গ্রেনেড হামলার ১৫ বছর: রায়ে সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির এপিঠ-ওপিঠ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯ | আপডেট: ৭:০৩:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯

ভয়াল ২১ আগস্ট হামলার ১৫ বছর আগামীকাল বুধবার। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট রাজধানীর গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় দলটির সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।

ওই হামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকশ নেতাকর্মী। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা ভাগ্যক্রমে সেদিন বেঁচে যান। তবে তাঁর শ্রুতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

লোমহর্ষক সেই হামলার দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের অক্টোবরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় দেয় নিম্ন আদালত। তবে এক বছর হতে চলা এই রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের পরিবার ও স্বজনরা। হামলায় আহতরা বলছেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান ২১ আগস্ট হামলার মাস্টার মাইন্ড ছিলেন। রায়ে তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলেও অনেকেই তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি তুলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় হামলায় আহত কিংবা পঙ্গুত্ববরণকারীদের অনেকেই নিম্ন আদালতের রায়ের রিরুদ্ধে আপিল করার জন্য আওয়ামী লীগের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত রাশিদা আক্তার রুমা বলেন, ‘এ বছর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৫ বছর হবে। ২০০৪ সালে আমি পুরান ঢাকার তখনকার ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ছিলাম। পুরান ঢাকা থেকে নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সমাবেশে গিয়েছিলাম। সেই দিনের ভয়ানক স্মৃতি আজও আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।’

বহুল আলোচিত এই হামলা মামলার রায় প্রসঙ্গে রাশিদা আক্তার বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ২১ আগস্ট হামলা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট নই। কারণ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ড খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। আমি চাই আপিল করে তারেক রহমানের যাবজ্জীবনের বদলে ফাঁসি রায় দেয়া হোক।’

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি সাইদ রিয়াজ। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি নিজেও গ্রেনেড হামলা শিকার হন সেদিন।

বর্বরোচিত এই হামলার রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সাইদ রিয়াজ বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা একটি ভয়াবহ ঘটনা। এটা ছিলো একটা রাজনৈতিক হামলা। বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার লক্ষ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছিল বলে আমি মনে করি। ১৪ বছর পরে হলেও এই হামলা মামলার রায় হয়েছে। যে রায় হয়েছে তাও নিম্ন আদালতের। বিচার কার্যক্রম একটা চলমান প্রক্রিয়া। এই রায়ের রিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশ গ্রেনেড হামলার দায় তৎকালীন সরকার (বিএনপি-জামায়াত জোট) এড়াতে পারে না। তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে তারা (তৎকালীন সরকার) নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। পরবর্তীতে এই গ্রেনেড হামলার বিচারের নামেও তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা প্রহসন চালিয়েছে।’

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতদের সংগঠন ‘২১ আগস্ট বাংলাদেশে’-এর সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন নাজমুল। তিনিও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত হন। শরীরে স্প্রিন্টার নিয়েই এখন বেঁচে আছেন তিনি। জীবনের বাকিটা সময়ও তার মতো এমন আরও অনেকেরই স্প্রিন্টারের অসহনীয় ব্যথা নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে।

২১ আগস্ট হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্টের মতই ২১ আগস্ট হামলা করে ষড়যন্ত্রকারীরা শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলো। তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল।’

এই গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নাজিম উদ্দীন নাজমুল বলেন, ‘রায়ের মাধ্যমে দৃশ্যমান কিছু লোকের শাস্তি হয়েছে। ১৫ আগস্টের মতো ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে অন্ধকারে রয়েছে গেছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনলেই এই হামলার রহস্য জাতির সামনে উন্মোচিত হবে বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার দাবি জানাচ্ছি।’

-ব্রেকিংনিউজ