গোপালগঞ্জের বলাকৈড় পদ্মবিলকে পর্যটন এলাকার আওতায় আনা হবে: জেলা প্রশাসক গোপালগঞ্জ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ | আপডেট: ৬:৫৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

এস এম নজরুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেছেন, সদর উপজেলার বলাকৈড় পদ্মবিলের পদ্মফুলের সৌন্ধর্য্য শুধু গোপালগঞ্জেই নয়, সারাদেশে এ সৌন্ধর্য্য ছড়িয়ে পড়েছে। দুর-দুরান্তের পর্যটকদের আকর্ষিত করে এখানে আসার জন্য। এখানকার পদ্মবিলের নয়নাভিরাম দৃশ্য চোখ জুড়ায়।

প্রকৃতির এই অপার সৌন্ধর্য্য পর্যটকদের কিছু সময়ের জন্য সবকিছু ভুলিয়ে প্রার্কতিক পরিবেশ উপভোগ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। বলাকৈড় পদ্মবিলকে পর্যটন এলাকার আওতায় আনার জন্য আমরা বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে আবেদন করেছি।

আশা করছি তারা এ পদ্মবিলের সৌন্ধর্য্য ধরে রাখার জন্য যাবতী ব্যবস্থা নেবেন। পদ্মবিলের আসার রাস্তা অত্যন্ত সরু ও জরাজীর্ন। পর্যটকদের গাড়ি প্রবেশ করতে পারেনা এবং পায়ে হেটে যাওয়াটাও অনেকটা মুশকিল। তাই এলজিইডিকে আমরা রাস্তা প্রসস্ত ও পাকা করার জন্য বলেছি।

এলজিইডির প্রকৌশলীগন ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছেন। আশা করছি তারা দ্রুত এ ব্যাপারে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। জেলা প্রশাসক এখানে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনারা প্রাকৃতিক সৌন্ধর্য্য উপভোগ করুন।

ফুলের সুবাষ নিন, কিন্তু দয়া করে ফুল ছিড়বেন না এবং পদ্মবিলে খাবারের কোন খালি প্যাকেট ফেলবেন না। তিনি শুক্রবার বিকেলে বলাকৈড় পদ্মবিলের প্রাকৃতিক সৌন্ধর্য উপভোগ করে বলাকৈড় বাজার থেকে পদ্মবিলের যাওয়ার জরাজীর্ন সরু রাস্তা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী শহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছা. শাম্মী আক্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ ইলিয়াসুর রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুৎফার রহমান বাচ্চু, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাদিকুর রহমান খান, এনডিসি মিন্টু বিশ্বাস, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রনি আলম নুর, মোঃ আল মারুফ, মিলন সাহা, মোঃ রিয়াজুর রহমান, মোঃ আল মামুন, সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সায়াদ উদ্দিন, সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান, স্থানীয় করপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মফুলকে জলজ ফুলের রানী বলা হয়। আর প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেয়া এই পদ্মফুল সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে গোপালগঞ্জের বিলগুলির চিত্র। দূর থেকে মনে হবে যেন কেউ ফুলের বিছানা পেতে রেখেছে। প্রতিদিনই এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছে অসংখ্য দর্শনার্থী। বর্যাকালে কোন কাজ না থাকায় পদ্মফুল তুলে বাজারে বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় অনেক দরিদ্র মানুষ ।

গোপালগঞ্জ জেলার রয়েছে অসংখ্য বিল। তার মধ্যে সদর উপজেলার বলাকইড় বিল অন্যতম। গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে এ বিলের অবস্থান। ১৯৮৮ সালে বন্যার পর থেকে বর্ষাকালে এ বিলের অধিকাংশ জমিতেই প্রাকৃতিকভাবে পদ্মফুল জন্মে থাকে। আর এ কারনে এখন এ বিলটি পদ্মবিল নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে।

বর্ষা মৌসুমে চারিদিকে শুধু পদ্ম আর পদ্ম। বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে গোলাপী ও সাদা রং এর পদ্ম দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। চোখ যত দূর যায় শুধু পদ্ম আর পদ্ম। এমন অপরূপ দৃশ্য যেন ভ্রমণ পিপাষুদের হাতছানি দিচ্ছে। এ বিলের সৌন্দর্য ও পদ্ম দেখার জন্য প্রতিদিনই বন্ধু বান্ধব ও পরিবার পরিজন নিয়ে ভীড় করছেন দর্শনার্থীরা। তারা নৌকায় ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

শুধু সৌন্দর্যই নয় বর্যা মৌসুমে কোন কাজ না থাকায় এ বিলে জন্ম নেওয়া পদ্ম ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন শত শত দরিদ্র পরিবার। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূঁজায় পদ্মফুলের চাহিদা থাকায় ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বিল থেকে পদ্মফুল তুলে বাজারে বিক্রি করছেন তারা।

বিল এলাকায় মূল্য কম থাকলেও শহরে এক একটি ফুল ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। এছাড়া এ বিলের পদ্মফুল ঢাকা, খুলনা, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছে পাইকাররা। কাজ না থাকা স্থানীয়দের আয়েরও একটা পথ হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পদ্ম বিল আর ফুল দেখতে আশা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি ব্যবসায়ীক কারনে ঢাকা থাকি। করোনার কারনে এতদিন ঢাকায় অনেকটা বন্দি অবস্থায় ছিলাম। এখন বর্ষাকাল বলাকইড় বিলে পদ্ম ফুল ফুটেছে তাই বন্ধুদের সাথে এই বিলে এসেছি। খুব ভালো লাগলো এই সৌন্দর্য দেখে।

দলের অন্য সদস্য পবিত্র কুমার বিশ্বাস, খালিদুল আমিন, শিমুল হক, মোহসিন উদ্দিন সিকদার, ইলতুত মিশ, মোহাম্মদ কাজী ফয়সাল, শেখ মাহাবুবুল ইসলাম,নয়ন বিশ্বাস,জিয়াউল কবির বিপ্লব, বাইনুল আলম সবুজ, সঞ্জয় ওঝা,ফিদা হাসান, লেলিনসহ বেশ কয়েক জনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে এ বিলে প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেওয়া পদ্মফুল বিলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে।

এই সৌন্দর্য দেখে আমরা মুগ্ধ। এই পদ্ম এলাকাটি সরকারের রক্ষনাবেক্ষন করা উচিৎ। যাতে করে ভ্রমণ পিপাসুরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার মতো জায়গা খুঁজে পায় এবং নতুন প্রজম্মকে প্রকৃতি প্রেমী করে গড়ে তুলতে পারে।

স্থানীয় করপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান , সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান বেগ বলেছেন, আমাদের এই বিলের সৌন্ধর্য ধরে রাখতে আমরা বদ্ধ পরিকর। এখানে আসা দর্শনার্থীদের জন্য যাত্রী ছাউনী, উন্নত মানের টয়লেট ও যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। তারা বলাকৈড় পদ্মবিলকে পর্যটন কর্পোরেশনের আওতায় আনা ও পদ্মবিলে যাতায়াতের একমাত্র জরাজীর্ন রাস্তাটি পাকা করার জন্য দাবী জানিয়েছে।