ঘুরে আসতে পারেন দেশের একমাত্র ‘পাহাড়ি দ্বীপ’ থেকে

প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯ | আপডেট: ২:০১:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯

কক্সবাজার মানেই যেন বিশেষ কিছু মনের ভেতর উঁকি মারে। আর তা হলো ভ্রমণ। কারণ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও সুন্দর সমূদ্র সৈকতের পাশাপাশি সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ছাড়াও এখানকার প্রাকৃতিক রুপবৈচিত্রের যেন শেষ নেই। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো আরো একটি নাম। দেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপের নাম।

কক্সবাজারে ‘খালী’ দিয়ে নামের যেন জয়জয়কার! খোটাখালী, ফাসিয়াখালী, বাটাখালীর পর এবার বদরখালী। তবে লোকমুখে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে মহেশখালী। এটি দেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ, যা কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে সাগরের মাঝে অবস্থিত। মহেশখালী উপজেলায় সোনাদিয়া, মাতারবাড়ি, ধলঘাটা নামে ৩টি দ্বীপ রয়েছে।

মূলত ছোট এক উপজেলা শহর মহেশখালী। বাজারের উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত দ্বীপের দক্ষিণ দিকটায় বড় বাজার, উপজেলা কমপ্লেক্স, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কলেজ-হাইস্কুল ইত্যাদি। সেখানেই আছে জেটিঘাট, যেখান থেকে কক্সবাজারের ট্রলার বা স্পিডবোটগুলো যাতায়াত করে। মূল মহেশখালী দ্বীপের উত্তর-পশ্চিমে ছোট খাঁড়ি দিয়ে ভাগ করা আরেকটি দ্বীপ, যার উত্তরের কর্মব্যস্ত অঞ্চল মাতাবাড়ি আর দক্ষিণে ধলঘাটা। সাগর সৈকতে ঘুরে বেড়াতে এই ছোট দ্বীপটাই আদর্শ।

সোনাদিয়া দ্বীপটি এখনও মূলত জেলে পল্লী, সাগর থেকে ধরে আনা মাছ শুঁটকি করতে সৈকতে শুকাতে দেয় জেলেরা। মহেশখালী থেকে সোনাদিয়া যাওয়া-আসার নিয়মিত কোনো যাত্রীবাহী নৌযান সার্ভিস নেই। স্পিডবোট ভাড়া করে সেখান থেকে ঘুরে আসতে হবে। দু’ঘণ্টার জন্য স্পিডবোট ভাড়া নেয় ৭-৮শ টাকা। পুরো মহেশখালীতে আছে ছোট ছোট টিলা, যেগুলো মূলত বন বিভাগের তৈরি করা সেগুন-গর্জনের বনভূমি।

সোনাদিয়া দ্বীপ

মহেশখালীর এসব বনভূমি আর সাগর সৈকত ছাড়াও এর অন্যতম দুই প্রধান আকর্ষণ হিন্দুদের আদিনাথ মন্দির ও বৌদ্ধদের প্যাগোডা। ১ নং জেটি ঘাট থেকে মহেশখালী বিখ্যাত মিস্টি পান মুখে দিয়ে অটোরিক্সা রিজার্ভ করে দুপাশে ম্যানগ্রোভ বন রেখে জেটি ধরে প্রথমেই চলে যান বড় বৌদ্ধ কেয়াং বা মন্দির। এর ভেতরে আছে বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ মন্দির। বেশ কয়েকটি পিতলের বৌদ্ধ মূর্তিও আছে এখানে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ধ্যানমগ্ন বুদ্ধ, মাথায় হাতে শায়িত বুদ্ধ এবং দণ্ডায়মান বুদ্ধ ইত্যাদি। মন্দির থেকে নেমে পাশে আরেকটি জেটি ধরে সমুদ্রের কাছে চলে যেতে পারবেন। কেওড়া, গোলপাতাসহ সুন্দরী গাছের মনোরম দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই। ছবি তোলার জন্যে পারফেক্ট জায়গা।

দিকনির্দেশনা

উপজেলা শহর মহেশখালীতে ছোট ছোট কয়েকটি হোটেল আছে। অবশ্য মান নিয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না। এছাড়াও থাকার জন্য আছে সরকারি রেস্টহাউস, স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সেখানে থাকা যায়। চাইলে রাত না কাটিয়েও মহেশখালী ঘুরে আসতে পারেন।

মহেশখালী যেতে চাইলে দেশের যেকোনো জায়গা থেকে কক্সবাজার যেতে হবে। কক্সবাজার কলাতলী সুগন্ধা বা লাবণী পয়েন্ট যেখান থেকেই উঠেন বলবেন ৬ নং জেটি ঘাট যাবো। ৬ নং জেটি ঘাট আসার পর স্পিড বোটে করে মহেশখালী ১ নং জেটি ঘাট। স্পিডবোটে ৭৫ টাকা ভাড়া। এছাড়া নৌকা বা লঞ্চ করেও অল্প সময়েই মহেশখালী পৌঁছানো যায়। প্রতিদিন সকাল বিকেলে কক্সবাজার বাহার ছড়া ঘাট থেকে মহেশখালী যাওয়া যায়। ট্রলার-নৌকায় জনপ্রতি ৩০ টাকায় প্রায় এক ঘণ্টায় মহেশখালী যাওয়া যায়।

ঘাটে নেমে অটোরিকশা রিজার্ভ নিতে পারবেন। দরদাম করে ৫০০ টাকায় পাবেন। সময় বেশি থাকলে সোনাদিয়া দ্বীপেও যেতে পারবেন। সেক্ষেত্রে সি এন জি ভাড়া নেবে ৩৫০-৪০০ টাকা।