেন, ”বিজেপি নেতারা যা খুশি বলে যেতে পারেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। শাস্তি হয় শুধু তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রীর!”

বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নির্বাচন কমিশন অবশ্য বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে।

দুই দিন প্রচার বন্ধ রাহুল সিনহার

বিজেপি নেতা রাহুল সিনহাকে শাস্তি দিয়েছে কমিশন। তিনি দুই দিন প্রচার করতে পারবেন না। রাহুল বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী চারজনকে মারলো কেন, ওদের তো আটজনকে মারা উচিত ছিল। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীকে শুধুমাত্র সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। শুভেন্দুও সাম্প্রদায়িক উক্তি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচন কমিশন দিলীপ ঘোষকেও নোটিশ দিয়েছে। দিলীপ বলেছিলেন, ”ওরা বাড়াবাড়ি বন্ধ না করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে।”