গোপালগঞ্জে সংস্কারের অভাবে আঞ্চলিক সড়কের পুরোটাই খানা-খন্দে ভরা

প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২০ | আপডেট: ৪:৪৮:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২০
ছবি: টিবিটি

এস এম নজরুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: বছরের পর বছর সংষ্কারের অভাবে গোপালগঞ্জে ১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে একটি আঞ্চলিক সড়কের পুরোটাই ভেঙ্গে, দেবে, দু’পাশের মাটি কার্পেটিংসহ সরেগিয়ে, খানা-খন্দ হয়ে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

যে কারনে ওই সড়কটি দিয়ে সকল প্রকার যানবাহন চলাচলে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অথচ ওই সড়কের দু’পাশে বিগত বছরগুলিতে প্রায় অর্ধ-শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান, হাঁস-মুরগী ও গরু-ছাগলের, মৎস্য খামার গড়ে উঠেছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত কাচামাল পরিবহন ও উৎপাদিত মালামাল রপ্তানিতে ভারী যানবাহনের চলাচল হয়ে থাকে। এছাড়া ওই সড়কটি ব্যবহার করে গোপালগঞ্জ সদর ও কোটালীপাড়ার মানুষ খুব সহজে ও স্বল্প সময়ে যাতায়াতের সুযোগ পেয়ে থাকে।

গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের গান্ধিয়াশুর থেকে গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের বাজুনিয়া পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ও ১৮ ফুট প্রস্থের এই সড়কটি ব্যবহার করেই গোপালগঞ্জ জেলা সদরে না গিয়েই কাশিয়ানী, কোটালীপাড়া, মুকসুদপুর ও সদর উপজেলার বাসিন্দারা আভ্যান্তরীন যাতায়াত, মালামাল পরিবহন ও জরুরী প্রয়োজনে উন্নত যাতায়াতের সুবিধা পেয়ে থাকে। অথচ বিল এলাকার একবারেই সমতল ভুমিতে প্রায় ১০ বছর আগে এই রাস্তাটি নির্মান করা হলে প্রথম প্রথম জেলাবাসী এই সুযোগ পেলেও পরবর্তীতে সেই যাতায়াত সুবিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এখানকার অর্ধশতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানে মালামাল পরিবহন, ওই এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপন্য পরিবহন, স্কুল-কলেজে যাতায়াত ও রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাতায়াতে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে স্থানীয়রা।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ গোপালগঞ্জ জানায়, বিগত ২০১০ সালে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের গান্ধিয়াশুর বাসষ্টান্ড থেকে টুঠামান্দ্রা, পিঠাবাড়ি, তাড়গ্রাম হয়ে কাজুলিয়া বিলের মধ্যদিয়ে গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের বাজুনিয়া পর্যন্ত একেবারেই সমতল ভুমিতে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যায়ে ১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ও ১৮ ফুট প্রস্থের এই সড়কটির নির্মান কাজ শুরু করে ২০১২ সালে এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে যানবাহন চলালের জন্য খুলে দেওযা হয়। এরপর থেকে ওই সড়কে সংস্কার কাজ খুব বেশী একটা হয়নি। কিন্তু রাস্তাটি ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী না হলেও রাস্তার দু’পাশে গড়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানে অহরহ ভারী যানবাহনের চলাচলের কারনেই রাস্তাটির অনেক ক্ষতি হয়েছে।

গান্ধিয়াশুর-বাজুনিয়া সড়কের জেকে পলিমার ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের মালিক মোঃ কামরুজ্জামান সিকদার, স্থানীয় যুবলীগ নেতা পলাশ মোল্লা, সজল বালা, স্থানীয় বাসিন্দা কবিতা কীর্ত্তনীয়া, লীলাবতি রায়, সঞ্জিত কির্ত্তনীয়া, গৌরাঙ্গ বালা, কাগতী বালা জানায়, আমাদের একটা সময় ছিল আমরা পাকা রাস্তায় হাটতে পারবো এটা ছিল স্বপ্রে মতো। ২০১২ সালে সেই স্বপ্ন সত্যি হলো, আমরা পাকা দিয়ে অল্প সময়ে কম টাকায় সহজে জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে পারছি। কিন্তু কয়েক বছর পেরুতেই এই রাস্তায় যানবাহন চলাচল বেড়ে যায়।

ভারী যানবাহনের সচরাচর চলাচল শুরুহয় এই রাস্তায়। এমনকি বিল এলাকার এই রাস্তায় শুকনো মৌসুমে প্রতিদিন মাছের ঘের তৈরীতে মাটির এস্কেবেটর চলাচল করে থাকে। এসব কারনে আস্তে আস্তে রাস্তার কার্পেটিং ভেঙ্গে, ভারী বর্ষনে দু’পাশের বালু সরে গিয়ে হাজারো গর্ত, খানা-খন্দ হয়ে এবং প্রসস্থ কমে গিয়ে এখন চলাচলের অনেকটাই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রæত এই রাস্তাটি পুর্নাঙ্গ সংস্কার করার জন্য সওজ উর্ধন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহিদ হোসেন বলেছেন, আমি সদ্য গোপালগঞ্জে যোগদান করেছি। এরপরই জেলার গান্ধিয়াশুর-বাজুনিয়া সড়কসহ সবক’টি সড়ক পরিদর্শন করেছি। গান্ধিয়াশুর-বাজুনিয়া সড়কটির দুরাবস্থা দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে সওজ গোপালগঞ্জ জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথেও কথা বলেছি। অতিসত্তর এই রাস্তার ডিপিপি করে মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করা হবে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলেই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।