গেইটম্যানের বুদ্ধিতে রক্ষা পেল চট্টলা এক্সপ্রেস

প্রকাশিত: ১১:০২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৯ | আপডেট: ১১:০২:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনা ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেসের চারটি বগিতে আগুন লাগার পাশাপাশি সাতটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার মতো দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বড় বিপদের মুখে পড়তে যাচ্ছিল চট্টলা এক্সপ্রেস।

কুমিল্লায় রেলওয়ে লেভেলক্রসিংয়ের গেটম্যান ও ২ তরুণের তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলো চট্টলা এক্সপ্রেস। বেঁচে গেলেন ট্রেনের প্রায় হাজার খানেক যাত্রী।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার সদর উপজেলার কালিজুড়ি এলাকার মুড়াপাড়া রেল সড়কে মাটিবাহী একটি ট্রাক আটকে গেলে গেটম্যান টিপু এবং স্থানীয় দুই তরুণ সুমন (১৬) ও সুজন (১৭) তাৎক্ষণিক প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে শার্ট খুলে লাল পতাকা উঁচিয়ে সিগনাল দিয়ে ট্রেনটিকে থামায়। পরে দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় রেললাইনে আটকে যাওয়া ট্রাকটি সরিয়ে নিলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মেছবাহ উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার রাতে তিনি বলেন, বিকেলে কুমিল্লা পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন রসুলপুর থেকে চট্টলা এক্সপ্রেস ছাড়ার সংবাদ দেওয়া হয় মুড়াপাড়া লেভেল ক্রসিংকে। এ সময় মুড়াপাড়া লেভেল ক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা গেইটম্যান দেখতে পান মাটিবাহি একটি ট্রাক লাইনের উপরে বিকল হয়ে গেছে। নতুন লাইনের কাজ চলার কারণে ওই স্থানটি কিছুটা অসমতল ছিল ও মাটিও নরম ছিল। ফলে রেল লাইন পার হওয়ার সময় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি চালক। এটি লাইনের উপর উঠে বিকল হয়ে যায়।

ট্রাকটিকে বিকল অবস্থায় দেখতে পেয়ে গেইটম্যান মো. টিপু সামনে দৌড়ে আসেন ও লাল পতাকা নাড়তে থাকেন। এ সময় চট্টলা এক্সপ্রেসের লোকো মাস্টার লাল পতাকা দেখে জরুরি ব্রেক করলে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান ট্রেনের যাত্রীরা।

মেছবাহ উদ্দিন আরও বলেন, ঘটনায় রেল ক্রসিংয়ের দুইপাশে আটকা পড়ে ঢাকা অভিমুখী মহানগর গোধূলি এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম অভিমুখী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন। ট্রেন থামার পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রেলের কর্মী ও কুমিল্লা কোতয়ালী থানার পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আটকে পড়া ট্রাকটি উদ্ধার করলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ওই পথে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।