‘গোসলের দৃশ্যধারণ করে কুপ্রস্তাব’, গৃহবধূর আত্মহত্যা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: 10:06 PM, August 16, 2019 | আপডেট: 10:06:PM, August 16, 2019

গোপনে গোসলের দৃশ্যধারণ করে কুপ্রস্তাব দেওয়ায় চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক গৃহবধূ (২১) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত রবিবার (১১ আগস্ট) শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার শিকার গৃহবধূ চাঁদপুর সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে পড়তেন।

ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হাসান পাটওয়ারী (২২) নামের এক বখাটের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা হয়েছে।

পরিবারের ভাষ্যমতে, ২০১৬ সালে ওই গৃহবধূর বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের কিছুদিন পরই স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে সৌদি আরব চলে যান স্বামী। তখন থেকে ওই গৃহবধূ তার শাশুড়ির সঙ্গে থাকতেন এবং একইসঙ্গে পড়াশোনাও করতেন।

গত রবিবার শ্বাশুড়ি ঈদের কেনাকাটা করার জন্য হাজীগঞ্জ বাজারে যান। এ সময় গৃহবধূ ঘরের পেছনের টিউবওয়েলে গোসল করছিলেন। তখন গৃহবধূর চাচাতো দেবর হাসান গোপনে গোসলের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করেন।গোসল শেষে গৃহবধূ ঘরে ঢুকলে হাসান তাকে ভিডিওর কথা জানান ও কুপ্রস্তাব দেন। এতে ছাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শ্বাশুড়ি ও প্রবাসে থাকা স্বামীকে ঘটনাটি জানিয়ে রাগে-ক্ষোভে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

এ সময় সৌদী প্রবাসী স্বামী ছাত্রীর মোবাইলে কয়েক বার কল করলেও তা রিসিভ না হওয়ায় তার (স্বামীর) চাচিকে ফোন করেন। চাচী তার মেয়ে সুরভীকে ওই ঘরে পাঠালে সুরভী দেখতে পান, ভাবী (গৃহবধূ) ফাঁসিতে ঝুলে রয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় মৃতের শ্বাশুড়ি ওই দিন রাতেই হাসানকে অভিযুক্ত করে শাহরাস্তি থানায় মামলা করলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান।

শাশুড়ি জানান, হাসান দীর্ঘদিন ধরেই তার পুত্রবধূকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। ঈদের আগের দিন বাজার করতে যাওয়ার সুযোগে তার পুত্রবধূর গোসলের দৃশ্য ভিডিও করে তাকে কুপ্রস্তাব দেন।

মৃত গৃহবধূর মামার অভিযোগ করেন, মেয়েটির গোসলের দৃশ্য ধারণ করে হাসান তাকে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছেন। ঘরে একা পেয়ে তাকে ধর্ষণ ও বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করাও হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে মেয়েটির মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটন ও দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

ছাত্রীর বাবাও তার মেয়েকে ‘হত্যার’ বিচার দাবি করে প্রশাসন ও মানবাধিকারকর্মীদের সহায়তা চেয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহরাস্তি থানার উপপরিদর্শক মোজাম্মেল হক বলেন, “হাসানকে গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

পরিবারের হত্যার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক ফাঁস লাগানোর ঘটনা উল্লেখ করেছেন।”

এ বিষয়ে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, “কেউ বলছেন গোসলের দৃশ্য ধারণ করা এবং কুপ্রস্তাব দেওয়ার কারণে জান্নাত আত্মহত্যা করেছেন। আবার কেউ বলছেন গোসলের দৃশ্য বখাটে ছেলেটি দেখেছে। এ ঘটনা নিয়ে নানা ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে। আমরা তদন্ত করছি। তাছাড়া মরদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়া গেলেই অনেক কিছুই পরিষ্কারভাবে বলা যাবে। এর আগে সঠিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।”