গোপালগঞ্জের একটি বদ্ধখাল উন্মুক্ত হতে চলেছে : নিরসন হবে বনগ্রাম বিলের ৩০ বছরের জলাবদ্ধতা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১ | আপডেট: ৫:১৯:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১

এস এম নজরুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কংশুরের বদ্ধ খালটি দ্রুতই উন্মুক্ত হয়ে কুমার মধুমতি নদীর সাথে সংযোগ হতে চলেছে। এরফলে বনগ্রাম বিলের ৩০ বছরের জলাবদ্ধতা দুর হবে। যর্ষায় নদীর পানি সরাসরি বিলে প্রবেশ করবে এবং শুকনো মৌসুমে বিলের পানি নদীতে নেমে যাবে। লাভবান হবে কৃষক, ফলবে সোনার ফসল, নদীর পানিতে দৈনন্দিন কাজ করার সুযোগ পাবে গ্রাম এলাকার মানুষ। আর এ কারনেই বনগ্রাম বিলের কৃষকদের দাবী কংশুর খালের সকল বাধ কেটে নদীর সাথে সংযোগ সৃস্টি করার ব্যবস্থা নেওয়ার।

জলাবদ্ধতা নিরসনে, কৃষকের কৃষিকাজের সমস্যা দূরীকরনে স্থানীয়দের বার বার মানব-বন্ধন, মৌখিক দাবী, লিখিত আবেদন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দাবীর প্রেক্ষিতে শনিবার (২০.০২.২০২১) সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি সরজেিমন খালটি পরিদর্শন করেন। বদ্ধ খালটি উন্মুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা যাচাই করেন, স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলেন এবং খালটি অবৈধ দখলের বিষয়টি পরিদর্শন করেন।

বনগ্রাম বিলের কৃষক মোঃ লিয়াকত আলী খান, মোঃ সোনামিয়া শেখ, মোঃ খবির শেখ, মোঃ আতিয়ার মৃধা, মোঃ শাহিন শেখ বলেন, আমাদের বনগ্রাম বিলে বিগত ৩০ বছর যাবৎ জলাবদ্ধতা। এই বিলের প্রায় এক হাজার একর জমিতে কোন ফসল হয়না। দেশ স্বাধীনতার পরে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট বেড়ীবাধ ভেঙ্গে কংশুর খালটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও এই বিলে বিভিন্ন দিকে দিয়ে পানি প্রবেশ করে আউশ, আমন ধানের ব্যাপক উৎপাদন হতো। ১৯৮৮ সালের বন্যার পরে রাস্তাঘাটের উন্নয়নের সাথে এই বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় এখন আর কোন ফসল হয়না। এখানে বর্ষায় নদী থেকে পানি প্রবেশ করতে পারেনা, এবং শুকনো মৌসুমে বিলের পানি নদীতে যেতেও পারেনা। কংশুরের বদ্ধ খালটি স্থানীয় লোকজনের দখলে থাকা এবং বাধ দিয়ে খালটি ব্যক্তিগত পুকুরের মতো ব্যবহার করায় বিলের পানি খালেও ঢুকতে পারেনা। কংশুর খালটির সকল বাধ কেটে দিয়ে কুমার মধুমতি নদীর সাথে সংযোগ সৃষ্টি করলে এই বিলে আবার আগের মতো ফসল হবে। গ্রামের মানুষ জোয়ার-ভাটার পানি ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

স্থানীয় করপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ নওয়াব আলী ফকির, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি রুবেল হোসেন, যুবলীগ সভাপতি খায়রুল মোল্লা, ছাত্রলীগ সভাপতি সজিব মোল্লা বলেছেন,কংশুর বদ্ধ খালটি উন্মৃক্ত করে নদীর সাথে সংযোগ সুষ্টি করার জন্য আমরা জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে দীর্ঘ দিন থেকে দাবী জানিয়ে আসছি, একাধিকবার মানব-বন্ধন করেছি। আমাদের মতে দেশ বাঁচাতে হলে কৃষক বাঁচাতে হবে। আর কৃষক বাঁচাতে হলে নদী থেকে বিল এলাকায় পবেশ করা খালগুলি সচল রাখতে হবে। স্থানীয় এসব নেতৃবৃন্দ কংশুর খালটির সকল বাধ কেটে অবৈধ দখলদার মুক্ত করে কুমার মধুমতি নদীর সাথে সংযোগ সৃষ্টি করার দাবী জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সেকেন্দার আলী বলেছেন, সদর উপজেলার বনগ্রাম বিলে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে ব্যাপক ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ জলাবদ্ধতার কারনে এই বিলে এখন আর ফসল উৎপাদন হয়না। এই বিলের সাথে নদীর সংযোগ খাল সমূহ বিশেষ করে কংশুর খালটি নদীর সাথে সংযোগ করা গেলে পুনরায় এই বিলে ফসল উৎপাদন হবে, কৃষক সেচকার্যে ব্যাপক সুবিদা পাবে, স্থানীয় কৃষকের মূখে হাসি ফুটবে এমনটি প্রত্যাশা এই কর্মকর্তার।

এব্যাপারে জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ মনোয়ার হোসেন বলেছেন, এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি সরজমিনে কংশুর বদ্ধ খালটি এবং এর আশপাশ এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখেছি। সেখানে দেখেছি, বনগ্রাম বিলের জলাবদ্ধতা দুর করে ফসল উৎপাদনের জন্য কংশুর খালটির সকল বাধ কেটে উন্মুক্ত করা একান্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে কংশুর খালের সকল বাধ কেটে নদীর সাথে সংযোগ সৃস্টি করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।