গার্মেন্টস বন্ধে মালিকদের প্রতি বিজিএমইএর অনুরোধ, শ্রমিকরা পাবেন মার্চের বেতন

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২০ | আপডেট: ১০:৩২:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২০
বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক। ফাইল ছবি

‘সার্বিক পরিস্থিতি’ বিবেচনা করে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার জন্য মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে এক অডিও বার্তায় তিনি এ অনুরোধ জানান। খানিক আগেই তিনি এক বার্তায় বলেছিলেন, কাজের অর্ডার থাকলে পোশাক কারখানা খোলা রাখতে পারবেন মালিকরা। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

সব পোশাক শ্রমিককে মার্চ মাসের বেতন দেয়া হবে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনের সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, সব পোশাক শ্রমিককে মার্চ মাসের বেতন দেয়া হবে। এ নিয়ে কোনো অনীহা, অনাগ্রহের অবকাশ নেই। যত কষ্ট হোক শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন দেয়া হবেই।
বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের নির্দেশনায় বলা আছে, যেসব প্রতিষ্ঠানে অর্ডার আছে এবং যারা পিপিই বানাচ্ছে সেসব কারখানা মালিকরা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কারখানা চালু রাখতে পারবে। এখন সবচেয়ে বড় ও প্রথম দায়িত্ব হল কিভাবে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা দেব।

মালিকদের উদ্দেশে বিজিএমইএ বলেন, শ্রমিক যদি সঙ্গত কারণে কারখানায় উপস্থিত না থাকেন তাহলে মানবিক বিবেচনায় তার চাকরি হারাবেন না, এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রত্যেক সদস্যের (কারখানা মালিক) কাছে অনুরোধ করছি। আমি বিশ্বাস করি, অর্থনীতিতে অবদান রাখা এ খাতের মালিকরা অন্ততপক্ষে শ্রমিকের অনুপস্থিতির কারণে কিছুতেই চাকরিচ্যুত করবেন না।

এদিকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের মহাপরিচালক শিবনাথ রায় যুগান্তরকে বলেন, মালিকরা নিজেদের সিদ্ধান্তেই সরকারি ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রেখেছেন। অধিদফতর থেকে এ বিষয়ে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ১ এপ্রিলের নির্দেশনা সঠিকভাবে কারখানাগুলো পালন করছে কিনা তা সরেজমিন যাচাই করা হবে।

এদিকে ২ মার্চ নিট খাতের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ সমিতির সদস্যদের উদ্দেশে খোলা বা বন্ধ রাখার বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করে।

এতে বলা হয়েছে, ৪ এপ্রিলের পর কারখানা পরিচালনা করবেন কিনা তা একান্তই মালিকদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। যদি কারখানা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তবে অবশ্যই করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে শ্রমিক-কর্মকর্তাদের রক্ষার স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে কারখানা পরিচালনা করতে হবে।

এক্ষেত্রে শ্রমিকের সব দায়-দায়িত্ব মালিকের নিতে হবে। মালিকদের উদ্দেশে নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কারখানা খোলা বা বন্ধ-যে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করুন না কেন, সব শ্রমিকের মার্চের বেতন অবশ্যই সময়মতো দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই মার্চ মাসের বেতন দেয়ার বিষয়ে কোনো রূপ ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। কোনো অবস্থাতেই শ্রমিক অসন্তোষ যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।