গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ একটা হলেই হবে?

প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০২০ | আপডেট: ১:২৭:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০২০

গ্যাস্ট্রিক তথা এসিডিটির রোগ এখন ঘরে ঘরে। আর কোনও ওষুধ থাকুক না থাকুক, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ থাকবেই। ভুক্তভোগীরা হরহামেশাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ এড়িয়ে নিজেরাই বেছে নেন নানা পদের ওষুধ। যার কারণে থেকে যায় স্বাস্থ্যঝুঁকি। আবার সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, গত এক বছরে দেশে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বিক্রি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার। এ থেকেই বোঝা যায় আমরা দিনে দিনে কী পরিমাণ এই জাতীয় ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি।

এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফেরদৌস আহমেদ। তিনি জানান, ‘গ্যাস্ট্রিক তথা সমস্যার জন্য অনেক ধরনের ওষুধ রয়েছে যা রোগের ধরন অনুযায়ী রোগীকে প্রেসক্রাইব করা হয়। এর প্রকারভেদ করতে গেলে ওষুধের মাঝে রয়েছে এইচ টু ব্লকার যেমন রেনিটিডিন, ফ্যমোটিডিন, প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (পিপিআই) যেমন ওমিপ্রাজল, ল্যানসোপ্রাজল, প্যানটোপ্রাজল, ইসোমিপ্রাজল ও রেবিপ্রাজল। এগুলোর মাঝে আমাদের দেশে বেশি সেবন করা হয় ওমিপ্রাজল, ইসোমিপ্রাজল গ্রুপের ওষুধগুলো। রোগীর বয়স, রোগের ধরন এগুলোর ওপর ভিত্তি করে ওষুধগুলো সাজেশন করা হয়। এমনি এমনি কাউকেই কোনও ওষুধ দেওয়া হয় না।’

কার জন্য কোন ওষুধ? এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. ফেরদৌস বলেন, ‘ইসোমিপ্রাজল বুক জ্বালাপোড়ায় অধিক কার্যকর, রেবিপ্রাজল গ্রুপের ওষুধ খাবারের আগে পরে খাওয়া যায়, বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে এটি সাজেশন করা হয়। গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করা প্রয়োজন, তবে আমরা ফার্মেসি থেকে যেভাবে ওষুধ কিনি তা কোনওভাবেই কাম্য নয়। খাদ্যনালীর সমস্যা,পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা এসব থেকেও অনেক সময় বুক ব্যাথা বা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় যে এটি আসলে কীসের সমস্যা।’

ব্যথার ওষুধের সঙ্গে কী গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করতেই হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন পিপিয়াই গ্রুপের ওষুধ (ওমিপ্রাজল, রেবিপ্রাজল) খাবারের আগে সেবন করে ভরা পেটে ব্যাথার ওষুধ সেবন করা উত্তম। না হলে গ্যাস্ট্রিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিক পারফোরেশনের মতো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন রোগী।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।