গুজবকে মিথ্যা প্রমাণ করে কাজে যোগ দিলেন রিং সাইনের বিদেশি পরিচালক

প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০ | আপডেট: ৫:৪৫:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত শক্তিশালী কোম্পানি রিং সাইন টেক্সটাইল নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজব মিথ্যা হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। সকল গুজবকে মিথ্যা প্রমাণ করে বাংলাদেশে কাজে যোগ দিয়েছেন রিং সাইন টেক্সটাইলের বিদেশি পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সুং ওয়ে মিন। সম্প্রতি গুজব ছড়ানো হয় তিনি আর বাংলাদেশে ফিরবেন না এবং রিং সাইন বন্ধ হয়ে যাবে।

কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি রিং সাইনের এমডি বাংলাদেশে ফিরেছেন। আর গত বৃহস্পতিবার কারখানায় কাজে যোগ দেন।

গত ৯ জানুয়ারি এমডিসহ ৩ পরিচালক – ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সুং ওয়ে মিন এবং পরিচালক ও এমডির বোন সুং ওয়েন লি অ্যাঞ্জেলা এবং পরিচালক ও এমডির মামী হাসিয়ো লিউ ই চাই নিজেদের দেশে যান। এমডির শাশুরী মারা যাওয়ায় তারা সেখানে যান। এরমধ্যেই চায়না নববর্ষ হওয়ার কারণে কিছুদিন বেশি নিজের দেশে অবস্থান করেন তারা। এই সুযোগে একটি কুচক্রী মহল বাজারে গুজব ছড়ায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ নিয়ে নিজ দেশে চলে গেছেন তারা। এ গুজবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোম্পানিটি সর্ম্পকে শঙ্কা তৈরি হয়।

এদিকে আইপিওর টাকা আত্মসাৎ করার সুযোগ নেই এবং কোম্পানিটির ব্যাংক হিসাবেই ওই অর্থ রয়েছে। এছাড়া এমডি কাজেও যোগদান করেছেন। এরমাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করছেন রিং সাইন কর্তৃপক্ষ। তবে এমডি ছাড়া অন্য ২ পরিচালকের কাজে যোগদান করার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কোম্পানির এক শীষ কর্মকর্তা বলেন, এমডি পারিবারিক কাজে নিজ দেশে গিয়েছিলেন। আর গত ২৯ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশে ফিরেছেন। তারা দীর্ঘদিন ব্যবসা চালানোর জন্যই এখানে এসেছেন। এটা ফেলে হুট করে চলে যাওয়ার সুযোগও নেই। কিন্তু এমডির নিজ দেশে ফেরা নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়ায় একটি মহল। শুধু তাই নয় রিং সাইনের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মাহফুজুর রহমান হলেও আরেকজনের নাম ব্যবহার করে মহলটি মিথ্যা তথ্য ছড়ায়। যা খুবই দুঃখজনক।

সাম্প্রতিক সময়ে রিং সাইনের আইপিও ফান্ড আত্মসাৎ নিয়ে শেয়ারবাজারে নানা ধরনের গুজব ছিল। এরমধ্যে কোম্পানিটির বিদেশী পরিচালকেরা আইপিওতে উত্তোলিত ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে ৯০ কোটি টাকা নিয়ে বিদেশ চলে গেছেন অন্যতম। তারা আর দেশে ফিরবেন না। এমন খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রিং সাইন নিয়ে শঙ্কা তৈরী হয়েছে। কোম্পানিটিতে বিনিয়োগ রাখা, না রাখা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় বিনিয়োগকারীরা।

রিং সাইনের ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির আইপিও ফান্ডের জন্য ব্র্যাক ব্যাংকে ৪টি হিসাব রয়েছে। এরমধ্যে আইপিওতে বাংলাদেশীদের আবেদনের জন্য ১টি, বিদেশীদের মধ্যে ডলারের জন্য ১টি, ইউরোর জন্য ১টি এবং পাউন্ডের জন্য ১টি হিসাব।
ব্যাংক হিসাব অনুযায়ী, রিং সাইনের আইপিও ফান্ডের ৪ হিসাবে ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে ৯৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা রয়েছে। এছাড়া ৫০ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ও আইপিওবাবদ ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আর ব্যাংকে আইপিও ফান্ড রাখায় সুদজনিত ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার আয় হয়েছে।

আইপিও হিসাবের ৪টির মধ্যে বাংলাদেশীদের জন্য ১৫০১২০২৭৩৯৪২৬০০৩ নম্বর ব্যাংক হিসাবে ৮২ কোটি ১০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, ১৫০১২০২৭৩৯৪২৬০০৪ নম্বর হিসাবে ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ডলার বা ১৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা, ১৫০১২০২৭৩৯৪২৬০০৫ নম্বর হিসাবে ৬ হাজার ৮৪২ পাউন্ড বা ৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং ১৫০১২০২৭৩৯৪২৬০০৬ নম্বর হিসাবে ২ হাজার ৭০৭ ইউরো বা ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা রয়েছে। অর্থাৎ রিং সাইনের আইপিও ব্যাংক হিসাবগুলোতে বর্তমানে ৯৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা রয়েছে।

রিং শাইন টেক্সটাইল শেয়ারবাজারে ১৫ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। এরমধ্যে প্রসপেক্টাসে উল্লেখ অনুযায়ি, ৫০ কোটি টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। যা দিয়ে ঢাকা ব্যাংকের ২৮ কোটি টাকা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২২ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। আইপিওতে ডিএসইর ফি ১ কোটি ৮০ লাখ টাকাসহ মোট ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বাকি টাকা দিয়ে যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয় করা হবে। যা ক্রয়ে সময়সীমা রয়েছে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।

রিং সাইন কর্তৃপক্ষ একাধিক ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করে। তবে সম্প্রতি একটি ব্যাংক থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাবে থাকা আইপিও ফান্ডগুলো ওই ব্যাংকে স্থানান্তর করতে বলেন। একইসঙ্গে ওই ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হুমকি দেন। কিন্তু রিং সাইনের পর্ষদ অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়। এমন সিদ্ধান্তে ওই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রিং সাইনের বিদেশি পরিচালকদের সরাসরি হুমকি দিয়েছে। এতে অনেকটা ভীত হয়ে পড়েন রিং সাইনের বিদেশি পরিচালকেরা।